We never sell any copy / duplicate / reflica product
Hotline: 01712867627
0 ৳ 0.00

Cart

No products in the cart.

লিপ বাম নাকি লিপ ক্রিম? শীতে ঠোঁট ফাটার কারণ ও সমাধান

লিপ বাম নাকি লিপ ক্রিম

শীতে ঠোঁট ফাটা এমন একটা সমস্যা, যা প্রায় সবারই জীবনে কোনো না কোনো বছর এসেছে। ঠোঁট ফাটলে আমরা প্রথমেই ছুটি দোকানে, আর তখন প্রশ্নটা সামনে আসে: লিপ বাম নাকি লিপ ক্রিম? দুটোই ঠোঁট নরম রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, অথচ কোনটা কখন কাজে লাগবে, তা না জানলে ঠোঁটের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

এই লেখায় এক অফিস-ভ্রমণের গল্পের হাত ধরে আমরা শীতে ঠোঁট ফাটার কারণ থেকে শুরু করে লিপ বাম আর লিপ ক্রিমের পার্থক্য পর্যন্ত সবকিছু সহজ ভাষায় বুঝে নেব।

এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-

শ্রীমঙ্গলের কুয়াশামাখা সকাল

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অফিসের বার্ষিক ভ্রমণ পড়ল শ্রীমঙ্গলে। ভোরের কুয়াশা তখনো চা-বাগানের মাথায় ঝুলে আছে, আর দলের সবাই গরম চায়ের কাপ হাতে নিয়ে সেই দৃশ্যের ছবি তুলছে। রুমানা আর সাইফও ছিল সেই দলে। কিন্তু দুজনের মনে ছবির চেয়ে বড় একটা চিন্তা ঘুরছিল, আর সেটা ছিল নিজেদের ঠোঁট নিয়ে।

রুমানার ঠোঁটে সাদা সাদা চটা উঠছিল, আর হাসতে গেলেই ঠোঁটের কোণে জ্বালা করছিল। লিপস্টিক লাগাতে গেলে রং ফাটলের ভাঁজে জমে একটা বিশ্রী দাগ ফেলত। সাইফের সমস্যা আরও বেশি। তার নিচের ঠোঁটের মাঝখানে একটা ফাটল এমনভাবে বসে গিয়েছিল যে চা খেতে গেলেই চিনচিন করে ব্যথা করত, আর সকালে হাসতে গিয়ে একবার রক্তও বেরিয়েছিল।

“আমি তো সারাদিন লিপ বাম লাগাই,” রুমানা বিরক্ত গলায় বলল। “পকেটে সবসময় একটা থাকে। দিনে দশবার লাগাই, তবু কিছুতেই কাজ হয় না।”

“আমি তো কিছুই লাগাই না,” সাইফ ঠোঁট চেটে নিয়ে বলল। “মাঝে মাঝে জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নিই, তাতে একটু আরাম লাগে।” তারপর হাত তুলে ঠোঁটের একটা চটা ছিঁড়ে ফেলল।

ঠিক তখনই দলের সবচেয়ে সিনিয়র সহকর্মী তনিমা আপা পেছন থেকে বলে উঠলেন, “দুজনেই থামো। একজন বেশি লাগাচ্ছ, আরেকজন ভুলভাবে সামলাচ্ছ। দুটোই ঠোঁটের জন্য খারাপ।”

তনিমা আপা অফিসে ঢোকার আগে বছর কয়েক একটা প্রসাধনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ক্লাস নিয়েছেন। ত্বক আর প্রসাধনী নিয়ে তাঁর জ্ঞানের কথা অফিসের সবাই জানে।

ঠোঁটই কেন সবার আগে ফাটে?

চায়ের কাপ নামিয়ে তনিমা আপা বসলেন বাগানের বেঞ্চিতে। রুমানা আর সাইফ তাঁর দুপাশে।

“সবার আগে বোঝো, ঠোঁটের ত্বক শরীরের বাকি ত্বকের মতো না,” তিনি শুরু করলেন। “ঠোঁটের চামড়া অনেক পাতলা, আর এখানে তেল তৈরির গ্রন্থি প্রায় নেই বললেই চলে। মুখ বা হাতের ত্বক নিজের তেলে কিছুটা সুরক্ষিত থাকে। ঠোঁটের সেই সুরক্ষা নেই। তাই শুকনো আবহাওয়ায় ঠোঁট সবচেয়ে আগে ধরা খায়।”

