Cart
No products in the cart.

গত ১০০ বছরে মানুষের যোগাযোগ পদ্ধতির ব্যপক উন্নতি হয়েছে। চিঠি থেকে টেলিফোন কল, টেলিফোন কল থেকে টেক্সট, টেক্সট থেকে ভিডিও কল এবং ভিডিও থেকে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত যোগাযোগের অভূতপূর্ব পরিবর্তন হয়েছে। এসব উন্নতির পাশাপাশি ২১ শতকের বৃহত্তম আবিষ্কারের একটি ফেসবুক, যা ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রথমে দিকে এটি আমেরিকা এবং তারপরে সারা বিশ্বে একটি মহামারী ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এখন ফেসবুকের ১.২৩ বিলিয়ন মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে।
প্রথম দিকে এর লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা। তবে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা অর্জনের সাথে সাথে, এটা অধিকাংশ মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুকে ঘটে যাওয়া নানা রকম মনোমানিলণ্যের জন্যে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন, বহু পরিবারে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে, এমনকি ফেসবুকের কারণে খুন হয়েছেন বহু মানুষ।
ফেসবুকের হাজারো রকম সুবিধা থাকলেও এখন পর্যন্ত ফেসবুকের অনেক অসুবিধা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আজকে জানুন যে ৭টি কারণে ফেসবুক পরিত্যাগ করা আপনার ভবিষ্যতের জন্য ভাল।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-

