Cart
No products in the cart.

সাবান নাকি বডি ওয়াশ – এ নিয়ে আরিফ ও নীলার যুদ্ধ।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
শুক্রবার সকাল। ঢাকার আকাশ ধূসর, জানালার কাচে বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ করে নামছে। মোহাম্মদপুরের ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে তখন নীলা আর আরিফের সংসারে এক অদ্ভুত অশান্তি চলছে, আর তার কারণ আর কিছু নয়, বাথরুমের তাক।
তাকের একদিকে বহু বছরের চেনা সেই সবুজ রঙের সাবান, আরিফের চিরকালের সঙ্গী। অন্যদিকে গত সপ্তাহে নীলার কিনে আনা ঝকঝকে একটা বোতল, লেবেলে লেখা “ময়েশ্চারাইজিং বডি ওয়াশ”। দুটো জিনিসের মাঝখানে যেন অদৃশ্য এক সীমারেখা টানা।
“তুমি এসব রঙিন সাবান-জল কিনে টাকা নষ্ট করছ,” গামছা কাঁধে ফেলে বললেন আরিফ। “সাবান আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে চলছে। শরীর পরিষ্কার হলেই হলো।”
“আর তোমার ওই সাবানে গোসল করে শীতকালে হাত-পা যে খড়খড় করে, সেটা?” নীলা ভুরু তুললেন। “গত শীতে তো লোশন মাখতে মাখতেই আমার তিনটা শিশি শেষ।”
“সেটা শীতের দোষ, সাবানের না।”
“আর বোতলের কী দোষ?”
ঠিক তখনই ঘরের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলেন নীলার নানি, আয়েশা বেগম। বয়স আশির কাছাকাছি, কিন্তু চোখের তেজ এখনও আগের মতোই। পেছনে পেছনে এল নীলার ছোট ভাই সামিন। সে রসায়নে অনার্স পড়ছে, ছুটিতে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছে।
“তোমাদের চিৎকারে তো আমার ফজরের তসবিহ গুলিয়ে গেল,” নানি বললেন। “শোনো, ঝগড়া করে কোনো লাভ নেই। আগে জানো জিনিসটা আসলে কী, তারপর বিচার করো। সামিন, তুমি তো বইপত্র পড়ো। বলো দেখি, সাবান আসলে কী দিয়ে বানানো?”
সামিন একটু হেসে চশমাটা ঠিক করে নিল। বোঝা গেল, এমন একটা সুযোগের অপেক্ষাতেই সে ছিল।
“সাবানের গল্পটা অনেক পুরোনো, নানি,” সামিন শুরু করল। “হাজার হাজার বছর আগে মানুষ আবিষ্কার করেছিল, পশুর চর্বি আর কাঠের ছাই একসঙ্গে ফোটালে অদ্ভুত একটা পিচ্ছিল জিনিস তৈরি হয়, যা দিয়ে ময়লা ধুয়ে ফেলা যায়। ছাইয়ের ক্ষার আর চর্বির তেলের মিলনে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তার নাম সাপনিফিকেশন। আজকের সাবানও মূলত সেই একই পদ্ধতিতে তৈরি হয়। শুধু চর্বির জায়গায় এখন নারকেল, পাম বা অন্য উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার হয়, আর ছাইয়ের জায়গায় কস্টিক সোডা।”
“তাহলে সাবান তো খুব খাঁটি জিনিস,” আরিফ বুক ফুলিয়ে বললেন।
“খাঁটি ঠিকই, দুলাভাই। কিন্তু একটা ব্যাপার আছে।” সামিন আঙুল তুলল। “সাবানের একটা বিশেষ চরিত্র আছে। ওর প্রকৃতি ক্ষারীয়।”
“ক্ষারীয় মানে?” নীলা জানতে চাইলেন।
সামিন ব্যাখ্যা করল, রসায়নে কোনো জিনিস কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয়, তা মাপা হয় পিএইচ স্কেলে। শূন্য থেকে চৌদ্দ পর্যন্ত এই স্কেলের মাঝখানে সাত হলো নিরপেক্ষ, যেমন খাঁটি পানি। সাতের নিচে অম্লীয়, ওপরে ক্ষারীয়।
“আমাদের ত্বকের ওপর একটা পাতলা সুরক্ষা স্তর আছে,” সে বলল। “একে বলে অ্যাসিড ম্যান্টল। ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ থাকে মোটামুটি সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচের কাছাকাছি, অর্থাৎ হালকা অম্লীয়। এই অম্লীয় পরিবেশ ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, আর ক্ষতিকর জীবাণুকে দূরে রাখে। আর বেশিরভাগ সাবানের পিএইচ থাকে নয় থেকে দশের আশপাশে।”
“মানে আমার ত্বকের মেজাজ এক রকম, আর সাবানের মেজাজ আরেক রকম?” আরিফ ভুরু কুঁচকালেন।
“ঠিক তাই। সাবান দিয়ে গোসল করার সময় ত্বকের পিএইচ সাময়িকভাবে ওপরের দিকে সরে যায়। সুস্থ ত্বক সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিজেকে সামলে নেয়। কিন্তু যাদের ত্বক শুষ্ক বা স্পর্শকাতর, তাদের ক্ষেত্রে ওই সময়টুকুতেই টান ধরা, চুলকানি আর খড়খড়ে ভাব দেখা দিতে পারে।”
নানি এবার মাথা নাড়লেন। “তাই বলো! আমার গায়ের চামড়া এখন কাগজের মতো। আগে ভাবতাম বয়সের দোষ। সাবানও কি তাহলে কিছুটা দায়ী?”
