Cart
No products in the cart.

শীতে বডি লোশন নাকি বডি ময়েশ্চারাইজার, এই প্রশ্নে প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনেকেই আটকে যান। দোকানের তাকে দুটোই পাশাপাশি সাজানো, দামও কাছাকাছি, আর প্যাকেটের গায়ে দুটোই ত্বক নরম রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। অথচ শীতের শুষ্ক বাতাসে কোনটা আপনার ত্বকের বেশি কাজে আসবে, তা বুঝতে হলে আগে দুটোর ফারাক জানা দরকার। এই লেখায় এক দম্পতির প্রথম শীতের গল্প ধরে আমরা সেই ফারাকটাই সহজ করে বুঝে নেব।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
ময়মনসিংহে নতুন সংসার পাতার পর নুসরাত আর আরিফের প্রথম শীত। ঢাকার ফ্ল্যাটে সারাবছর যে ত্বক দিব্যি চলছিল, নভেম্বরের মাঝামাঝি এক সকালে সেই ত্বক হঠাৎ বেঁকে বসল। ঘুম থেকে উঠে আরিফ দেখল, পায়ের গোড়ালিতে সরু সরু ফাটল ধরেছে, কনুইয়ে ছাইরঙা খসখসে ছোপ, আর পায়ের গোছ জুড়ে সাদা সাদা আঁচড়ের মতো দাগ। অন্যদিকে, নুসরাতের হাতের পিঠ টান টান, রাতে ঘুমানোর পর পর পায়ের পাতা চুলকাতে থাকে।
“আমার তো কোনোদিন এমন হয়নি,” আরিফ গোড়ালির দিকে তাকিয়ে বলল।
“আমারও না,” নুসরাত নিজের হাত উল্টেপাল্টে দেখল। “এই জেলার শীতই বোধহয় অন্যরকম।”
আসলে শীতের বাতাস থেকে আর্দ্রতা কমে যায়। শুকনো বাতাস ত্বকের ওপরের স্তর থেকে পানি টেনে নেয়, আর কুসুম গরম পানিতে দীর্ঘ গোসল সেই ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের আবরণ আরও ধুয়ে ফেলে। ফল যা হওয়ার, তাই হয়। কিন্তু তখন এসব তারা জানত না। তারা শুধু জানত, কিছু একটা মাখতে হবে।
সেদিন বিকেলেই দুজন আলাদা আলাদা দোকানে গেল, কারণ দুজনের দুই রকম পছন্দ। আরিফ বেছে নিল একটা হালকা সুগন্ধি বডি লোশন। মাখতে আরাম, ত্বকে মিশে যায় এক মিনিটেই, জামায় লাগার ভয় নেই। নুসরাত কিনল পুরু, ঘন একটা বডি ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, যার কৌটা খুলতেই মাখনের মতো নরম একটা গন্ধ।
তিন দিন পর দুজনের অভিযোগ উল্টো দিকে ঘুরল।
“তোমারটা তো মাখার সময়ই ভালো লাগে,” নুসরাত বলল। “দুপুর হলে আবার তো তোমার গোড়ালি ফেটে যাচ্ছে!”
“আর তোমারটা এত চটচটে যে সোয়েটার পরলে গা ঘিনঘিন করে,” আরিফ উত্তর দিল। “কাজই বা কী, তুমি তো এখনো রাতে চুলকাও।”
দুজনেই ভাবছিল, বোধহয় অন্যজনের জিনিসটাই ভুল। কেউ ভাবেনি, সমস্যাটা হয়তো ত্বক আর প্রোডাক্টের মেলবন্ধনে।
পাশের বাড়ির জামান চাচা অবসর নেওয়ার আগে চল্লিশ বছর ফার্মেসি চালিয়েছেন। রোববার সকালে দুজনে দুটো কৌটা হাতে তাঁর বারান্দায় গিয়ে হাজির। চাচা চশমা নাকে নামিয়ে দুটো কৌটার লেবেল খুঁটিয়ে পড়লেন। তারপর মুচকি হেসে বললেন, “তোমরা দুজন একই লড়াইয়ে নেমেছ, কিন্তু হাতিয়ার আলাদা। আর কোনটা কার হাতে মানাবে, সেটা বুঝলেই ঝগড়া মিটে যাবে।”
“মানে?” দুজনে একসঙ্গে জিজ্ঞেস করল।
“আগে বলো, লোশন আর ময়েশ্চারাইজারের পার্থক্য জানো?”