শীতে ঠোঁট ফাটার পেছনে যেসব কারণ কাজ করে, তিনি এক এক করে বললেন:

  • শুষ্ক বাতাস। শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, আর সেই বাতাস ঠোঁট থেকে পানি টেনে নেয়।
  • কম পানি খাওয়া। শীতে তেষ্টা কম লাগে, তাই অনেকেই পানি কম খান। এতে ত্বক ভেতর থেকেও শুষ্ক হয়ে যায়।
  • ঠোঁট চাটা। লালা উবে যাওয়ার সময় ঠোঁট থেকে আরও আর্দ্রতা টেনে নিয়ে যায়। তাই চাটলে ঠোঁট ভেজা লাগে ঠিকই, কিন্তু একটু পরেই আরও শুকিয়ে যায়।
  • কড়া রোদ ও ঠান্ডা হাওয়া। শীতের রোদেও অতিবেগুনি রশ্মি থাকে, আর ঠান্ডা হাওয়া ঠোঁটের সূক্ষ্ম ত্বককে রুক্ষ করে দেয়।
  • গরম চা-কফি আর ঝাল-মশলাদার খাবার। বারবার ঠোঁট ছুঁয়ে যাওয়ায় ত্বক জ্বালা বা শুষ্কতা অনুভব করতে পারে।

“আর সাইফ,” তনিমা আপা ভুরু তুলে তাকালেন, “ঠোঁটের চটা ছেঁড়া সবচেয়ে বড় ভুল। এতে নিচের কাঁচা ত্বক বেরিয়ে আসে, রক্ত পড়ে, আর ঠোঁট সারতে আরও দেরি হয়।”

সাইফ লজ্জায় চুপ করে রইল।

লিপ বাম আসলে কী?

“এবার আসল প্রশ্নে আসি,” বলে তনিমা আপা রুমানার হাত থেকে লিপ বামের স্টিকটা নিলেন। “এটা কী জিনিস, জানো?”

“ঠোঁট নরম রাখার জিনিস?” রুমানা সংশয়ে বলল।

“আংশিক ঠিক,” তিনি হাসলেন। “লিপ বাম সাধারণত মোম আর তেল-জাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। মধুমোম, পেট্রোলিয়াম জেলি বা শিয়া বাটারের মতো উপাদান থাকে এতে। এর মূল কাজ হলো ঠোঁটের ওপর একটা পাতলা সুরক্ষা-স্তর তৈরি করা, যাতে ঠোঁটের ভেতরের আর্দ্রতা বাইরে উবে না যায় আর শুকনো হাওয়া কম ক্ষতি করে।”

লিপ বামের সুবিধাগুলো তিনি একে একে বললেন:

  • সুরক্ষা দেয়। ঠোঁটের ওপর এক ধরনের আবরণ বানিয়ে বাতাস ও ঠান্ডা থেকে বাঁচায়।
  • ব্যবহার সহজ। স্টিক বা ছোট কৌটায় আসে, পকেট বা ব্যাগে নিয়ে ঘোরা যায়।
  • দিনভর ব্যবহার উপযোগী। চা-খাবারের পর বা বাইরে বেরোনোর আগে দ্রুত লাগিয়ে নেওয়া যায়।
  • এসপিএফযুক্ত বিকল্প মেলে। শীতের রোদে ঠোঁট বাঁচাতে এটি কাজে আসে।

দিনের বেলার জন্য একটা লিপ বাম খুঁজলে Vaseline Lip Therapy দেখতে পারেন। এটি বিভিন্ন ভেরিয়েন্টে পাওয়া যায়, তাই নিজের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন।

“তাহলে আমার তো কাজ করার কথা,” রুমানা বলল। “দিনে দশবার লাগাই!”

“সমস্যাটা এখানেই,” তনিমা আপা বললেন। “তোমার ঠোঁট এতটাই শুষ্ক যে শুধু বাম যথেষ্ট নয়। বাম আর্দ্রতা আটকে রাখে, কিন্তু ঠোঁটে যদি আগে থেকেই আর্দ্রতা কম থাকে, তাহলে আটকানোর মতো কিছু থাকে না। তখন ঠোঁটের গভীর পরিচর্যার জন্য আরেকটু ঘন কিছু দরকার হয়।”

তাহলে লিপ ক্রিম বা লিপ মাস্ক কী?

