Cart
No products in the cart.

নিজের চুলের ধরন বুঝবেন কীভাবে, প্রশ্নটা সহজ শোনালেও বেশিরভাগ মানুষ সারাজীবন এর উত্তর না জেনেই শ্যাম্পু, তেল আর সিরাম বদলে যান। অথচ চুলের ধরন চিনতে পারলে অর্ধেক সমস্যা আপনাআপনিই মিটে যায়। এই লেখায় এক ভাইবোনের গল্পের সঙ্গে সঙ্গে ঘরে বসেই চুলের ধরন বোঝার সহজ কয়েকটা পদ্ধতি শিখে নেব।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
তিথির ড্রেসিং টেবিলের নিচের ড্রয়ারটা খুললে যে কেউ চমকে যেত। ভেতরে সারি সারি আধখালি শ্যাম্পুর বোতল, কয়েকটা কন্ডিশনার, তিন রকমের হেয়ার সিরাম, আর নামকরা এক ব্র্যান্ডের মাস্ক, যেটার মুখই খোলা হয়নি। প্রতিটা কেনার সময় তিথির আশা থাকত, এটাই হবে সেই এক জিনিস, যা তার চুলকে শান্ত করবে। প্রতিবার আধখানা ব্যবহার করে সে হাল ছেড়ে দিত।
“আমার চুলটাই খারাপ,” সে প্রায়ই বলত। “কোনো কিছুতেই কাজ হয় না।”
তার ছোট ভাই রাকিবের সমস্যা ছিল আরেক রকম। কলেজে ওঠার পর থেকেই তার চুল কিছুতেই বসে থাকত না। সকালে যত্ন করে আঁচড়ে বেরোলে দুপুরের মধ্যে মাথাজুড়ে ফুলে উঠত। জেল দিলে প্রথমে একটু শান্ত হতো, তারপর শক্ত খড়ের মতো দেখাত। রাকিব ভাবত, হয়তো বয়সের আগেই চুলের কোনো গুরুতর সমস্যা শুরু হয়েছে।
একদিন দুজনে একসঙ্গে ঠিক করল, এভাবে আর চলবে না। তারা গেল মিতা আপার সেলুনে, যিনি আঠারো বছর ধরে মিরপুরের এক গলিতে চুল নিয়ে কাজ করছেন।
দুজনকে চেয়ারে বসিয়ে মিতা আপা আয়নার ভেতর দিয়ে তাকালেন। কী কী ব্যবহার করে, সেটা জিজ্ঞেস করলেন না। জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কি নিজের চুলকে চেনো?”
তিথি আর রাকিব মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। “মানে?”
“মানে, তোমার চুল সোজা না ঢেউখেলানো, চিকন না মোটা, ঘন না পাতলা, পানি শুষে নেয় না ঠেলে ফেলে, এসব জানো?” মিতা আপা হেসে বললেন, “জুতো কেনার আগে আমরা পায়ের মাপ দেখি। অথচ চুলের জিনিস কেনার আগে চুলের মাপ কেউ দেখে না।”
কথাটা তিথির মনে গেঁথে গেল। সেদিন থেকেই শুরু হলো তাদের চুল চেনার অভিযান। মিতা আপা বললেন, চুলের ধরন বুঝতে পাঁচটা জিনিস দেখতে হয়: চুলের গড়ন, সুতার মোটা-চিকন ভাব, ঘনত্ব, পানি শুষে নেওয়ার ক্ষমতা আর মাথার ত্বকের অবস্থা। চলুন, এক এক করে দেখা যাক।
মিতা আপা প্রথমেই বললেন, “কাল সকালে চুল ধুয়ে কোনো প্রোডাক্ট না লাগিয়ে এমনিতেই শুকাতে দেবে। ড্রায়ার বা আয়রন ছোঁয়াবে না। শুকিয়ে গেলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভালো করে দেখবে, চুল নিজে থেকে কেমন আচরণ করছে।”
পরদিন দুই ভাইবোন সেটাই করল। শুকিয়ে যাওয়ার পর যা দেখল, মিতা আপাকে এসে বলল। তিনি মাথা নেড়ে চারটা ভাগ বুঝিয়ে দিলেন।
নামেই বোঝা যায়। চুল মাথার ত্বক থেকে প্রায় সোজা নেমে আসে, কোথাও বাঁক নেয় না। এই চুল সাধারণত চকচকে হয়, কারণ মাথার প্রাকৃতিক তেল সহজেই চুলের গা বেয়ে নিচে নামতে পারে। তবে এর একটা অসুবিধাও আছে। তেল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে চুল তাড়াতাড়ি তেলতেলে হয়ে যায়, আর ভলিউম ধরে রাখা কঠিন।