মানুষ স্বাভাবিকভাবে নিজের থেকে অন্যের সম্পর্কে জানতে বেশি আগ্রহী থাকে। তাই ফেসবুকে থাকাকালীন এবং নিউজ ফিডে স্ক্রলিংয়ের সময় অনেকেই অন্যদের পোস্ট, ছবি কিংবা কোন ঘটনা দেখে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করে। এটি এমন একটি রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে, নিউজ ফিডে শেয়ার করা ছবি বা পোস্টে লাইক, কমেন্ট করাকে প্রায় সবাই বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। ফলে এর পিছনে অনেকটা সময় ব্যয় করে।
আপনি ফেসবুকে আপনার ফ্রি সময় হিসাবে ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি সময় সচেতন হন তবে এই ফ্রি সময় নিজের যত্ন নিতে, নতুন কিছু শিখতে বা আপনার দৈনন্দিন কাজে ব্যয় করতে পারেন। আর যদি এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতেই হয়, তবে এটিকে ইফেক্টিব কাজে ব্যবহার করুন। যেমন, চাকরি পেতে ব্যবহার করুন ফেসবুক।
২০১৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয় ফেসবুকে বন্ধুদের শেয়ার করা পোস্ট আপনাকে কিংবা আপনার বন্ধুদের ঈর্ষান্বিত করে এবং বিষণ্ণতার সৃষ্টি করে।
এছাড়া চু অ্যান্ড এজ (২০১২) এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে দীর্ঘস্থায়ী ফেসবুক ব্যবহারকারীরা মনে করে যে, অন্যেরা তাদের চেয়ে সুখী জীবনযাপন করে, ফলে তাদের নিজেদের জীবনকে মূল্যহীন মনে করে।
বন্ধুদের পার্টি কিংবা ছুটির ছবি, সুন্দর পারিবারিক মুহূর্তগুলোর ছবি কিংবা কোন সফলতার খবরের সাথে আপনি নিজের জীবনকে তুলনা করবেন। আপনার শেয়ার করার মত হয়তো কোন আনন্দময় ছবি কিংবা সফলতার খবর থাকবে না। এটা আপনার মধ্যে তৈরি করবে জীবন নিয়ে এক ধরণের হতাশার।
ফেসবুকে আপনার বন্ধুদের সংখ্যা দেখুন। তাদের মধ্যে কতজন সত্যিই ভাল বন্ধু? খুঁজে দেখুন, বন্ধু তালিকায় এমন অনেক বন্ধু আছে যাদেরকে আপনি ব্যক্তিগত জীবনে চিনেন না।
আবার এমন অনেক বন্ধু আছে যাদের থেকে আপনি কোন উপকার পাবেন না কিংবা আপনার থেকে তারা কোন উপকার পাবে না। তাই এসব ক্ষেত্রে কেবল সময় নয় বরং আপনার মূল্যবান শক্তিও ব্যয় হয়।
খবর জানার জন্য পত্র-পত্রিকা কিংবা মিডিয়া হচ্ছে ভালো মাধ্যম। যদিও আজকাল পত্র-পত্রিকা বা মিডিয়ায় অনেক ভুল খবর আসে। তবে তার থেকেও বেশি ভুয়া তথ্য এবং নিরর্থক তথ্য শেয়ার হয় ফেসবুকে।
অনেক নিরর্থক তথ্য, ট্রল, সার্কাজম সহ আরও অনেক অপ্রয়োজনীয় তথ্যরে পিছনে সময় নষ্ট হয়। অনেক বড় বড় গুজব এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়েছিল ফেসবুকের ভুয়া তথ্যকে কেন্দ্র করে।
শেষ কবে আপনার ফেসবুকে থাকা বন্ধুদের সাথে, আত্মীয় বা সহকর্মীদের সাথে বাস্তব জীবনে ছুটে গেছেন? সোশ্যাল মিডিয়া যা আমাদেরকে যোগাযোগ করতে সহায়তা করে বলে মনে হয় কিন্তু আমরা প্রকৃত যোগাযোগ ভুলে যাই।
এজন্য আমাদের দেশে, ঘরে, কাজের সময়ে বা অন্য কোথাও এসব সম্পর্কগুলোর মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ফেসবুকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, মানুষের সৃজনশীলতার উপর তার প্রভাব বিস্তার। ফেসবুক ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া সাইট হওয়ায় আপনি যে কোনো কিছু করতে পারেন। তবে আপনাকে বেশী বেশী পোস্ট বা শেয়ার করার জন্য ফেসবুক লাইক, কমেন্টের এক অভিনব পদ্ধতি চালু রেখেছে।
পোস্ট বা ছবি শেয়ারের পর, বেশী লাইক বা কমেন্ট পাওয়ার প্রবণতাটি সবারই থাকে। তাই বেশী বেশী লাইক পাওয়ার জন্য আপনাকে পোস্ট বা ছবির পেছনে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। ভাবতে হয় কি ভাবে এটাকে মজার, আকর্ষণীয় বা স্মার্ট করা যায়। অথচ আপনি এই একই সময় অন্য কোন ভাল কাজে ব্যয় করতে পারতেন।
আপনাকে ফেসবুকে যত বেশি সময় ব্যয় করাতে পারবে, ততই ফেসবুকের লাভ হবে। তাই ফেসবুক সব সময় আপনার পছন্দকে প্রাধান্য দেয়। আপনি যেসব বিষয়কে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন, সেই বিষয়গুলোকে ফেসবুক নিউজ ফিডে প্রথমে নিয়ে আসে।
যেহেতু আপনার পছন্দের বিষয়গুলো ফেসবুকে পাচ্ছেন, তাই আপনার পক্ষে ফেসবুক ত্যাগ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। ফলে আপনি বাস্তব বিশ্বের থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন। অন্য এক ভার্চুয়াল বাস্তব জীবন গড়ে তুলছেন যা কেবলই অর্থহীন এবং মূল্যহীন।
ফেসবুক সম্পর্কে আপনার অনুভূতিগুলো জাগ্রত করা এবং আপনার মূল্যবান সময়গুলো কোন মূল্যবান কাজে ব্যয় করতে উৎসাহিত করার জন্য এই লেখা। আপনি একটা রুটিন করে দেখুন, আপনি দিনের কতটা সময় ফেসবুকে ব্যয় করেন? আপনি চাইলে এই ফেসবুকে ব্যয় করার সময় গুলো, অন্য কোন কাজে ব্যয় করতে পারেন। তবে আপনি চাইলে ফেসবুকে খুব সামান্য কিছু সময় ব্যবহার করতে পারেন।

আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তবে আমি ওয়েব এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে কাজ করি। হৈচৈ বাংলাতে পোষ্ট পড়ার পাশাপাশি লিখার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে ভালোই লাগছে।
