Cart
No products in the cart.

নরসিংদীর সেরা কলেজ সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরী না হলেও প্রয়োজনের সময় আপনার কাজে লাগবে। নরসিংদীর বাসিন্দা হিসেবে তো বটেই, দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবেও জেলা ভিত্তিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা আপনার জ্ঞান চর্চার পরিচায়ক হিসেবে কাজে দেবে।
ঢাকা -সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, ব্রহ্মপুত্র নদী দ্বারা বেষ্টিত কৃষি, শিল্প ও শিক্ষার শহর হলো ‘নরসিংদী’। কৃষিক্ষেত্রে কলা, লটকন; শিল্পক্ষেত্রে তৈরি পোশাক দিয়ে সুনাম অর্জণ করার পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে নরসিংদীর একটি বিশাল অবদান রয়েছে।
নরসিংদী সদরের পশ্চিম ব্রাহ্মন্দীর শুধু বালুরচর এলাকায় প্রায় অর্ধশত সংখ্যক কলেজ রয়েছে। যা কোনো এলাকা ভিত্তিক কলেজের সংখ্যার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ। এজন্য নরসিংদীকে অনেকে ‘কলেজের শহর” বলেও ডাকে।
পুরো নরসিংদী জেলায় প্রায় শতাধিক কলেজ রয়েছে। অধিকাংশ কলেজ নতুন হলেও ঐতিহ্যবাহী পুরোনো কলেজের সংখ্যাও কম নয়। প্রতি বছরই এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টে ঢাকা বোর্ডের শীর্ষ ফলাফল অর্জণকারী কলেজগুলোর মধ্যে নরসিংদীর এক বা একাধিক কলেজ থাকে। এজন্য নরসিংদী জেলার বাইরে থেকেও অনেক ছাত্র-ছাত্রী নরসিংদীতে পড়তে আসে।
আজকের আর্টিকেলে আপনারা নরসিংদীর সেরা ৫টি কলেজের সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-

নরসিংদী শহরের প্রতিনিধিত্ব করা এই কলেজটি ২০০৬ সালে শিল্পপতি আবদুল কাদির মোল্লা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি তার রেজাল্টে চমক দেখিয়ে আসছে। ২০০৮ সালে কলেজটির ৯৯% শিক্ষার্থী পাশ করে।
এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত টানা ৮ বছর শতভাগ পাশের রেকর্ড গড়ে। পাশাপাশি ২০০৮ সালে ঢাকা বোর্ড ৫ম, ২০১১ সালে ঢাকা বোর্ডে ৭ম স্থান দখল করে। এরপর ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বোর্ডে টানা তিন বছর দ্বিতীয় স্থান লাভ করে আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ।
এই কলেজে প্রায় ১৭০০ ছাত্র-ছাত্রীর বিপরীতে ৭০ জনের মতো শিক্ষক আছেন। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ চালু আছে আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজে।
পড়াশোনা ছাড়াও কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসেও এই কলেজের সুনাম রয়েছে।
কলেজের নিজস্ব হোস্টেল রয়েছে। এছাড়া যারা দূর থেকে আসে তাদের জন্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। কলেজের জিমনেসিয়াম, অডিটরিয়াম এবং সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগার ও রয়েছে। ভালো ফলাফল, শিক্ষার্থীদের যথাযথ কেয়ার করার মাধ্যমে এটি বর্তমানে নরসিংদী সেরা কলেজে পরিণত হয়েছে।
যোগাযোগ:
নরসিংদীর প্রাইভেট কলেজের অগ্রদূত বলা হয় নরসিংদী মডেল কলেজকে। ২০০২ সালে নরসিংদীতে প্রথম প্রাইভেট কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার সুনাম ধরে রেখেছে। ২০০৮ সালে ঢাকা বোর্ডে ৭ম স্থান এবং ২০১৪ সালে ২০তম স্থান অধিকার করে কলেজটি।
নরসিংদী মডেল কলেজে প্রায় ১২০০ ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ৫৫ জনের মতো শিক্ষক রয়েছেন। আন্তরিক শিক্ষকমণ্ডলী, উন্নত পাঠদান ব্যবস্থার কারণে এই কলেজটি এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়। বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা, খেলাধুলাসহ অন্যান্য কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসে নরসিংদী মডেল কলেজের সুনাম রয়েছে।
এই কলেজের রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি যা শিক্ষার্থীদের মুক্ত-জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করে।
যোগাযোগ:
নরসিংদীর কেন্দ্রে অবস্থিত ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয় ১৯৮০ সালে। এখানে উচ্চ মাধ্যমিক ছাড়াও ডিগ্রি (পাস) ও প্রায় ১৬টি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে।
নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের পাশে অবস্থিত এই কলেজটি নরসিংদীর রাজনীতি, সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিবছর প্রায় ২৫০০ শিক্ষার্থী এই কলেজে ভর্তি হয়। উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ২৭,০০০। ২০১৯ সালে এইচএসসিতে পাশের হার ছিলো ৯১.৫%।
যোগাযোগ:
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (BCIC) দ্বারা পরিচালিত এই কলেজটি ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ইউরিয়া সারকারখানা কলোনির ভিতরে এর অবস্থান। মূলত সারকারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পোষ্যদের জন্যে প্রতিষ্ঠা করা হলেও এর বাইরে অনেক শিক্ষার্থী এখানে পড়তে আসে।
স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থী প্রায় ১৫০০ জন এবং শিক্ষক -কর্মকর্তা মোট ৮০ জন।
প্রতিবছর এই কলেজের “প্রত্যাশা” নামক একটি ম্যাগাজিন বের হয়। বিতর্ক, খেলাধুলা,স্কাউটিংয়ে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আছে।
যোগাযোগ:
নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে অবস্থিত মনোহরদী ডিগ্রি কলেজ ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ মিলিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।
২০১৯ সালে মনোহরদী ডিগ্রি কলেজের পাশের হার ছিলো ৮১.৬%। পাশের জেলা থেকেও অনেকে পড়তে আসে এই কলেজে।
যোগাযোগ:
নরসিংদীর সেরা কলেজ ও সেগুলোর কিছু তথ্য জানলেন, আশা করি এগুলো আপনার এইচএসসিতে ভর্তির সময় কাজে লাগবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগে পড়াশুনা করছি। পড়াশুনার পাশাপাশি লেখা-লেখি করতে ভাল লাগে, তাই হৈচৈ বাংলায় একজন লেখক হিসেবে যুক্ত হয়েছি।