“হতে পারে, নানি। বয়স বাড়লে ত্বক এমনিতেই শুষ্ক হয়, তার ওপর ক্ষারীয় সাবান যোগ হলে সমস্যা বাড়তে পারে।”
আরিফ চুপ করে গেলেন। শীতের সেই খড়খড়ে পা-দুটোর কথা তাঁর মনে পড়ল। কিন্তু হার মানার মানুষ তিনি নন।
“ঠিক আছে, বুঝলাম। কিন্তু বডি ওয়াশ জিনিসটা তাহলে কী? ওটা কি সাবানের চেয়ে আলাদা কিছু, না শুধু তরল সাবান?”
“ভালো প্রশ্ন, দুলাভাই।” সামিন হাসল। “আসল পার্থক্যটা এখানেই।”
“বডি ওয়াশ আসলে সাবানের তরল সংস্করণ নয়,” সামিন বলল। “বেশিরভাগ বডি ওয়াশ তৈরি হয় সিন্থেটিক ক্লিনজিং উপাদান দিয়ে, যাকে সারফ্যাক্ট্যান্ট বলে। এরা সাবানের মতোই ময়লা আর তেল ধরে পানিতে ধুয়ে ফেলতে পারে, কিন্তু রাসায়নিক গঠন আলাদা। ফলে প্রস্তুতকারক এদের পিএইচ নিজের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অনেক বডি ওয়াশের পিএইচ থাকে পাঁচ থেকে সাতের মধ্যে, যা ত্বকের স্বাভাবিক পরিবেশের কাছাকাছি।”
“আর ওই যে লেবেলে লেখা ময়েশ্চারাইজিং?” নীলা জিজ্ঞেস করলেন।
“ওটাই বডি ওয়াশের বাড়তি সুবিধা। তরল হওয়ায় এতে গ্লিসারিন, তেল, ভিটামিন ই বা অন্যান্য আর্দ্রতা ধরে রাখার উপাদান মেশানো সহজ। সাবানেও গ্লিসারিন থাকে, কিন্তু অনেক সময় প্রক্রিয়ার ধরনের কারণে তা কিছুটা বাদ পড়ে যায়। বডি ওয়াশে এসব উপাদান আলাদাভাবে জুড়ে দেওয়া হয়।”
নীলা বিজয়ীর ভঙ্গিতে স্বামীর দিকে তাকালেন। আরিফ বললেন, “দাঁড়াও দাঁড়াও, এত তাড়াতাড়ি জিতে যেও না। ঝকঝকে বোতলে ভরা মানেই কি ভালো? বিজ্ঞাপনে তো সবাই সুন্দর কথা বলে।”
“ঠিকই বলেছেন দুলাভাই,” সামিন মাথা নাড়ল। “এই জায়গাতেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গল্পের আরও অনেক দিক বাকি আছে।”
বাইরে বৃষ্টি তখন আরও জোরে নেমেছে। নানি চা বসাতে বললেন, কারণ তিনি বুঝতে পারছিলেন, এই আলোচনা সহজে শেষ হওয়ার নয়।
চা এল, সঙ্গে গরম মুড়ি। সামিন নীলার নোটখাতা টেনে নিয়ে একটা ছক আঁকতে বসল। সাবান নাকি বডি ওয়াশ – বাথরুমের তাকের সেই যুদ্ধ তখন খাবার টেবিলে এসে পৌঁছেছে।
“মূল পার্থক্যগুলো একবার দেখে নাও,” সে বলল।
| বিষয় | বার সাবান | বডি ওয়াশ |
