We never sell any copy / duplicate / reflica product
Hotline: 01712867627
0 ৳ 0.00

Cart

No products in the cart.

কোডোমো নাকি জনসন – আপনার সন্তানের জন্যে কোনটি ভাল?

কোডোমো নাকি জনসন

তাকের সামনে থমকে যাওয়া

বাইরে তখন টিপটিপ বৃষ্টি। ঘড়িতে সন্ধ্যা সাতটা। সুপারশপের ঠান্ডা আলোর নিচে ফাহিম ট্রলি ঠেলছে, আর তানিয়া ঠিক বেবি কেয়ারের তাকের সামনে এসে থমকে দাঁড়াল। বাঁদিকে নীল-সাদা চেনা বোতলের সারি, জনসন। ডান দিকে হাসিখুশি সিংহের ছবি আঁকা রঙিন প্যাকেট, কোডোমো।

“আমি তো ভেবেছিলাম পাঁচ মিনিটের কাজ,” ফাহিম ফিসফিস করে বলল। “শুধু একটা শ্যাম্পু আর একটা পাউডার নিতে এসেছি।”

“পাঁচ মিনিট?” তানিয়া ঘুরে তাকাল। তার চোখে তখন নতুন মায়ের সেই গভীর মনোযোগ। “ইশার বয়স সাত মাস, ফাহিম। ওর নরম গায়ে যা লাগবে, সেটা আমি তাড়াহুড়ো করে বাছতে পারব না।”

ট্রলির সিটে বসে ইশা তখন একটা ছোট্ট খেলনা জিরাফের কান চিবোতে ব্যস্ত। তার ঠোঁটের ফাঁকে, নিচের মাড়িতে, উঁকি দিচ্ছে ধবধবে ছোট্ট একটা সাদা বিন্দু। প্রথম দাঁত। গত রবিবার সকালে সেটা আবিষ্কার করে তানিয়া এমন চিৎকার দিয়েছিল যে ফাহিম ভেবেছিল বুঝি ঘরে আরশোলা উড়ে এসেছে।

“দাঁত উঠেছে মানে এখন আমাদের সামনে দুটো আলাদা প্রশ্ন,” তানিয়া বলল। “গায়ের যত্ন একরকম, দাঁতের যত্ন আরেকরকম। আর দুই প্রশ্নেই এই দুটো নাম আমার সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে।”

ফাহিম মাথা চুলকে বলল, “তাহলে তুমিই বলো, কোনটা ভাল? জনসন, নাকি কোডোমো?“

তানিয়া হেসে ফেলল। “সেটাই তো জানতে এসেছি।”

প্রিয় পাঠক, প্রশ্নটা শুধু ফাহিম আর তানিয়ার নয়। আপনিও হয়তো কখনো এমন কোনো তাকের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন। একদিকে ছোটবেলার চেনা নাম, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের মায়েদের মুখে মুখে ঘোরা আরেকটি নাম। হাতে সময় কম, মনে দুশ্চিন্তা বেশি, আর সামনে ঘুমন্ত বা হাসিমুখ একটা ছোট্ট মানুষ, যার জন্য আপনি সবচেয়ে ভালোটাই চান। চলুন, ওদের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও খুঁজে দেখি উত্তরটা কোথায় লুকিয়ে আছে।

দাদির ফোন

ঠিক তখনই তানিয়ার ফোন বেজে উঠল। পর্দায় ভেসে উঠল একটাই শব্দ: “মা”। অর্থাৎ ফাহিমের মা, ইশার দাদি।

“হ্যালো মা… জি, এখন দোকানে আছি।”

“কী কিনছিস ওখানে?” ওপাশ থেকে দাদির গলা ভেসে এল, স্পিকারে না দিলেও ফাহিম পাশ থেকে শুনতে পাচ্ছিল। “জনসন ছাড়া অন্য কিছুতে হাত দিবি না, বুঝেছিস? তোর শ্বশুর, ফাহিম, ওর বোন, সবাইকে আমি জনসনের তেল আর পাউডার মাখিয়েই বড় করেছি। ওই গন্ধ নাকে এলেই মনে হয় বাচ্চার গায়ের গন্ধ।”

