Cart
No products in the cart.

হাল সময়ে স্মার্ট ডিভাইসগুলোর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনষ্টল করার মাধ্যমে বর্তমানে একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট ডিভাইস দিয়ে প্রায় সব ধরনের কাজই করা সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে প্রিন্ট করা, মিউজিক স্টোর করাসহ বিশাল বিশাল ওয়ার্ড ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ করাও একজন সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কাছে এখন খুবই সহজ একটা ব্যাপার।
ওয়াফাই প্রিন্টার না থাকার কারণে আমাদের অনেকেই পক্ষেই ওয়্যারলেস প্রিন্টিং এর সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে গুগলের কল্যাণে আমরা এখন খুব সহজেই যে কোন প্রিন্টারকে আমাদের গুগল অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত করে পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে প্রিন্ট করতে পারি। সেটআপ করার প্রক্রিয়াটি একটু জটিল, তারপরেও আমার মনে হয় আজকের পোষ্টটি পড়ার পর পুরো বিষয়টি আপনার কাছে পানির মত পরিষ্কার ও সহজ বলে মনে হবে।

যদিও বর্তমানে বাজারে যে-সব প্রিন্টার পাওয়ার যায়, তার বেশিরভাগই ব্লুটুথের মাধ্যমে প্রিন্ট করাকে সমর্থন করে। তাছাড়া ওয়াইফাই প্রিন্টিং তো রয়েছেই। কিন্তু তাই বলে সব প্রিন্টারই যে এ সকল সুবিধা সম্বলিত, তা কিন্তু নয়। আর এ সমস্যার সমাধানের জন্যই ক্লাউড প্রিন্টিং প্রযুক্তির জন্ম হয়। প্রিন্টারকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে ফোন বা ট্যাবলেটের মত ডিভাইস দিয়ে পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে প্রিন্টারকে পরিচালনা করা বা প্রিন্ট দেওয়া শুধু একটি ক্লিক বা ট্যাপ এর কাজ মাত্র।
মনে রাখবেন অধিকাংশ প্রিন্টার গুগল ক্লাউড প্রিন্টের মাধ্যমে কাজ করার উপযোগী হলেও এমনও কিছু প্রিন্টার রয়েছে যা গুগল ক্লাউড প্রিন্টকে সমর্থন করে না। একারণে আপনার মেধা আর শ্রম যাতে অপচয় না হয়, সেজন্য গুগল আগে থেকেই তাদের ক্লাউড প্রিন্টিং সেবাকে সমর্থন করে এমন প্রিন্টারগুলির লিস্ট তৈরী করে রেখেছে। এখানে ক্লিক করে প্রথমেই লিস্টটি দেখে নিন এবং সেখানে আপনার প্রিন্টারটি রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নিন। আর যদি থেকে থাকে তাহলে নিচের ধাপগুলি অনুসরন করুন।
এখনকার সময়ে বাজারে থাকা বেশিরভাগ ফোনেই বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সমর্থিত স্মার্টফোনগুলোতে ক্লাউড প্রিন্টের সুবিধা থাকে। আর যদি নাও থাকে, তাহলে এখানে ক্লিক করে অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিন এবং প্লে-ষ্টোরের নির্দেশাবলী অনুসরন করুন।
অ্যাপটি একবার ভালোভাবে ইনষ্টল হয়ে গেলে আপনাকে আর নিজে থেকে কিছু করতে হবে না বা অ্যাপটিকে আলাদাভাবে রান করাতে হবে না। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপনার ফোনে একটি অ্যাড-অনের মত কাজ করবে। তবে আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আপনি ফোনে যে গুগল অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করছেন এবং যে অ্যাকাউন্টে আপনার ক্লাউড প্রিন্টারগুলি সংযুক্ত রয়েছে তা যেন এক হয়। এবার ডকুমেন্ট প্রিন্ট করার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করুন।
আপনি চাইলে বিভিন্ন ওয়েবপেজসহ আপনার জিমেইল ম্যাসেজগুলোও গুগল ক্লাউড প্রিন্টের মাধ্যমে প্রিন্ট করতে পারবেন। প্রক্রিয়াটি প্রায় একই বলা যায়, তাই আমার মনে হয় না এ ব্যাপারে আপনার খুব বেশি সমস্যা হবে।
স্মার্টফোনের এই যুগের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম পরিচালিত ডিভাইসগুলি এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। বর্তমানে ইমেইল করা, অফিশিয়াল ডকুমেন্ট সম্পাদনা করা, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে একে অন্যের সাথে কথা বলা, ভিডিও কনফারেন্স করা ইত্যাদি কাজের জন্য মানুষ আর ডেক্সটপ কম্পিউটারের উপর নির্ভরশীল নয়। মাত্র কয়েকটি ট্যাপের মাধ্যমে এবং কিছু অ্যাপ ডাউনলোডের মাধ্যমে এমন সব কাজই করা সম্ভব যা আগে কম্পিউটার ছাড়া করা যেতো না।
অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে প্রিন্ট করার প্রক্রিয়াটি আরো সহজ থেকে সহজতর করার জন্য গুগল প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে গুগল ক্লাউড প্রিন্ট সেটআপ করা তুলনামুলকভাবে একটু জটিল হলেও ভবিষ্যতে এটি ব্যবহারকারীদের জন্য আরো অনেক বেশি সহজ হয়ে উঠবে। আর গুগল প্রতিনিয়ত যেভাবে নতুন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের চমকে দিচ্ছে তাতে সামনে হয়তো কাউড প্রিন্টিং এরই আরো উন্নত কোন প্রযুক্তি আমরা দেখতে পারি।

আমি একজন টেকনলোজি বিষয়ক ফ্রিল্যান্স আর্টিকেল রাইটার। বিভিন্ন টেকনলোজি বিষয়ে বিশদ রিসার্চ করার পরে অনলাইনে সবার সাথে সে-সব তথ্য শেয়ার করায় আমি আনন্দ অনুভব করি। টেক ট্রেইনির সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত।

দারুণ, ফোন থেকেই প্রিন্ট দেয়া যাবে। চামে ভার্সিটির প্রিন্টার ইইজ করে দরকারি প্রিন্টগুলো করে নেয়া যাবে। ধন্যবাদ রাশেদ ভাই, অসাধারণ এই লেখাটির জন্যে।
প্রিন্টারটা কোন অ্যাকাউন্টে অ্যাড করবেন তা জানাবেন। আমারো কিছু প্রিন্ট করার দরকার ছিলো। 🙂