Cart
No products in the cart.

আগে আমরা বলতাম কম্পিউটার পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে, এখন বলি স্মার্টফোন দুনিয়াটাকে আমাদের দুই হাতে তুলে দিয়েছে। স্মার্টফোনের ব্যবহার এত দ্রুত বাড়ছে যে স্মার্টফোন কোম্পানীগুলো বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে। বিশ্ব সেরা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড কোম্পানী রয়েছে অনেকগুলো। আজ আমরা সেগুলোর মাঝে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচিত ১০টি কোম্পানী সম্পর্কে জানবো।
বর্তমানে পৃথিবীতে যত টেকনোলোজি ব্যবহৃত হচ্ছে তার মাঝে সবচেয়ে বড় জায়গাটি দখল করেছে স্মার্টফোন। শুধু কথা বলা কিংবা গেম খেলার জন্যেই নয়, স্মার্টফোনের প্রোডাক্টিভ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে তোলা যায়। নানা রকম নাগরিক ব্যস্ত জীবনে স্মার্টফোন আমাদের স্ট্রেস দূর করে, ব্রেন ফাংশন বাড়ায় এবং সর্বোপরি আমাদের আনন্দ দিয়ে থাকে।
নানা রকম উপকারের জন্যে স্মার্টফোন কোম্পানীগুলোর প্রতি আমাদের অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ। আসুন, বিশ্ব বিখ্যাত কিছু স্মার্টফোন কোম্পানী সম্পর্কে জানা যাক।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত স্মার্টফোনের তালিকায় রয়েছে স্যামসাং। কোরিয়ান এই ইলেকট্রোনিক্স কোম্পানীটি স্মার্টফোন দিয়ে দুনিয়া কাঁপাচ্ছে, একের পর এক আধুনিক আর ইউনিক ফিচার নিয়ে প্রায়ই হাজির হচ্ছে। শুধু এশিয়া নয়, এরই মাঝে ইউরোপের বাজার দখল করে নিয়েছে স্যামসাং।
এ যাবৎ বাজারে আসা স্যামসাং এর উল্লেখযোগ্য স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে-
উপরোক্ত স্মার্টফোন ছাড়াও স্যামসাং এর আরো অনেক ফোন রয়েছে। আর সবগুলো ফোনের মাঝে স্যামসাং এর সেরা ৫টি ফোন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।
স্মার্টফোন বিক্রির দিক থেকে সেকেন্ড হাই লেভেলে রয়েছে হুয়াওয়ে। শুধু চায়নাতেই নয়, এশিয়া ছাড়িয়ে ইউরোপের বহু দেশে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোন বিক্রি করছে চায়নায় এক নম্বরে থাকা এই স্মার্টফোন কোম্পানীটি। শুধু ২০২০ সালেই সারা পৃথিবীতে ৫৫.৮ মিলিয়ন বা ৫ কোটি ৫৮ লক্ষ স্মার্টফোন বিক্রি করেছে হুয়াওয়ে।
হুয়াওয়ের উল্লেখযোগ্য স্মার্টফোনের মধ্যে রয়েছে-
এছাড়াও, হুয়াওয়ের আরো অনেক স্মার্টফোন রয়েছে। তবে, সাধ্যের মধ্যে হুয়াওয়ের সেরা ৫টি ফোন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।
২০১৯ সালে ৬৪ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৬ হাজার ৪শ কোটি ডলার আয় করে অ্যাপল কোম্পানী। ২০১৯ সাল পর্যন্ত অ্যাপলের নেট রেভিনিউ ছিল ২৬৬ বিলিয়ন ডলার যার ২১৮ বিলিয়নই আসে আইফোন বিক্রি থেকে। বুঝতেই পারছেন বিক্রি এবং লাভের দিক থেকে আইফোনের উপরে কেউ নেই।
অ্যাপল কোম্পানীর স্মার্টফোনের মধ্যে রয়েছে-
সবচেয়ে দামী স্মার্টফোন হিসেবে আইফোনের ব্যবহার আমাদের দেশে কম। তবে, অনেক সৌখিন লোক রয়েছেন যারা দাম দিয়েই আইফোন ব্যবহার করে থাকেন।
বিক্রির দিক থেকে আরেকটি বড় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হচ্ছে শাওমি। শুধু বিক্রির বেলাতেই নয়, বরং কোয়ালিটি ও উন্নত টেকনোলোজির দিক থেকেও অন্যতম সেরা কোম্পানী এটি যা স্মার্টফোন দুনিয়ায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রায় ৬০ মিলিয়ন স্মার্টফোন বিক্রি করেছে এই কোম্পানীটি। আর ২০২০ সালেই তাদের রেভিনিউ ৯.৮% বেড়ে গিয়েছে।
শাওমির উল্লেখযোগ্য স্মার্টফোনের মধ্যে রয়েছে-