তানিয়া মুচকি হাসল। দাদির কথায় যুক্তি আছে। কয়েক দশক ধরে ঘরে ঘরে যে নামটা পরিচিত, তার ওপর ভরসা জন্মানো খুবই স্বাভাবিক। শৈশবের স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে কিছু গন্ধ, কিছু বোতলের আকার, কিছু নীল রঙ। অনেক পরিবারে জনসন তাই শুধু একটা পণ্য নয়, প্রায় একটা পারিবারিক অভ্যাস।

কিন্তু তানিয়া একটা জিনিস বুঝতে পারছিল। স্মৃতি আর ভরসা এক জিনিস, আর আজকের শিশুর ত্বকের জন্য কোন পণ্য সবচেয়ে মানানসই, সেটা আরেক জিনিস। দাদির ভালোবাসায় কোনো ভুল নেই। তবু সিদ্ধান্তটা তাকে নিজের চোখ দিয়ে, লেবেল পড়ে নিতে হবে।

“আচ্ছা মা, আমি দেখে নিচ্ছি,” বলে সে ফোন কেটে দিল।

লিফটের সেই আলাপ

ফাহিমের মনে পড়ল গত সপ্তাহের কথা। লিফটে উঠতে উঠতে পাশের ফ্ল্যাটের শিউলি ভাবির সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তাঁর দুই বছরের ছেলে তখন মায়ের কাঁধে মাথা রেখে ঝিমোচ্ছিল।

“আপনারা কোডোমো ট্রাই করেছেন?” ভাবি জিজ্ঞেস করেছিলেন। “আমার ছেলে ওদের কোডোমো টুথপেস্ট ছাড়া ব্রাশই করতে চায় না। ফলের গন্ধ, ফেনাও কম। আর প্যাকেটে সিংহটা দেখলেই ও হাসে।”

ফাহিম তখন ঠিক খেয়াল করেনি। এখন তাকের সামনে দাঁড়িয়ে সেই কথাটা মনে পড়ে গেল। সে ফোনে সার্চ করতে শুরু করল। যা জানল, তা বেশ কৌতূহলজনক। কোডোমো শব্দটি জাপানি, এর অর্থ “শিশু”। শিশুদের মুখের যত্নের পণ্যে এই নামটি জাপানের লায়ন কর্পোরেশনের সঙ্গে পরিচিত। টুথপেস্টের গায়ে লেখা থাকে ফ্লুরাইড আর জাইলিটলের কথা, লেখা থাকে চিনিমুক্ত ফর্মুলার কথা। আবার আমাদের দেশের বাজারে কোডোমো নামে শিশুর পাউডার, লোশন, তেল, ক্রিম, সাবান আর শ্যাম্পুও পাওয়া যায়।

“অর্থাৎ,” ফাহিম বলল, “কোডোমো শুধু দাঁতের নয়, গায়ের যত্নেও আছে?”

“আর জনসন?” তানিয়া জিজ্ঞেস করল। “জনসন তো দাঁতের পেস্ট বানায় না, তাই না?”

ফাহিম আবার সার্চ করল। বাংলাদেশের দোকানগুলোর তালিকায় জনসনের নামে সাধারণত পাওয়া যায় বেবি শ্যাম্পু, লোশন, তেল আর পাউডার। টুথপেস্টের তালিকায় তাদের নাম চোখে পড়ল না।

“তাহলে প্রশ্নটা কিন্তু একটু বদলে গেল,” তানিয়া ধীরে ধীরে বলল। “কে ভাল, সেটা না। কোন কাজের জন্য কে ভাল।”

দুটি নাম, দুটি পরিচয়

এই কথাটাই গোটা গল্পের চাবিকাঠি, তাই একটু থেমে দুটি নামকে পাশাপাশি রেখে দেখা যাক।

জনসন আমাদের অনেকের কাছে শিশুর স্নানের জিনিসের সমার্থক নাম। বেবি শ্যাম্পু, লোশন, তেল, পাউডার, এই চারটি পণ্য নিয়েই তার পরিচিতি সবচেয়ে বেশি। কিছু অনলাইন দোকানের পণ্যের বিবরণে লেখা থাকে, শ্যাম্পুটি হাইপোঅ্যালার্জেনিক, পিএইচ ব্যালান্সড, আর পেরাবেন বা সালফেটমুক্ত। তবে পণ্যের ফর্মুলা দেশ আর সংস্করণ ভেদে আলাদা হতে পারে। তাই দোকানের বর্ণনা নয়, আপনার হাতের বোতলের লেবেলটাই এখানে শেষ কথা।