আরিফ আমতা আমতা করে বলল, “লোশন পাতলা, ময়েশ্চারাইজার ঘন?”
“অর্ধেক ঠিক,” চাচা বললেন। “চলো, গোড়া থেকে শুরু করি।”
চাচা আঙুলে একটু লোশন নিয়ে নুসরাতের হাতের পিঠে ছড়িয়ে দেখালেন। “দেখো, কেমন সহজে ছড়াল। বডি লোশন সাধারণত পানি-ভিত্তিক হয়। এতে পানির ভাগ বেশি, তেল বা চর্বিজাতীয় উপাদান তুলনায় কম। এজন্যই এটা পাতলা, দ্রুত ত্বকে মিশে যায়, আর জামাকাপড়ে লেগে থাকে না।”
লোশনের সুবিধাগুলো তিনি এক এক করে বললেন:
হালকা লোশন খুঁজলে Vaseline Intensive Care Body Lotion বা Nivea Body Lotion দেখতে পারেন। দুটোই বিভিন্ন ভেরিয়েন্টে পাওয়া যায়, তাই নিজের পছন্দ ও ত্বক অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন।
“তবে একটা সীমাবদ্ধতাও আছে,” চাচা বললেন। “যেহেতু পানির ভাগ বেশি, তাই খুব শুষ্ক ও ফাটা ত্বকে এটা অনেক সময় যথেষ্ট আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না। আরিফের গোড়ালিতে ঠিক সেটাই ঘটেছে।”
এবার চাচা এমন একটা কথা বললেন, যা শুনে দুজনেই চুপ করে গেল। “আসলে ময়েশ্চারাইজার কোনো একটা নির্দিষ্ট জিনিসের নাম নয়। ত্বকে আর্দ্রতা জোগায় এমন যেকোনো প্রসাধনীকে ময়েশ্চারাইজার বলা যায়। লোশনও একধরনের ময়েশ্চারাইজার।”
“তাহলে বাজারে যে আলাদা করে লেখা থাকে ‘বডি ময়েশ্চারাইজার’?” নুসরাত জানতে চাইল।
“ওটা সাধারণত ক্রিম-জাতীয় ঘন প্রোডাক্টকে বোঝায়,” চাচা বললেন। “নামটা ভোক্তার কাছে সহজ, তাই কোম্পানিগুলো ওভাবেই লেখে। প্রশ্নটা তাই ‘লোশন না ময়েশ্চারাইজার’ নয়, বরং ‘হালকা ফর্মুলা না ঘন ফর্মুলা’। প্যাকেটের নামের চেয়ে ভেতরের টেক্সচার আর উপাদান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
আরিফের হাতের পিঠে একটু ক্রিম লাগিয়ে চাচা দেখালেন, লোশনের চেয়ে এটা কতটা ঘন আর সহজে সরে না যায়। ক্রিমে সাধারণত তেল আর মোমজাতীয় উপাদানের ভাগ বেশি থাকে, তাই এটা ত্বকের ওপর একটা সুরক্ষা-স্তর তৈরি করে, যা পানিকে ভেতরে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
শীতে যেখানে ত্বক দ্রুত পানি হারায়, সেখানে এই কাজটাই আসল।
চাচা তাকের ওপর তিন রকম কৌটা পাশাপাশি রাখলেন। একটা পাতলা লোশন, একটা মাঝারি ঘনত্বের বডি ক্রিম, আর একটা পুরু বডি বাটার।
“মানে ধরো, এটা একটা সিঁড়ি,” চাচা বললেন। “ওপরে পাতলা লোশন, নিচে ঘন মলম। শীত যত বাড়ে, ত্বক যত শুকায়, তুমি তত নিচের ধাপে নামো।”
তেল-ভিত্তিক বিকল্প খুঁজলে Keo Karpin Olivoyl Moisturising Body Oil ভেবে দেখতে পারেন, যা ১০০ থেকে ৫০০ মিলি পর্যন্ত বিভিন্ন সাইজে পাওয়া যায়। অনেকে গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই অল্প পরিমাণে এমন তেল লাগান।