তনিমা আপা এবার ব্যাগ থেকে একটা ছোট টিউব বের করলেন। “এটা লিপ ক্রিম। কেউ কেউ একে লিপ ট্রিটমেন্ট বা লিপ মাস্কও বলে।”

নামগুলো নিয়ে একটা কথা তিনি স্পষ্ট করে দিলেন। “বাজারে এই নামগুলোর কোনো কড়া সংজ্ঞা নেই। কোম্পানিভেদে একই জিনিসকে নানা নামে ডাকা হয়। তাই নামের চেয়ে বেশি দেখতে হবে ভেতরের টেক্সচার আর কাজ।”

সাধারণভাবে লিপ ক্রিমের বৈশিষ্ট্য এমন:

  • বেশি নরম ও মাখনের মতো। টিউব বা ছোট জারে আসে, স্টিকের মতো শক্ত হয় না।
  • গভীর পরিচর্যায় জোর। এতে আর্দ্রতা জোগানো উপাদান আর তেল-জাতীয় উপাদান বেশি থাকে।
  • রাতে ব্যবহারের জন্য ভালো। ঘুমানোর আগে পুরু করে লাগিয়ে রাখলে সকালে ঠোঁট অনেক নরম লাগে।
  • ফাটা ও রুক্ষ ঠোঁটে আরাম। তবে দিনভর বাইরে ব্যবহারে একটু চটচটে মনে হতে পারে।

সাইফ জানতে চাইল, “তাহলে ঠিক কোনটা বেছে নেব, আপা?”

তনিমা আপা মুচকি হাসলেন। “এখানেই গল্পের আসল অংশ। উত্তরটা সবার এক নয়। চলো, আগে ঠোঁটের ভেতরের উপাদান আর কার জন্য কোনটা, সেটা দেখি।”

উপাদান: কী দেখবেন, কী এড়াবেন

চায়ের বিরতির পর তনিমা আপা সবার ঠোঁটের পণ্য নিয়ে বসলেন। রুমানার বাম হাতে নিয়ে বললেন, “প্যাকেটের পেছনের উপাদানের তালিকাটা পড়তে শেখো। এটাই আসল পরিচয়।”

যেসব উপাদান ঠোঁটের জন্য সাধারণত উপকারী:

  • পেট্রোলিয়াম জেলি, মধুমোম ও অন্যান্য মোম: ঠোঁটের ওপর আস্তরণ বানিয়ে আর্দ্রতা আটকে রাখে।
  • শিয়া বাটার ও কোকো বাটার: ঠোঁটকে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।
  • গ্লিসারিন ও হায়ালুরনিক অ্যাসিড: ঠোঁটে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • সেরামাইড ও ভিটামিন ই: ঠোঁটের সূক্ষ্ম ত্বকের প্রাকৃতিক আবরণ রক্ষায় কাজে আসে।
  • এসপিএফ: রোদে বেরোলে ঠোঁটের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।

যেগুলো সম্পর্কে একটু সতর্ক থাকা ভালো:

  • কড়া মেন্থল, কর্পূর বা ঝাঁঝালো সুগন্ধ। প্রথমে ঠান্ডা ঠান্ডা আরাম লাগলেও ফাটা ঠোঁটে জ্বালা বা অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
  • বেশি কৃত্রিম স্বাদ বা সুগন্ধ। মিষ্টি স্বাদের পণ্য বারবার ঠোঁট চাটার প্রবণতা বাড়াতে পারে।
  • আগের কোনো অ্যালার্জি থাকলে সেই উপাদান। যেমন কারও ল্যানোলিন বা মধুমোমে সমস্যা হতে পারে।

“আর একটা কথা,” তনিমা আপা যোগ করলেন, “কোনো পণ্য লাগানোর পর ঠোঁটে জ্বালা, ফোলা বা চুলকানি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে দাও।”

কার জন্য কোনটা?