| মূল গঠন | চর্বি বা তেল আর ক্ষারের বিক্রিয়ায় তৈরি | সিনথেটিক ক্লিনজার, পানি ও নানা সহায়ক উপাদান |
| সাধারণ পিএইচ | বেশি ক্ষারীয়, প্রায় ৯ থেকে ১০ | ত্বকের কাছাকাছি, প্রায় ৫ থেকে ৭ |
| আর্দ্রতা ধরে রাখা | সাধারণ সাবানে কম | সহজে বেশি যোগ করা যায় |
| খরচ | সাধারণত কম | সাধারণত বেশি |
| পরিবেশ | কম প্লাস্টিক, কাগজের মোড়ক | প্লাস্টিকের বোতল |
| ব্যবহারের সুবিধা | ভেজা থাকলে গলে যায় | বোতল থেকে সরাসরি, ঝামেলা কম |
“দেখলে তো,” নীলা খুশি হয়ে বললেন, “ছকে তো আমার পক্ষে অনেক কিছু।”
“আর খরচ আর পরিবেশের ঘরে আমার পক্ষে,” আরিফ হেসে ফেললেন। অনেকক্ষণ পর এই প্রথম দুজনে একসঙ্গে হাসলেন।
সামিন কলম নামিয়ে রাখল। “আসলে কেউই পুরো জিতছে না। কারণ ছকের প্রতিটা ঘরের উত্তর নির্ভর করে একটা প্রশ্নের ওপর। আপনার ত্বকটা কেমন?”
সামিন আঙুল গুনে বলতে শুরু করল।
শুষ্ক ত্বক: “যাদের ত্বক সহজে টানটান বা খসখসে হয়ে যায়, যেমন আরিফ ভাইয়ের শীতকালের পা, তাদের জন্য ময়েশ্চারাইজিং বডি ওয়াশ (যেমন Lux Body Wash) সাধারণত বেশি আরামদায়ক। তবে ভালো মানের গ্লিসারিন সাবান বা ময়েশ্চারাইজিং বার, যেমন Dove Beauty Bar, ভালো কাজ করে। আসল কথা হলো, কড়া ও বেশি ফেনাওয়ালা কিছু এড়ানো।”
তৈলাক্ত ত্বক। “যাদের মুখ-পিঠে বেশি তেল জমে, বিশেষ করে গরমে ঘাম আর তেলে একাকার হয়ে যায়, তাদের জন্য জেল ধরনের বডি ওয়াশ বা হালকা পরিষ্কারক সাবান (যেমন Fiama Gel Bar) দুটোই চলে। এখানে সাবানের ক্লিনজিং ক্ষমতা কোনো দোষ নয়, বরং সুবিধা।”
সংবেদনশীল ত্বক: “যাদের সহজেই রাশ, চুলকানি বা জ্বালা হয়, তাদের জন্য সুগন্ধিমুক্ত, কম উপাদানের পণ্য ভালো। বারই হোক বা তরল, লেবেলে ‘ফ্র্যাগরেন্স-ফ্রি’ আর ‘পিএইচ ব্যালান্সড’ খুঁজে নেওয়া উচিত। একজিমা বা অন্য কোনো ত্বকের রোগ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।”
স্বাভাবিক ত্বক: “যাদের ত্বকে তেমন সমস্যা নেই, তাদের জন্য দুটোই ঠিক আছে। এখানে পছন্দ মূলত অভ্যাস, বাজেট আর মনের শান্তির।”
নানি একটু ভেবে বললেন, “আর বাচ্চা আর বুড়োদের?”
