Cart
No products in the cart.

বর্তমান জীবনে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফেসবুককে বন্ধু ভাবুন আর নাই ভাবুন; এর মাধ্যমেই আপনি এখন আপনার কাঙ্ক্ষিত কমর্জীবনে প্রবেশের সুযোগটি পেতে পারেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেসবুক জবস নামের একটি ফিচার চালু করে; যার কারণে ফেসবুক ব্যবহার করে চাকরি পাওয়া এবং দেওয়ার উভয় সুবিধাই সরাসরি উন্মুক্ত হয়।
জেনে হয়ত অবাক হবেন, বিজনেস ইনসাইডারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করে! এই বিপুল সংখ্যাক প্রতিষ্ঠানের কর্মী খুঁজে বের করার জন্য ফেসবুকের চেয়ে ভালো জায়গা আর কী হতে পারে!
একদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেরকম প্রায় ১০০ কোটি মানুষের মধ্য যোগ্য মানুষের কাছে তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে পারবেন এবং তাদেরকে নিয়োগ করতে পারবেন, অন্যদিকে তেমনি এতো এতো প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে পছন্দের প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করে চাকরি করার সুযোগটিও পেয়ে যাবেন আপনি।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
এর আগে আমরা লিংকডইন ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম যা অনেক পাঠকই পছন্দ করেছেন। যেহেতু, আমাদের দেশে লিংডইন এর চেয়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি, তাই এটি ব্যবহার করে কিভাবে চাকরি পাওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকছে আজ।

আর এসব কারণেই সারা পৃথিবীতে চাকরি খোঁজার জন্য যেসব ওয়েব সাইট রয়েছে তাদের মধ্য ফেসবুকের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। এখন কথা হচ্ছে, এত এত প্রতিযোগীর মধ্য সবাই কি ফেসবুক ব্যবহার করে চাকরি পাবে? উত্তর হচ্ছে, না। ফেসবুক ব্যবহার করে চাকরি পেতে হলে এ সম্পর্কে আপনার দক্ষতা থাকতে হবে, কিছু কৌশল জানা থাকতে হবে।
ফেসবুক প্রোফাইলটি হয়ত এতোদিন হেলাফেলা করে বা মজা করতে করতেই ব্যবহার করে এসেছেন। এখন যদি আপনি ফেসবুক এর সাহায্য নিয়ে কর্মজীবন শুরু করতে চান, তাহলে সিরিয়াস হওয়ার সময় এসে গেছে। সাধারণ চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে একটি সিভি যেরকম গুরুত্বপূর্ণ, ফেসবুকের মাধ্যমে চাকরি আবেদনের ক্ষেত্রে আপনার প্রোফাইলের গুরুত্ব ঠিক তেমন।
এখানে যারা চাকরির জন্য আবেদন করে, তাদের ৭০ শতাংশই প্রথম পর্যায়ে বাদ পড়ে যায় তাদের করা কমেন্ট, শেয়ার এবং প্রোফাইল থাকা অযাচিত ছবির কারণে। ফেসবুকে করা প্রত্যেকটা কাজ আপনার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে। তাই, সিরিয়াস কোন কিছু এখান থেকে পেতে চাইলে আপনাকেও হতে হবে সিরিয়াস।