কোডোমো একটু আলাদা ঘরানার। শিশুর দাঁত আর মুখের যত্নে এর পরিচিতি সবচেয়ে জোরালো। সঙ্গে ত্বক ও স্নানের কিছু পণ্যও বাজারে আছে, যেগুলোর গন্ধ আর বর্ণ সাধারণত হালকা ও ফলের মতো।

“তার মানে দুটোর লড়াই আসলে সব জায়গায় নয়,” ফাহিম বলল। “স্নানের জিনিসে দুজনেই আছে, কিন্তু দাঁতের জিনিসে কোডোমো একাই খেলছে।”

“হ্যাঁ,” তানিয়া মাথা নাড়ল। “তবে আমার মনে হচ্ছে, ব্র্যান্ড নিয়ে এত তর্ক করার আগে আমাদের আরও কয়েকটা জিনিস জানা দরকার। ঠিক কী দেখে আমরা বেছে নেব?”

ডাক্তার আপার তিনটি কথা

তানিয়ার কলেজের বান্ধবী শাম্মী এখন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। রাতে ইশা ঘুমিয়ে পড়ার পর তানিয়া তাকে ফোন করে পুরো গল্পটা বলল। শাম্মী হাসতে হাসতে বলল, “তোরা তো দেখছি ব্র্যান্ডের যুদ্ধ বাধিয়ে বসেছিস! শোন, কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নাম আমি বলব না। শুধু তিনটে কথা মনে রাখ।”

তানিয়া খাতা-কলম টেনে নিল।

“এক, বয়স। বাচ্চার বয়সের জন্য পণ্যটা উপযুক্ত কি না, প্যাকেটে সেটা পড়ে নে। নবজাতকের জন্য যা চলে, বড় বাচ্চার জন্য সেটা চলবে না। আবার উল্টোটাও সত্যি।”

“দুই, উপাদান। গন্ধ বা রঙ নয়, উপাদানের তালিকাটা একবার পড়ে দেখিস। তোর বা ফাহিমের কোনো অ্যালার্জি থাকলে সেটাও মাথায় রাখিস।”

“তিন, তোর নিজের বাচ্চার ত্বক। একজনের গায়ে যে লোশন ভাল কাজ করে, আরেকজনের গায়ে সেটাই ফুসকুড়ি তুলতে পারে। নতুন কিছু ধরার আগে হাতের ভাঁজে বা কানের পেছনে অল্প একটু লাগিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা দেখে নিবি।”

তানিয়া লিখে নিল: বয়স, উপাদান, নিজের বাচ্চার ত্বক। পাশে একটা ছোট্ট বাক্স এঁকে লিখল: “প্যাচ টেস্ট”।

“আর দাঁতের ব্যাপারটা?” সে জিজ্ঞেস করল।

“ওটা কালকে সকালে বলব। এখন আমার ডিউটি শুরু হচ্ছে,” শাম্মী বলল। “তবে এটুকু বলে রাখি, দাঁত ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই যত্ন শুরু করতে হয়। আর পেস্টের পরিমাণটাই এখানে সবচেয়ে বড় ব্যাপার।”

দাঁতের গল্প: পরদিন সকালের ফোন

পরদিন সকালে ইশাকে খাইয়ে দিয়ে তানিয়া চা নিয়ে বসতেই শাম্মীর ফোন এল। ফাহিমও পাশে এসে বসল, হাতে অফিসের ব্যাগ।

“দাঁতের কথা বলি,” শাম্মী শুরু করল। “প্রথম কথা, ব্র্যান্ডের আগে ঠিক করতে হবে, বাচ্চার জন্য ফ্লুরাইডযুক্ত পেস্ট লাগবে কি না। শিশুদের দাঁতের ক্ষয় ঠেকাতে ফ্লুরাইড বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক স্বাস্থ্য-নির্দেশিকায় ফ্লুরাইডছাড়া পেস্টকে ক্ষয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট কার্যকর বলা হয় না। তবে তোদের নিজের দেশের দন্তচিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিস।”

“আর পরিমাণ?” তানিয়া জিজ্ঞেস করল।

“সেটাই সবচেয়ে জরুরি। তিন বছরের কম বয়সী বাচ্চার জন্য অনেক নির্দেশিকায় বলা হয়, পেস্ট নিতে হবে চালের একটা দানার সমান, মানে নামমাত্র একটু। আর বড় বাচ্চাদের জন্য মটরদানার সমান। বাচ্চা যেন পেস্ট গিলে না ফেলে, সেজন্য ব্রাশ করার সময় বড় কেউ পাশে থাকবে। বেশি ফ্লুরাইড গিলে ফেললে ভবিষ্যতের স্থায়ী দাঁতে দাগ পড়ার ঝুঁকি থাকে।”

ফাহিম অবাক হয়ে বলল, “মানে পেস্ট ভাল হলেও পরিমাণ ভুল হলে লাভ নেই?”

