Cart
No products in the cart.

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষা একটি জাতির জন্যে যারপরনাই প্রয়োজনীয়। তাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাঠ্যক্রমের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রকৌশল আর প্রযুক্তির প্রচার এবং একীভূত করে পরবর্তী প্রজন্মের তরুণ উদ্ভাবক তৈরি করার প্রয়াস চালাচ্ছে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি যেখান থেকে তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের ইঞ্জিনিয়ার।
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা ইউনিভার্সিটির বিপুল সম্ভাবণার আরো একটি বড় কারণ বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক খাতের বাস্তবতা। সেই সাথে, প্রযুক্তি শিক্ষার উপর নির্ভরশীল চাকরি। আমাদের দেশ ও অন্যান্য দেশে দ্রুত বিকাশমান অর্থনৈতিক খাত ও প্রযুক্তি নির্ভর মার্কেটপ্লেসের জন্যে নিজেকে তৈরি করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশুনা করা।
ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশুনার জন্যে বাংলাদেশের সেরা কিছু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে। কিন্তু, সেগুলোতে সবাই পড়ার সামর্থ রাখে না বলেই পাবলিক ইউনিভার্সিটির প্রয়োজন। আমাদের দেশে সরকারিভাবে পরিচালিত বেশকিছু ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ রয়েছে যেগুলোর অধিকাংশ খরচই সরকার বহন করে থাকে।
আসুন, এরকম কিছু পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা ভার্সিটি সম্পর্কে ভাল করে জানা যাক।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টি ব্যাপক বড় এবং এর বিভিন্ন ক্যাটেগরি রয়েছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। আমাদের মূল লেখায় যাওয়ার আগে চাইলে আপনি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়ার জন্যে পৃথিবীর জনপ্রিয় ১৫টি ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। যারা এই মুহূর্তে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ আগ্রহী নন, তারা নিচে গিয়ে দেশের সেরা ১০ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জেনে নিন।

ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার এবং টেকনিক্যাল এডুকেশনের উপর উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার জন্যে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি হল বুয়েট বা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলোজি। তবে, ১৮৭৬ সালে যখন এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন কিন্তু এই নাম ছিল না।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পলাশীতে অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় এই ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির শুরুর নাম ছিল Dacca Survey School। ১৯৮০ সালে এর নামকরণ করা হয় আহসানউল্যাহ্ স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং। ১৯০৮ সালেই আবার নাম বদলে রাখা হয় আহসানউল্যাহ্ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, যাকে ঢাকা ইউনিভার্সিটির আন্ডারে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু, ১৯৬২ সালে আবার এর নাম পরিবর্তণ করে রাখা হয় ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলোজি, সংক্ষেপে EPUET বলা হতো। সর্বশেষ ১৯৭১ সালে এর বর্তমান নাম BUET করা হয়।
প্রায় ৬.৭৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বিশাল ক্যাম্পাস সমৃদ্ধ এই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন থাকে সবারই। কিন্তু, অন্যান্য ইউনিভার্সিটি থেকে এটাতে ভর্তি হওয়া বেশি কঠিন। কারণ, প্রায় সকলেই গ্র্যাজুয়েশন বা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেই দ্রুত বিত্তশালী হওয়ার জন্যে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে বুয়েটে ভর্তি হতে চান। ফলে, এখানে প্রতিযোগীতা বেশি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায়।
এক নজরে Bangladesh University of Engineering and Technology-
ফ্যাকাল্টি ও ডিপার্টমেন্ট সমূহ
বুয়েটে বর্তমানে ৫টি ফ্যাকাল্টি রয়েছে, যার আন্ডারে মোট ১৮টি ডিপার্টমেন্ট পরিচালিত হচ্ছে। এর মাঝে ১২টি ডিপার্টমেন্টে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্স করার সুবিধা রয়েছে। আর একটি বাদে বাকী সকল ডিপার্টমেন্টে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স আছে। মূল ফ্যাকাল্টিগুলো এক নজরে দেখে নিন-
রিসার্চ সেন্টার সমূহ
বুয়েটে বিভিন্ন ধরণের রিসার্চ সেন্টার রয়েছে। তার মাঝে উল্লেখযোগ্য রিসার্চ সেন্টারগুলো হলো-
রিসার্চ বুলেটিন ও জার্নাল
বুয়েটের রিসার্চ বুলেটিন ও জার্নালগুলো এক নজরে দেখে নিন-
আবাসিক হল সমূহ
বুয়েটের আবাসিক হলের সংখ্যা ৮টি। অধিকাংশ হলই বাংলাদেশের ইতিহাসের বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে নামকরণ করা। এক নজরে দেখে নিন বুয়েটের আবাসিক হলোগুলো-
লাইব্রেরী: সেন্ট্রাল রিডিং রুমের ধারণ ক্ষমতা ২০০ স্টুডেন্ট। বই আছে প্রায় ১৮ হাজার, ম্যাটেরিয়াল আছে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার।
সায়েন্স ও টেকনোলোজি ইউনিভার্সিটির একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে রিসার্চ ফ্যাসিলিটি। আর এই ফ্যাসিলিটির জন্যে বাংলাদেশের Khulna University of Science and Technology বেশ নামকরা। বিভিন্ন ধরণের রিসার্চ অ্যাক্টিভিটির জন্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বেশ কয়েকবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে।
১৯৬৭ সালে এটি প্রথমে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে, যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম দেয়া হয় Khulna Engineering College। এরপর নাম পরিবর্তণ করে রাখা হয় Bangladesh Institute of Technology, সংক্ষেপে যা BIT হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ লাভ করে, যার মূল মোটো বা শ্লোগান হচ্ছে “Oh Lord! Bestow me with Knowledge” বা “প্রভু! আমায় জ্ঞান দাও”।
এক নজরে Khulna University of Engineering & Technology-
Academic Structure
কুয়েটের একাডেমিক স্ট্রাকচার বেশ গোছালো। বর্তমানে এখানে ৩টি ফ্যাকাল্টি রয়েছে আর সেগুলোর আন্ডারে রয়েছে ২০টি একাডেমিক ডিপার্টমেন্ট। এর মাঝে ১৬টি ডিপার্টমেন্টের অধীনে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্স এবং বাকী সবগুলোতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স বিদ্যমান।
Institute সমূহ
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান PhD গ্র্যান্টিং পাবলিক ইউনিভার্সিটি হচ্ছে Rajshahi University of Engineering & Technology যাকে সংক্ষেপে রুয়েট (RUET) বলা হয়। রুয়েটে ভর্তি হওয়া অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির চেয়ে একটু কঠিন বলেই জানে সবাই। কারণ, ভর্তির জন্যে এখানে প্রথমে গ্রেডের মাধ্যমে সিলেক্ট করা হয়। যারা সিলেকশনে উত্তীর্ণ হতে পারে, কেবল তারাই লিখিত পরীক্ষায় (written examination) অংশ নেয়ার সুযোগ পায়, অন্যরা নয়।
১৯৬৪ সালে প্রথম যখন ইউনিভার্সিটিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন এর নাম ছিল Rajshahi Engineering College যা স্বল্প সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী চালু করা হয়। পরবর্তীতে এটি BIT বা Bangladesh Institute of Technology নামে পরিচিত হতে থাকে। অবশেষে, ১৯৮৬ সালে এটিকে বর্তমান নামে (RUET) নামকরণ করা হয়।
এক নজরে Rajshahi University of Engineering & Technology-
Academic Structure
কুয়েটের একাডেমিক স্ট্রাকচার বেশ গোছালো। বর্তমানে এখানে ৩টি ফ্যাকাল্টি রয়েছে আর সেগুলোর আন্ডারে রয়েছে ২০টি একাডেমিক ডিপার্টমেন্ট। এর মাঝে ১৬টি ডিপার্টমেন্টের অধীনে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্স এবং বাকী সবগুলোতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স বিদ্যমান।
Institute সমূহ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বেশি পরিচিত হলেও এর মূল নাম হচ্ছে Chittagong University of Engineering & Technology যাকে সবাই সংক্ষেপে CUET বলে থাকে। এটি বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি যা ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট, আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট মিলে প্রায় ৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী আছে।
চট্টগ্রামের রাউজানে অবস্থিত সরকারি অর্থায়নে চলমান এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি স্বায়ত্তশাসিত ডিগ্রী প্রদানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। CUET এর রয়েছে ৫টি অনুষদ এবং ১৭টি একাডেমিক বিভাগ যেগুলোর বিশেষ্যত্ব হচ্ছে মানসন্মত শিক্ষা পদ্ধতির উপর গুরুত্ব আরোপ। সেই সাথে, ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ, টেনোলোজি ও আর্কিটেকচারের উপর বিশেষভাবে নজর থাকার কারণে এটি অন্যান্য ইউনিভার্সিটি থেকে অনেকটাই আলাদা।
এক নজরে Chittagong University of Engineering and Technology-
Faculty সমূহ
সায়েন্স ও টেকনোলোজির উপর রিসার্চ বেইজড্ একটি ইউনিভার্সিটি হচ্ছে SUST বা Shahjalal University of Science and Technology যা বাংলাদেশের সিলেটে অবস্থিত। বাংলাদেশের যেসব ইউনিভার্সিটি অ্যামেরিকান ক্রেডিট (Credit) সিস্টেম ব্যবহার শুরু করে, তার মাঝে SUST-ই প্রথম।
ফিজিক্যাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি এবং রিসার্চ (Phd) এর জন্যে এটি বেশি বিখ্যাত। ২০১৬ সালে SUST ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং-এ বিশ্বের মধ্যে ৬১০ নাম্বার অবস্থানে আসে এবং বাংলাদেশে ১ নাম্বার স্থানে জায়গা পায়।
এক নজরে Shahjalal University of Science and Technology-
Department সমূহ
Faculty সমূহ
বাংলাদেশের সেরা ১০টি পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানলেন। আশা করি, এই জানাটা আপনার শিক্ষা ও কর্ম জীবনে কাজে লাগবে। কাজেই, লেখাটি শেয়ার করে সকল শিক্ষার্থী ও বন্ধুদের জানিয়ে দিন।

আমি টঙ্গী সরকারি কলেজে ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স পড়ছি। বইয়ের পোকা হিসেবে বন্ধু-বান্ধবের কাছে ব্যাপক দূর্ণাম রয়েছে। একজন নির্ভেজাল মানুষ হিসেবে নিজেকেই নিজের চারিত্রিক সদনপত্র দিয়ে রেখেছি।