প্রোফাইলটি রুচিসম্মত হিসেবে সাজান। আঁকাবাঁকা সেলফি বা গাছ-ফুল, লতাপাতা, পুতুল-কার্টুনের ছবি ফেলে দিয়ে আজকেই সেখানে নিজের বর্তমান এবং স্বাভাবিক একটি ছবি দিন। প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সঠিকভাবে দিন। অযাচিত ছবি কমেন্ট বা পোস্ট থাকলে সেগুলো সরিয়ে ফেলুন। একটি সিভিতে যেরকম অপ্রয়োজনীয় বিষয় রাখবেন না, সেরকম ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এরকম বিষয় মুছে দিন।
চাকরিদাতা প্রাথমিকভাবে আপনার প্রোফাইলটিই শুধুমাত্র দেখবে। তাই প্রথম দর্শনেই তার মধ্য একটি ভালোলাগা তৈরী করুন। আপনি যে আর দশজন প্রতিযোগীর চেয়ে যোগ্য এটা প্রমাণ করুন প্রোফাইল দিয়ে।
প্রোফাইল ঠিক করার পরের কাজটি পছন্দের প্রতিষ্ঠান বা কাজের তালিকা তৈরী করা। এবং সেই তালিকা অনুযায়ী পেজগুলো নিয়মিত দেখা এবং তাদের খবরাখবর সম্পর্কে আপডেট থাকা।
ফেসবুকের একটি অন্যতম খারাপ দিক হচ্ছে, মনোযোগ বারবার পরিবর্তন করে দেওয়া। নিশ্চয়ই কখনও না কখনো খেয়াল করেছন যে, ছোট একটি কাজ বা খবর নেওয়ার ফেসবুকে ঢুকে ঘন্টাখানেক সময় পার হয়ে গেছে কিন্তু কাঙ্ক্ষিত কাজটি করা হয়নি। অথচ কাজটি আপনি পাঁচমিনিটেই করতে পারতেন!
চাকরি খোঁজার সময় যেন এরকম না হয় সেই কারণেই তালিকা তৈরী করা জরুরী। এটি তৈরী করার সময় আপনার কোনকাজ করতে ভালো লাগবে বা আপনি কিসে দক্ষ সেটি প্রথমে বিবেচনা করবেন। তারপর প্রতিষ্ঠানের সুবিধা অসুবিধা, কর্মী সংখ্যা, কাজের পরিবেশ সর্বপোরি আপনি সেগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন কিনা এসব দিক বিবেচনা করবেন।
তো তালিকা প্রস্তুত হয়ে গেল, এবার চলুন পরের ধাপে চলে যাই।
ফেসবুকের চাকরি সংক্রান্ত পোস্ট পাবেন দুইটি জায়গায়। এক, যে প্রতিষ্ঠান চাকরি দিচ্ছে তাদের অফিশিয়াল পেজে। দুই, ফেসবুকের Jobs পেজটিতে। এটি কম্পিউটারে স্ক্রিনের বাম পাশে থাকা Explore সেকশনটির “See more…” লেখায় ক্লিক করলে পেয়ে যাবেন এবং মোবাইলে পাবেন “See All Apps” অপশনটিতে।
ফেসবুক জবের এই পেজে সকল চাকরীর বিজ্ঞাপন একসাথে দেখতে পারবেন এবং কাজের ধরণ অনুযায়ী চাকরী খুঁজে বের করতে পারবেন খুব সহজেই। আপনার পছন্দের চাকরির পোস্টটি খুঁজে পেলে এখন আবেদন করে ফেলুন।
এখানে যে বিষয়গুলো বলা হলো সে সবই কিভাবে ফেসবুক ব্যবহার করে চাকরি পাবেন সেটার ব্যাপারে। তবে শুধু চাকরি খোঁজাই নয়, ফেসবুকে বসে কিন্তু আপনি সরাসরি টাকাও ইনকাম করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ফেসবুক পেজ থেকে আয় করার সেরা কিছু উপায় জেনে নিয়ে শুরু করে দিন।

মূলত, পাঠক। পড়তেই ভালো লাগে। সেটা কাগজের বই কিংবা স্ক্রিনে ইবুক, যাইহোক না কেন। পাঠ্যবই না হলেই আমি খুশি।
পড়াশোনা করছি পদার্থবিজ্ঞানে।
প্রযুক্তির বিষয়ক লেখা পড়তে সবসময়ই একটু বেশি ভালো লাগে। আর নতুন কিছু জেনে কাউকে সেটা জানাতে পারলে আনন্দটা একশগুণ হয়ে যায়। অবসরে টুকিটাকি লেখার চেষ্টা করার পিছনে সেই লোভটুকু ভালোভাবেই কাজ করে! 🙂