“একদম ঠিক। আর আরেকটা মজার বিষয় আছে। বাচ্চাদের পেস্টের ফলের স্বাদ ওদের কাছে লোভনীয়। ফলে ওরা সুযোগ পেলে টিউব থেকে চেটে খেতেও পারে। তাই টিউবটা সবসময় নাগালের বাইরে রাখবি।”

তানিয়া হেসে ফেলল। শিউলি ভাবির ছেলের কথা মনে পড়ল। যে ছেলে পেস্টের জন্য ব্রাশ করে, তার ওপর চোখ রাখা তো আরও বেশি জরুরি।

এবার ফাহিম জিজ্ঞেস করল, “তাহলে কোডোমোর পেস্ট কেমন?”

“আমি ব্র্যান্ড বাছাই করে দেব না, আগেই বলেছি,” শাম্মী হাসল। “তবে বলতে পারি, কোডোমোর বিভিন্ন টুথপেস্টের প্যাকেটে সাধারণত ফ্লুরাইড, জাইলিটল আর চিনিমুক্ত ফর্মুলার কথা লেখা থাকে। বিভিন্ন সংস্করণ বিভিন্ন বয়সের জন্য, আর ফ্লুরাইডের পরিমাণও আলাদা হতে পারে। তাই তোরা হাতে নিয়ে প্যাকেটের বয়সসীমা আর পিপিএম লেখাটা নিজের চোখে দেখে নিবি। যে পেস্টে বয়সের উপযুক্ততা স্পষ্ট লেখা আছে, সেটাই ভরসার।”

ফোন রেখে তানিয়া মুচকি হেসে বলল, “দেখলে? দাঁতের ব্যাপারে জনসনের সঙ্গে কোডোমোর কোনো প্রতিযোগিতাই নেই। আসল তুলনাটা কোডোমোর সঙ্গে বাজারের অন্য শিশু-টুথপেস্টের। সেখানেও কোনটা কাকে হারাল, সেটা নয়, কোনটা ইশার বয়সের সঙ্গে মানায়, সেটাই আসল কথা।”

স্নানঘরের গল্প: ত্বকের যত্নের হিসাব

এবার বাকি রইল স্নানের পণ্য। এই জায়গায় দুই ব্র্যান্ডই আছে। তাই তানিয়া আর ফাহিম মিলে একটা সহজ হিসাব দাঁড় করাল।

প্রথম কথা, শ্যাম্পু আর সাবান। শিশুর চোখে যেন না লাগে, এই কারণে অনেক বেবি শ্যাম্পুতে “টিয়ারলেস” বা চোখে জ্বালা না করার কথা লেখা থাকে। জনসন আর কোডোমো, দুজনেই এই ধরনের পণ্য বানায়। কিন্তু কোনটা মানাবে, সেটা বোঝার একমাত্র উপায় হলো শিশুর মাথার ত্বকে অল্প করে ব্যবহার করে দেখা। কয়েকদিন ব্যবহারের পর যদি চুলকানি, লালচে ভাব বা শুষ্কতা না আসে, তবে সেটা তার জন্য ভাল।

দ্বিতীয় কথা, গন্ধ। দাদির প্রিয় জনসনের চেনা, ক্লাসিক সুবাস আছে। কোডোমোর অনেক পণ্যে ফলের মতো হালকা গন্ধ থাকে। গন্ধ ভালো লাগা মানেই যে ত্বকের জন্য ভালো, তা কিন্তু নয়। কিছু শিশুর সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধি উপাদান অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই তানিয়া ঠিক করল, ইশার ত্বক শুষ্ক বা র‍্যাশপ্রবণ হলে আগে সুগন্ধিমুক্ত বিকল্প দেখবে। আর সেটা বাজারের দুই ব্র্যান্ডের মধ্যেই খুঁজবে, দরকার হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেবে।