রুমানা আর সাইফ তখন নিজেদের ভুলটা বুঝতে পারছে। তনিমা আপা একটা সহজ তালিকা করে দিলেন।

  • হালকা শুষ্কতা বা প্রতিদিনের সুরক্ষা: লিপ বাম। দিনের বেলা এসপিএফযুক্ত বাম ভালো কাজ করে।
  • ফাটা, চটা ওঠা বা অনেক শুষ্ক ঠোঁট: রাতে লিপ ক্রিম বা লিপ মাস্ক, দিনে হালকা বাম।
  • লিপস্টিক ব্যবহার করেন: লিপস্টিকের আগে পাতলা স্তরে বাম, আর রাতে লিপস্টিক ভালোভাবে তুলে ক্রিম।
  • সংবেদনশীল ঠোঁট: সুগন্ধিমুক্ত ও কম উপাদানের পণ্য। নতুন কিছু ঠোঁটে লাগানোর আগে হাতের ভেতরের দিকে পরীক্ষা করে নিন।
  • ব্যস্ত দিন, বারবার বাইরে যাওয়া: পকেটে বা ব্যাগে স্টিক-বাম, আর বাড়িতে ক্রিম।

রুমানা হেসে বলল, “তার মানে আমার বাম ঠিকই আছে, আমি শুধু ক্রিম বাদ দিয়ে চলছিলাম।”

“আর সাইফের পুরো ব্যবস্থাটাই নতুন করে সাজাতে হবে,” আপা হাসলেন।

দিন ও রাতের রুটিন: তনিমা আপার তিন ধাপ

আপা এক টুকরো কাগজে তিনটা ধাপ লিখে সাইফের হাতে দিলেন:

  • সকালে: ঠোঁট ধুয়ে নিন, মুছে শুকিয়ে নিয়ে এসপিএফযুক্ত বাম লাগান।
  • দিনের বেলা: চা, কফি বা খাবারের পর বাম আবার লাগিয়ে নিন। ঠোঁট চেটে ভেজাবেন না।
  • রাতে: ঘুমানোর আগে পুরু স্তরে লিপ ক্রিম বা লিপ মাস্ক লাগান। লিপস্টিক থাকলে আগে নরম ভাবে তুলে নিন।

    ঠোঁটে চটা উঠলে কী করবেন, সেটাও আপা বুঝিয়ে দিলেন। “টেনে ছেঁড়া চলবে না। বরং রাতে মোটা করে ক্রিম লাগাও, সকালে নরম, ভেজা কাপড়ে আলতো করে মুছে নাও। চটা আপনাআপনি সরে যাবে। আর ঠোঁট একেবারে ফেটে না থাকলে সপ্তাহে একবার খুব হালকা হাতে ঘষা যেতে পারে।”

    ঠোঁট ফাটার পেছনের অভ্যাসগুলো

    সাইফ জানতে চাইল, “শুধু পণ্য বদলালেই কি হবে?”

    “না,” আপা বললেন। “কিছু অভ্যাসও বদলাতে হবে।”

    • ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন। লালা শুকিয়ে যাওয়ার সময় ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়।
    • পানি খান। শীতে তেষ্টা কম লাগলেও নিয়মিত পানি পান করুন।
    • ঠোঁটের চটা টানবেন না। এতে কাঁচা ত্বক বেরিয়ে আসে।
    • ঘরের বাতাস শুষ্ক হলে রাতে ঘরে সামান্য আর্দ্রতা রাখার চেষ্টা করুন।
    • ম্যাট লিপস্টিক সাবধানে। শুষ্ক ঠোঁটে ম্যাট লিপস্টিক ফাটা আরও স্পষ্ট করে।
    • ঠান্ডা হাওয়ায় ঠোঁট ঢাকুন। বাইরে বেরোলে মাফলার বা মাস্ক ব্যবহার করলে সুরক্ষা মেলে।

    পুরুষদের জন্য আলাদা কিছু কথা

    সাইফের মতো অনেক পুরুষ ভাবেন, লিপ বাম মানে মেয়েদের জিনিস। অথচ ঠোঁটের ত্বকের চাহিদা নারী-পুরুষে একই। শীতে ঠোঁট ফাটলে ব্যথা, জ্বালা আর খাওয়ার কষ্ট সবারই হয়।

    • রঙহীন ও সুগন্ধিমুক্ত বাম বেছে নিতে পারেন, যাতে কোনো রং বা গন্ধের ঝামেলা নেই।
    • পকেটে ছোট একটা স্টিক রাখলেই যথেষ্ট।
    • শেভ করার সময় বা বাইরে কাজের সময় রোদে থাকলে এসপিএফযুক্ত বাম বেশি কাজে আসে।