শাওমি স্মার্টফোনের দাম খুব বেশি না হলেও কিছু কিছু অনেকের জন্যে সাধ্যের বাইরে। তাই, সাধ্যের মধ্যে শাওমির সেরা ৫টি ফোন দেখে নিতে পারেন।
অপ্পো আরেকটি চাইনিজ কোম্পানী যার পুরো নাম গুয়াংডং অপ্পো মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন কর্পোরেশন। ব্লু-রে প্লেয়ারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রোনিক্স পণ্য উৎপাদনকারি এই কোম্পানিটি বর্তমানে স্মার্টফোনের জন্যে ৫ম অবস্থানে রয়েছে।
অপ্পোর কিছু উল্লেখযোগ্য স্মার্টফোনের তালিকা-
ভিভো কমিউনিকেশন টেকনোলোজি কোম্পানী লিমিটেড নামের আরেকটি স্মার্টফোন নির্মাতা এটি। স্মার্টফোনের পাশাপাশি এক্সেসোরিজ, সফটওয়্যার এবং অনলাইন সার্ভিস প্রদানকারি চাইনিজ এই কোম্পানী কিনে নিয়েছে বিবিকে ইলেকট্রোনিক্স।
ভিভোর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্মার্টফোন হচ্ছে-
বহু বছর ধরে এলজিকে সবাই ইলেকট্রোনিক্স কোম্পানী হিসেবে চিনলেও গত কয়েক বছরে টেকনোলোজির উৎকর্ষতার সময়ে স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে কোম্পানীটি। তবে, স্মার্টফোনের জগতে এই বিখ্যাত ইলেকট্রোনিক্স কোম্পানী এলজি অন্যদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে।
ফ্ল্যাগশিপ জি-সিরিজ ছাড়াও এলজি’র যে-সব স্মার্টফোন রয়েছে-
বিশ্বের ১৬০টি দেশে নিজেদের স্মার্টফোন নিয়ে পৌঁছে গিয়েছে চায়নার এই ইলেকট্রোনিক্স কোম্পানীটি। পারসোনাল কম্পিউটার ও ট্যাবের পাশাপাশি স্মার্টফোন উৎপাদন ও বিক্রিতে বিশ্বের মধ্যে বর্তমানে অস্টম অবস্থানে রয়েছে লিনোভো।
লিনোভোর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্মার্টফোন হলো-
আমেরিকার মাল্টি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানী মটোরোলা ইনকর্পোরেশনের বাটন ফোনের কথা কার না মনে আছে! ফোনের জগতে প্রথম দিকের কোম্পানীগুলোর অন্যতম মটোরোলা। শুরুর দিকে শুধু বাটন ফোন নিয়ে কাজ করলেও পরবর্তীতে প্রচুর স্মার্টফোন উৎপাদন ও বিক্রি করেছে মটোরোলা মোবিলিটি।
মটোরোলার স্মার্টফোনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
এমন একটি কথা প্রায় সকলের মুখেই প্রচলিত ছিল- ফোনের রাজা নোকিয়া, প্রেমের রাজা পরকীয়া। কথাটির সত্যতা যাই হোক না কেন, এক সময় বাটন ফোনের জগতটাকে নোকিয়াই লিড দিয়েছিল। কিন্তু স্মার্টফোনের বাজারে শত চেষ্টা করেও প্রতিযোগীতায় উঠে আসতে পারেনি ফিনল্যান্ডের এই কনজিউমার ইলেকট্রোনিক্স কোম্পানীটি। তবুও সেরা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড এর তালিকার দশম স্থানে রয়েছে এটি।
নোকিয়ার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্মার্টফোন-
শেষ কথা
উপরোক্ত ১০টি বিশ্ব সেরা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড সম্পর্কে আপনি হয়তো আগে থেকেই জানেন। আমরা যা করেছি তা হচ্ছে আপনাকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়া। আশা করি, এই মনে করিয়ে দেয়াটা আপনার কিছুটা হলেও কাজে লেগেছে, এক নজরে সবগুলো ব্র্যান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন।

আমি টঙ্গী সরকারি কলেজে ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স পড়ছি। বইয়ের পোকা হিসেবে বন্ধু-বান্ধবের কাছে ব্যাপক দূর্ণাম রয়েছে। একজন নির্ভেজাল মানুষ হিসেবে নিজেকেই নিজের চারিত্রিক সদনপত্র দিয়ে রেখেছি।

এক সময় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নামকরা ছিল নোকিয়া। বর্তমানে নোকিয়ার সেই অবস্থান নেই আর সেটি দখল করেছে স্যামসাং আর শাওমির মতো কোম্পানীগুলো। অবস্থানের দিক থেকে সেরা কিছু মোবাইল কোম্পানী সম্পর্কে জেনে খুব ভাল লাগলো, তাই লেখককে ধন্যবাদ।