তৃতীয় কথা, লোশন আর তেল। গোসলের পর ভেজা ত্বকে অল্প একটু লোশন লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। জনসনেরও লোশন আছে, কোডোমোরও আছে। তেলের ক্ষেত্রেও একই কথা। দুটোই বাজারে মেলে, তবে কার ত্বকে কোনটা মানাবে, সেটা বোতলের গায়ের প্রচারের চেয়ে বাচ্চার নিজের প্রতিক্রিয়াই বেশি ভাল বলে দেয়। নতুন কিছু শুরু করার আগে ছোট সাইজ কিনে চব্বিশ ঘণ্টার প্যাচ টেস্ট করে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ।

প্যাকেটে আরেকটা জিনিস দেখে নিতে ভুলবেন না। শিশুর বয়স। বেশ কিছু পণ্যে “০+” ধরনের চিহ্ন বা বয়সের নির্দেশ থাকে। নবজাতকের ত্বক আরও সংবেদনশীল, তাই তার জন্য পণ্যটা উপযুক্ত কি না, সেটা যাচাই করা জরুরি।

পাউডারের প্রশ্ন

“পাউডার?” ফাহিম জিজ্ঞেস করল। “আমি তো শুধু ওটাই নিতে এসেছিলাম।”

তানিয়া খাতা খুলে দেখল, শাম্মী এ নিয়েও কিছু বলেছিল। অনেক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, পাউডার না দিলেও চলে। কারণ, ধুলোর মতো মিহি কণা শিশুর নাক দিয়ে শ্বাসনালিতে ঢুকে যেতে পারে। যদি ব্যবহার করতেই হয়, তবে এই কয়েকটা কথা মাথায় রাখুন:

  • পাউডার সরাসরি শিশুর মুখের কাছে ঝাড়বেন না। আগে নিজের হাতে নিয়ে, তারপর শরীরের ভাঁজে হালকা করে লাগান।
  • পাউডার কীসের তৈরি, সেটা লেবেলে দেখে নিন। ট্যাল্কভিত্তিক হতে পারে, আবার ভুট্টার শ্বেতসারভিত্তিকও হতে পারে। দেশ ও সংস্করণ ভেদে এই ফর্মুলা বদলায়।
  • ত্বকে ঘামাচি, ক্ষত বা ফুসকুড়ি থাকলে নিজের মতো করে পাউডার না ঘষে ডাক্তারকে দেখান।

“তাহলে পাউডারটা আমরা এখনকার মতো বাদ রাখি?” ফাহিম বলল।

“ডাক্তার বললে তবেই,” তানিয়া মাথা নেড়ে হাসল। “আর যদি লাগেই, তাহলে ওপরের নিয়মগুলো মেনে।”

আসল পণ্য চেনার গল্প

একটা জিনিস তানিয়াকে সারা সপ্তাহ ভাবিয়েছে। বাজারে শিশুর পণ্যের ক্ষেত্রে নকল বা পুরনো পণ্যের ভয় তো আছেই। তাই সে নিজের জন্য একটা ছোট্ট চেকলিস্ট বানিয়ে ফেলেছে।

প্রথমে সিল আর প্যাকেজিং। ভেঙে গেছে, বা আগেই খোলা, এমন কিছু নেবেন না। তারপর মেয়াদ আর ব্যাচ নম্বর। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য শিশুর ত্বক বা দাঁতে কোনোভাবেই লাগানো উচিত নয়। তারপর বিক্রেতা। যেখান থেকে কিনছেন, তাদের পণ্য আসল কি না, সেটা আগে জেনে নিন। দাম যদি অস্বাভাবিক কম মনে হয়, তাহলে একটু সন্দেহ করাই ভালো। আর ছবি দেখে নয়, হাতে নিয়ে লেবেল পড়ে কেনাটাই নিরাপদ।

তাহলে সিদ্ধান্ত কী হলো?