নুসরাত জানতে চাইল, প্যাকেটের পেছনের লম্বা উপাদানের তালিকা দেখে কীভাবে বুঝবে কোনটা ভালো। চাচা সহজ করে তিনটা কাজের কথা বললেন।
পানি টেনে ধরা: গ্লিসারিন বা হায়ালুরনিক অ্যাসিডের মতো উপাদান ত্বকে পানি আকর্ষণ করে ও ধরে রাখে। এরা ত্বককে নরম রাখতে সাহায্য করে।
ত্বক মসৃণ করা: শিয়া বাটার, সেরামাইড বা নানা উদ্ভিজ্জ তেল ত্বকের ফাঁকফোকর ভরাট করে একে মসৃণ ও নমনীয় রাখে।
পানি আটকে রাখা: পেট্রোলিয়াম জেলি বা ডাইমেথিকনের মতো উপাদান ত্বকের ওপর একটা পাতলা আস্তরণ বানায়, যাতে ভেতরের পানি বাইরে উবে না যায়।
“শীতে এই তিনটার মিলনই সবচেয়ে ভালো,” চাচা বললেন। “লোশনে প্রথম কাজটা বেশি থাকে, ক্রিম ও বাটারে দ্বিতীয় আর তৃতীয়টা। তাই শীতের কড়া শুষ্কতায় ঘন জিনিসটা সাধারণত বেশি কাজ করে।”
আরিফ আর নুসরাত তখন বুঝতে শুরু করেছে, তাদের ভুলটা আসলে কোথায় ছিল। চাচা পুরো ব্যাপারটা একটা তালিকায় সাজিয়ে দিলেন।
খুব শুষ্ক ও ফাটা ত্বক: বডি ক্রিম বা বাটার। গোড়ালি ও কনুইয়ের জন্য আরও ঘন কিছু।
স্বাভাবিক ত্বক: শীতের শুরুতে লোশন চলতে পারে, তবে ঠান্ডা বাড়লে ক্রিমে সরে আসা ভালো।
তৈলাক্ত ত্বক: হালকা, জেল বা লোশন-জাতীয় পণ্য। তবে শীতে তৈলাক্ত ত্বকও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, তাই মাঝারি ঘনত্বের কিছু রাখা যায়।
সংবেদনশীল ত্বক: সুগন্ধিমুক্ত ও কম উপাদানের পণ্য বেছে নিন। নতুন কিছু পুরো শরীরে মাখার আগে হাতের ভেতরের দিকে লাগিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা দেখে নিন।
ঘামে ভেজা শরীর বা যারা বেশি পরিশ্রম করেন: দিনের বেলা হালকা লোশন, রাতে ঘন ক্রিম। এতে আরাম আর সুরক্ষা দুটোই মেলে।
নুসরাত হেসে ফেলল। “তার মানে আরিফের শুকনো গোড়ালির জন্য ঘন ক্রিম দরকার, আর আমার ঘরের কাজের সময় জামায় লেগে যাওয়া নিয়ে সমস্যার জন্য হালকা কিছু। আমরা দুজনেই ভুল জিনিস ভুল জায়গায় লাগাচ্ছিলাম।”
“ঠিক,” চাচা বললেন। “আর শুধু কোনটা, সেটাই প্রশ্ন নয়। কখন আর কীভাবে লাগাচ্ছ, সেটা আরও জরুরি।”
চাচা সবচেয়ে বড় রহস্যটা বললেন সবার শেষে। “গোসলের পর ত্বক যখন সামান্য ভেজা থাকে, তখনই সেরা সময়। তখন মাখলে ত্বক পানি ধরে রাখতে পারে বেশি।”
পদ্ধতিটা এমন:
আরিফ ফিসফিস করে বলল, “আমি তো গোসলের এক ঘণ্টা পরে মাখতাম, তাও আবার শুকনো ত্বকে।”
আরিফের মতো অনেক পুরুষ মনে করেন, বডি লোশন মানে মেয়েদের জিনিস। অথচ শীতে রুক্ষ হাত, ফাটা গোড়ালি আর খসখসে ত্বকে ছেলেদেরও সমান কষ্ট হয়।
সুগন্ধ নিয়ে আরও জানতে চাইলে আমাদের বডি স্প্রে ও বডি পারফিউম – পার্থক্য কী? আপনার জন্য কোনটি? লেখাটি পড়ে নিতে পারেন।