    ঠোঁটের যত্নে যে ভুলগুলো আমরা করি

    • একবারে অনেক পণ্য একসঙ্গে লাগানো। কোনটা কাজ করছে বোঝা যায় না, আর জ্বালার ঝুঁকি বাড়ে।
    • শুধু বাম লাগিয়ে ক্রিম বাদ দেওয়া। খুব শুষ্ক ঠোঁটে বাম একা যথেষ্ট না-ও হতে পারে।
    • অতিরিক্ত ঝাঁঝালো বা সুগন্ধি পণ্য ব্যবহার। ফাটা ঠোঁটে জ্বালা বাড়ায়।
    • লিপস্টিক না তুলে ঘুমানো। সারারাত শুষ্কতা চলতে থাকে।
    • ঠোঁটের চটা টেনে তোলা। এতে ফাটা আরও গভীর হয়।
    • এসপিএফ বাদ দেওয়া। শীতের রোদেও ঠোঁট পুড়তে পারে।

      সব প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায়

      লিপ বাম লাগালেও ঠোঁট আরও শুকিয়ে যায় কেন?

      • অনেক সময় বামের ঝাঁঝালো উপাদান বা সুগন্ধ ঠোঁটে জ্বালা ধরায়, আবার কেউ কেউ বারবার ঠোঁট চেটে ফেলেন। এর সঙ্গে খুব শুষ্ক ঠোঁটে বাম একা যথেষ্ট হয় না, তখন রাতে ক্রিম যোগ করা দরকার। সুগন্ধিমুক্ত পণ্যে বদলে দেখতে পারেন।

      লিপ বাম আর লিপ ক্রিম কি একসঙ্গে ব্যবহার করা যায়?

      • যায়, এবং এটাই সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা। রাতে লিপ ক্রিম বা মাস্ক, আর দিনে বাম। ক্রিমের ওপরেও চাইলে হালকা বাম লাগানো যায়।

      লিপস্টিকের আগে কোনটা লাগাব?

      • পাতলা স্তরে বাম লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, তারপর লিপস্টিক। রাতে লিপস্টিক তুলে ক্রিম লাগান।

      ঘি, মধু বা নারকেল তেল কি ঠোঁটে লাগানো যায়?

      • অনেকে ঘরোয়া ভাবে এসব ব্যবহার করেন, কারও কারও ভালোও লাগে। তবে সবার ত্বকে মানাবে এমন নিশ্চয়তা নেই, অ্যালার্জি হতে পারে। প্রথমে অল্প করে পরীক্ষা করুন, আর জ্বালা হলে বন্ধ করুন।

      ছোটদের ঠোঁটে বড়দের বাম লাগানো কি ঠিক?

      • শিশুদের ত্বক বেশি সংবেদনশীল। তাদের জন্য সুগন্ধিমুক্ত, শিশুবান্ধব পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। সমস্যা বাড়লে শিশু বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

      একটা লিপ পণ্য কাজ করছে কি না, কীভাবে বুঝব?

      • এক থেকে দুই সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহারের পর ঠোঁট কতটা নরম লাগছে, জ্বালা ও চটা কমছে কি না, তা দেখুন। দুই-এক দিনে বিচার করবেন না।

      শেষ কথা: ঠোঁট আসলে আপনাকে কিছু বলছে

      শ্রীমঙ্গল থেকে ফেরার পথে বাসের জানালার ধারে বসে রুমানা আয়নায় নিজের ঠোঁট দেখছিল। চটাগুলো কমে এসেছে, কোণের জ্বালাও আর নেই। পাশের সিট থেকে সাইফ পকেট থেকে সাদা একটা স্টিক বের করে হেসে বলল, “এবার আমি সঙ্গে রাখি।”

      তনিমা আপা সামনের সিট থেকে ঘুরে তাকিয়ে বললেন, “ঠোঁট ফাটা মানে ঠোঁট তোমাকে কিছু বলছে। শুধু শুনতে জানতে হয়।”

      শীতে ঠোঁট ফাটলে লিপ বাম নাকি লিপ ক্রিম, এই প্রশ্নের কোনো একটা উত্তর নেই। আপনার ঠোঁট কতটা শুষ্ক, দিনের কোন সময়, আর আপনি কী অভ্যাসে চলছেন, এগুলোই ঠিক করে কোনটা কাজে আসবে। সাধারণভাবে দিনে বাম আর রাতে ক্রিম, এই দুই ধাপই বেশিরভাগ মানুষের জন্য ভালো শুরু।

      আপনার শীতের ঠোঁটের গল্পটা কেমন, আর কোন পদ্ধতিটা আপনার জন্য কাজ করেছে? নিচে কমেন্টে আমাদের জানান।

      You might be interested in …

      Leave a Reply

      Your email address will not be published. Required fields are marked *

      Chat Now