সেই সন্ধ্যায় সুপারশপের তাকের সামনে দাঁড়িয়ে যে প্রশ্নটা ওদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল, সেদিন রাতে তার উত্তর ওরা দুজনে মিলেই গুছিয়ে নিল।

দাঁতের জন্য ওরা ঠিক করল, বয়সের উপযোগী, ফ্লুরাইডযুক্ত একটা শিশু-টুথপেস্ট নেবে। কোডোমো তার একটি বিকল্প হতে পারে। প্যাকেটের বয়সসীমা আর ফ্লুরাইডের পরিমাণ দেখে, চালের দানার সমান পরিমাণে, বড় কারও তত্ত্বাবধানে ব্রাশ করাবে।

স্নানের পণ্যের জন্য ওরা জনসন আর কোডোমো, দুই ব্র্যান্ডেরই ছোট সাইজ নিয়ে দেখল। একটা একটা করে, কয়েকদিনের ব্যবধানে। ইশার ত্বকে যেটা সবচেয়ে ভাল মানাল, সেটাই থাকল। দাদির মন রাখতে একটা জনসন, আর ইশার জন্য যেটা ভাল, সেটা। আসল কথা, ওরা আর ব্র্যান্ডের নাম নিয়ে লড়ল না। ওরা ইশাকে দেখল।

আপনিও হয়তো একই জায়গায় আছেন। চেনা নাম বনাম নতুন নাম, এই দ্বিধায় আপনার সন্তানের জন্য যেটা সবচেয়ে ভাল, সেটা ব্র্যান্ডের নামে লেখা থাকে না। লেখা থাকে আপনার সন্তানের নিজের ত্বকে, নিজের বয়সে, নিজের প্রয়োজনে।

সংক্ষেপে মনে রাখুন

  • কোডোমো আর জনসন প্রতিটি ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। স্নান ও ত্বকের যত্নে দুটোই আছে, কিন্তু শিশুর টুথপেস্টের জন্য বাজারে কোডোমোই বেশি পরিচিত।
  • কোনটা ভাল, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন, কোনটা আপনার সন্তানের বয়স, ত্বক আর প্রয়োজনের সঙ্গে মানায়।
  • নতুন কোনো পণ্য ধরার আগে ছোট সাইজে প্যাচ টেস্ট করুন। হাতের ভাঁজে বা কানের পেছনে অল্প লাগিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা দেখুন।
  • গন্ধ, রঙ বা প্যাকেটের ছবি দেখে নয়, উপাদানের তালিকা আর বয়সসীমা পড়ে কিনুন।
  • শিশুর টুথপেস্টে ফ্লুরাইডের পরিমাণ আর বয়সসীমা দেখুন। তিন বছরের কম বয়সে চালের দানার সমান, বড়দের ক্ষেত্রে মটরদানার সমান, আর ব্রাশ করার সময় বড় কেউ পাশে থাকুন।
  • পাউডারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। মুখের কাছে ঝাড়বেন না, লেবেল দেখুন, দরকার না হলে এড়িয়ে চলুন।
  • সিল, মেয়াদ আর বিক্রেতা যাচাই করে আসল পণ্য কিনুন।
  • ত্বকে র‍্যাশ, লালচে ভাব, দাঁতের সমস্যা বা কোনো সংশয় থাকলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শেষ দৃশ্য

সপ্তাহখানেক পর দাদি এলেন নাতনিকে দেখতে। ইশা তখন বাবার কোলে বসে নতুন শেখা কৌশলে হাসছে, নিচের মাড়িতে ছোট্ট দাঁতটা ঝকঝক করছে।

“ওমা, দাঁত তো দারুণ উঠেছে!” দাদি গলে গেলেন। “কীসে ব্রাশ করাস এটা?”

তানিয়া তাঁকে পুরো গল্পটা বলল। সুপারশপের তাক, শিউলি ভাবির কথা, শাম্মীর তিনটি পরামর্শ, চালের দানার সমান পেস্ট আর প্যাচ টেস্টের হিসাব। দাদি মন দিয়ে শুনলেন। তারপর বললেন, “আমাদের সময়ে তো এত ভাবতে হতো না। যা ছিল, তা-ই মাখাতাম। তোরা অনেক সচেতন।”

“আপনার জনসনও কিন্তু আছে, মা,” ফাহিম হেসে বলল। “ইশার স্নানের পর ওটাই লাগানো হয়।”

দাদির মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটল। তারপর তিনি ইশার গাল টিপে বললেন, “আসলে ব্র্যান্ড যাই হোক, বাচ্চার যত্নের চেয়ে বড় ব্র্যান্ড আর কী আছে!”

ঠিক সেই মুহূর্তে ইশা বাবার আঙুল ধরে একটা চিৎকার দিয়ে উঠল, আনন্দের চিৎকার। ঘরের সবাই হেসে উঠল। বাইরে তখন বৃষ্টি থেমে গেছে।

You might be interested in …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Chat Now