শীতে বডি লোশন বা ময়েশ্চারাইজার নিয়ে যে ভুলগুলো হয়
শীতের শুষ্কতা সাধারণত ক্রিম আর যত্নে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু যদি ত্বকে তীব্র চুলকানি থাকে যা কয়েক সপ্তাহেও কমে না, লাল ফোসকা বা রস পড়া দাগ দেখা দেয়, ফাটল থেকে রক্ত বা পুঁজ আসে, কিংবা কোনো জায়গায় ত্বক অস্বাভাবিক পুরু ও ছিলে যাচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে শুধু ময়েশ্চারাইজারের ওপর ভরসা না করে ত্বক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান।
না, মৃদু শীতে বা তৈলাক্ত ত্বকে লোশন ঠিকই কাজ করে। শীত বেশি পড়লে বা ত্বক বেশি শুকালে ঘন ক্রিমে যান। চাইলে দিনে লোশন আর রাতে ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
লোশন এক ধরনের ময়েশ্চারাইজার, তবে এটি পাতলা ও পানি-ভিত্তিক। বাজারে আলাদা করে ময়েশ্চারাইজার বলতে সাধারণত ঘন ক্রিম বোঝানো হয়, যাতে তেলের ভাগ বেশি।
যায়। কেউ কেউ প্রথমে হালকা লোশন আর তার ওপর রুক্ষ জায়গায় ঘন ক্রিম দেন। এতে স্তর পড়ে বেশি সুরক্ষা মেলে।
সাধারণত না। মুখের ত্বক শরীরের চেয়ে সংবেদনশীল, তাই মুখের জন্য আলাদা ফেস ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।
শিশুদের ত্বক খুব নরম, তাই তাদের জন্য আলাদা শিশুবান্ধব, সুগন্ধিমুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। সমস্যা বাড়লে শিশু বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সেদিন সন্ধ্যায় আরিফ আর নুসরাত যখন বাড়ি ফিরল, তাদের হাতে ছিল দুটো ভিন্ন কৌটা। আরিফের জন্য ঘন একটা ক্রিম, আর নুসরাতের জন্য মাঝারি ঘনত্বের হালকা কিছু, সঙ্গে গোড়ালির জন্য ছোট একটা বাটার। সেই রাত থেকেই তারা নিয়ম করে নিল, গোসলের পর তিন মিনিট, তারপর মাখা।
এক সপ্তাহ পর আরিফ সকালে ঘুম থেকে উঠে গোড়ালির দিকে তাকাল। ফাটলগুলো মিলিয়ে আসছে। নুসরাত চা হাতে দরজায় দাঁড়িয়ে হেসে বলল, “দেখলে? ঝগড়াটা আসলে কৌটা নিয়ে ছিল না।”
শীতে বডি লোশন নাকি বডি ময়েশ্চারাইজার, এই প্রশ্নের কোনো একটা সবার জন্য সঠিক উত্তর নেই। আপনার ত্বক কতটা শুষ্ক, আবহাওয়া কতটা ঠান্ডা, আর কখন কীভাবে মাখছেন, এই তিনটাই ঠিক করে দেয় কোনটা আপনার জন্য সেরা। এই শীতে আগে নিজের ত্বকের কথা শুনুন, তারপর কৌটা বাছুন।
আপনার শীতের ত্বক কেমন যাচ্ছে, আর কোন পদ্ধতিটা আপনার জন্য কাজ করেছে? নিচে কমেন্টে আমাদের জানান।

আমি একজন প্রফেশনাল সিপিএ এবং এফিলিয়েট মার্কেটার। অনলাইনে আয় করার জন্য বিভিন্ন নিশ নিয়ে আমি রিসার্চ করি এবং সাকসেস হলে তা সবার সাথে শেয়ার করি।