“ওদের ত্বক বেশি স্পর্শকাতর, নানি। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি মৃদু পণ্য আর প্রবীণদের জন্য ময়েশ্চারযুক্ত, সুগন্ধিহীন কিছু সাধারণত ভালো। আপনার জন্য আমি একটা পুষ্টিকর Dove Serum Bar-এর মতো মৃদু বার বা ক্রিমি ওয়াশ বেছে দেব।”
আরিফ হঠাৎ বললেন, “কিন্তু আমি তো গরমকালে সাবানেই বেশ আছি। দোষটা শুধু শীতে।”
“ঠিক ধরেছেন,” সামিন আঙুল তুলল। “আমাদের দেশে ঋতু বদলের সঙ্গে ত্বকের চাহিদাও বদলায়। গরমে আর বর্ষায় ঘাম, আর্দ্রতা আর ধুলোয় ত্বক বেশি ময়লা ধরে, তখন কড়া-পরিষ্কার সাবান বা জেল ওয়াশ আরাম দেয়। শীতে বাতাস শুকনো, ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়, তখন একই সাবান হঠাৎ ত্বক টেনে ধরে। এই সময়ে নরম, আর্দ্রতা-বান্ধব কিছু বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।”
“মানে সারা বছর একই জিনিস ব্যবহার করতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই,” নীলা বললেন।
“একদম না। আর গরম পানির কথাটাও বলে রাখি। শীতে খুব গরম পানিতে লম্বা সময় গোসল করলে ত্বক আরও শুকিয়ে যায়। কুসুম গরম পানি আর কম সময়ই ভালো। আর গোসলের পর ভেজা ত্বকে একটু বডি লোশন বা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিলে বড় পার্থক্য হয়।”
কিছু এলাকায় কল বা টিউবওয়েলের পানিতে খনিজ বেশি থাকে। সামিন জানাল, তখন বার সাবান ফেনা কম দেয় আর ত্বকে হালকা আস্তরণ ফেলতে পারে, আর অনেক বডি ওয়াশ এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো কাজ করে। তবে এটা ঢালাও কোনো নিয়ম নয়, ব্র্যান্ড আর পানির ধরন দেখে ঠিক হয়।
নীলা এবার তাঁর সবচেয়ে বড় আপত্তিটা তুললেন। “আমার ভয় তো আসলে এটাই। একটা সাবান এতজন মিলে ব্যবহার করছি, ওতে তো জীবাণু জমে। আমার বোতলে সেই ভয় নেই।”
সামিন মাথা নাড়ল। “এই ভয়টা অনেকের। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহারের পর বার সাবানের গায়ে কিছু জীবাণু থাকতে পারে ঠিকই, কিন্তু সুস্থ মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে সংক্রমণ ঘটানোর ঝুঁকি খুবই কম। কারণ সাবান ব্যবহার করার সময় আবার ধুয়ে যায়, আর ফেনা সেই জীবাণু সরিয়ে দেয়। তবে কারো গায়ে খোলা ক্ষত বা সংক্রমণ থাকলে আলাদা সাবান ব্যবহার করাই ভালো।”
“তাহলে বোতলে পাল্টা সুবিধা নেই?”
“সামান্য সুবিধা আছে, যেমন হাত দিয়ে ছোঁয়ার দরকার পড়ে না। কিন্তু বোতলেরও সমস্যা আছে। আসল জীবাণুর আড্ডা অনেক সময় সাবান-বোতল নয়, গোসলের স্পঞ্জ বা লুফা। ওগুলো ভেজা অবস্থায় বাথরুমে ঝুলে থাকলে জীবাণু আর ছত্রাক জমার সুযোগ পায়। নিয়মিত ধোয়া, ভালো করে শুকানো আর কিছুদিন পরপর বদলানো দরকার।”
নীলা একটু অপ্রস্তুত হলেন, কারণ তাঁর লুফাটা মাসখানেক ধরে একই জায়গায় ঝুলছিল।
“আর ‘অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল’ লেখা সাবান?” আরিফ জানতে চাইলেন।
“সুস্থ মানুষের দৈনন্দিন গোসলে সাধারণ সাবান আর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবানের মধ্যে বড় কোনো সুবিধার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু লেবেল দেখে কেনার দরকার নেই।”
সাবান নাকি বডি ওয়াশ – এ যুদ্ধ এবার হিসাবের খাতায়। আরিফ এবার মুড়ির বাটি সরিয়ে হিসাবের খাতা চাইলেন। “আমার তো মনে হয়, একটা সাবান দিয়ে মাসখানেক চলে যায়। তোমার বোতল কদ্দিন চলে?”
নীলা মেনে নিলেন, তাঁর বোতল প্রায় তিন সপ্তাহে শেষ। অনেকে বোতল থেকে অনেকটা বেশি ঢেলে ফেলেন, ফলে বডি ওয়াশ দ্রুত ফুরোয়। সামিন বলল, একটা ছোট কয়েনের সমান পরিমাণই সাধারণত যথেষ্ট।
“সাধারণভাবে একবারের ব্যবহারে বার সাবানের খরচ কম পড়ে। তবে দামি ময়েশ্চারাইজিং সাবান আর সস্তা বডি ওয়াশের ব্যবধান কমে আসে। সুতরাং ঢালাওভাবে বলা যায় না, নিজের হিসাব করে নেওয়াই ভালো।”
পরিবেশের দিক থেকেও বার সাবান সাধারণত এগিয়ে, কারণ প্লাস্টিকের বোতলের বর্জ্য কম হয়। তবে নানি যোগ করলেন, “আমরা বোতল ফেলে দিই না, ধুয়ে অন্য কাজে লাগাই।” সবাই হেসে উঠলেন। সত্যিই, পুনর্ব্যবহার বা রিফিল প্যাক কিনলে বডি ওয়াশের প্লাস্টিকের ভারও কমানো যায়।
সামিন নীলার বোতলটা হাতে নিয়ে পেছনের লেখাটা পড়ল।
“প্রথমে দেখো সুগন্ধি আছে কি না, আর থাকলে কতটা তীব্র। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটা সবচেয়ে বড় কারণ। তারপর দেখো ‘পিএইচ ব্যালান্সড’ বা ‘মৃদু’ লেখা আছে কি না। গ্লিসারিন, শিয়া বাটার বা অন্য আর্দ্রতা ধরে রাখার উপাদান থাকলে শুষ্ক ত্বকে সুবিধা হয়। আর নতুন কিছু ধরলে হাতের ভেতরের দিকে একটু লাগিয়ে এক-দুদিন দেখে নেওয়া ভালো, জ্বালা হচ্ছে কি না।”
“আর ফেনা?” আরিফ জিজ্ঞেস করলেন। “ফেনা না হলে মনে হয় কাজই হচ্ছে না।”
“এটা বড় ভুল ধারণা, দুলাভাই। বেশি ফেনা মানে বেশি পরিষ্কার নয়। অনেক সময় বেশি ফেনা আসে কিছু উপাদান থাকার কারণে, যা ত্বকের জন্য কড়া হতে পারে। কম ফেনার মৃদু পণ্যও দারুণ পরিষ্কার করে।”
সামিন এবার আসল কথাটা বলল, যেটা এতক্ষণ সে হাতে রেখেছিল।
“এই বিতর্কটা আসলে ‘সাবান নাকি বডি ওয়াশ’ নয়। বাজারে এখন মাঝামাঝি জিনিসও আছে। অনেক কোম্পানি বার আকারেই মৃদু, পিএইচ-সচেতন ও ময়েশ্চারাইজিং ক্লিনজিং বার বানায়, যেগুলো সাধারণ সাবানের চেয়ে ত্বকের প্রতি নরম। আবার অনেক সাবানে গ্লিসারিন বেশি থাকে। এসব তোমাদের দুজনের মাঝখানে একটা সেতু হতে পারে।”
আরিফ আর নীলা একে অপরের দিকে তাকালেন। বাইরে বৃষ্টি ধরে এসেছে, জানালা দিয়ে একটুকরো রোদ ঢুকছে।
শেষ পর্যন্ত যা ঠিক হলো, তা এ রকম। আরিফ গরমকালে তাঁর চেনা সাবানই রাখবেন, তবে শীত এলে একটা নরম, ময়েশ্চারাইজিং বার বা বডি ওয়াশে সরে যাবেন, আর গোসলের পর খড়খড়ে পায়ে Vaseline Intensive Care Body Lotion মেখে নেবেন। নীলা তাঁর বডি ওয়াশ চালিয়ে যাবেন, তবে লুফাটা বদলে ফেলবেন আর বোতল থেকে কম করে ঢালবেন। নানির জন্য সামিন একটা মৃদু, সুগন্ধিহীন বার এনে দেবে। আর তাকের মাঝখানের সেই অদৃশ্য সীমারেখা? সেটা মুছে গেল, কারণ দুজনেই বুঝলেন, এখানে হারজিতের কিছু নেই।
আপনার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করুন:
যদি গোসলের পর ত্বক টান ধরে বা চুলকায়, তাহলে বুঝবেন পণ্যটি আপনার জন্য একটু কড়া। তখন সাবান বা বডি ওয়াশ যেটাই হোক, নরম কিছুতে বদলে দেখুন। আর যদি ত্বক আরাম পায়, তাহলে সেটাই আপনার ঠিক পছন্দ।
নিজের ত্বকের জন্য সাবান, বডি ওয়াশ বা বডি লোশন বেছে নিতে চাইলে Cosec Mart-এর বডি কেয়ার সংগ্রহ ঘুরে দেখতে পারেন।

আমি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ অধ্যায়নরত। হৈচৈ বাংলা ওয়েবসাইটে মাঝে মধ্যে শখের বশে লিখি; যদিও টেকনোলোজি আমার পড়াশুনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তবু যে কোন বিষয়েই লিখতে ভাল লাগে।