এই চুল সোজাও নয়, পুরোপুরি কোঁকড়াও নয়। চুলের গায়ে হালকা “S” আকৃতির ঢেউ থাকে, বিশেষ করে মাঝখান থেকে নিচের দিকে। আর্দ্র আবহাওয়ায় ঢেউ বেড়ে যায়, আর শুকনো দিনে একটু ঝুলে পড়ে। সোজা আর কোঁকড়ার মাঝামাঝি বলে এই চুলের যত্ন অনেকেই ভুল বোঝেন।
এখানে চুলের প্রতিটি গুচ্ছ স্পষ্ট স্প্রিংয়ের মতো পাকানো থাকে। কোঁকড়া চুল দেখতে অপূর্ব, কিন্তু মাথার ত্বকের তেল চুলের ডগা পর্যন্ত সহজে নামতে পারে না। ফলে নিচের দিকটা শুষ্ক হয়ে যায়, আর জটও পাকায় বেশি।
এই চুল খুব ছোট ছোট ও ঘন প্যাঁচে পাকানো থাকে। দেখে মনে হয় চুল ছোট, অথচ টেনে সোজা করলে আসলে অনেক লম্বা। এই ধরনের চুল সবচেয়ে বেশি শুষ্কতা আর ভাঙার ঝুঁকিতে থাকে, তাই আর্দ্রতা ধরে রাখাই এর যত্নের মূল কথা।
তিথির চুল শুকিয়ে সোজা, কিন্তু ডগার দিকে সামান্য বাঁকা ছিল। রাকিব আয়নায় নিজের চুলের দিকে তাকিয়ে লাফিয়ে উঠল। “আমার চুল তাহলে ঢেউখেলানো! এজন্যই কি জেল দিলে এমন হয়?”
“ঠিক ধরেছ,” মিতা আপা বললেন। “ঢেউখেলানো চুলে ভারী জেল দিলে ঢেউ হারিয়ে চুল শক্ত হয়ে যায়।”
এবার মিতা আপা ড্রয়ার থেকে সেলাইয়ের সুতার একটা রিল বের করলেন। “এবার সহজ একটা পরীক্ষা। আঁচড়ানোর সময় যে চুল এমনিতেই ঝরে পড়ে, তার একটা নাও। তারপর সুতার পাশে রেখে তুলনা করো।”
তিথির চুল সুতার চেয়ে অনেক চিকন। রাকিবের চুল প্রায় সুতার সমান। মিতা আপা বুঝিয়ে দিলেন:
সুতার চেয়ে চিকন মনে হলে এটি চিকন চুল। এই চুল সহজেই ভারী হয়ে যায়, ভলিউম ধরে রাখতে পারে না, আর তাড়াতাড়ি তেলতেলে দেখায়। ঘন তেল বা ভারী ক্রিম এই চুলে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
সুতার কাছাকাছি হলে মাঝারি। এই চুল সামলানো সবচেয়ে সহজ, স্টাইলও ভালো ধরে রাখে।
সুতার চেয়ে মোটা হলে এটি শক্ত ও টেকসই চুল। তবে শুকাতে সময় নেয় আর স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক হওয়ার প্রবণতা রাখে। ঘন ও পুরু প্রোডাক্টে এই চুল ভালো সাড়া দেয়।
“তাহলে আমার ভুলটা কোথায়?” তিথি ধীরে ধীরে বলল। “আমার চুল চিকন, আর আমি এতদিন ঘন তেল আর ভারী মাস্ক লাগিয়েছি।”
মিতা আপা আলতো করে হাসলেন। “একটা একটা করে সূত্র মিলছে, তাই না?”
“চুলের সুতা মোটা না চিকন, সেটা এক কথা,” মিতা আপা বললেন। “আর মাথায় কতগুলো চুল আছে, সেটা সম্পূর্ণ আলাদা কথা। একে বলে ঘনত্ব।”
পরীক্ষাটা খুব সহজ। মাঝখান থেকে সিঁথি করে আয়নার সামনে দাঁড়ান, তারপর সিঁথির দুপাশে মাথার ত্বক কতটা দেখা যায়, তাই লক্ষ করুন।
রাকিবের চুল ঘন, আর তিথির মাঝারি। “ঘন চুলে প্রোডাক্ট বেশি লাগে, শুকাতেও বেশি সময় নেয়,” মিতা আপা বললেন। “ঘনত্ব জানলে বোঝা যায় কতটা প্রোডাক্ট নেবে আর কীভাবে ভাগ করে লাগাবে।”
দুই ভাইবোন এতক্ষণে নোট নিতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু মিতা আপার মুখে তখনো একটা রহস্যময় হাসি। “এখন আসল গোপন কথাটা বলি,” তিনি বললেন। “যেটা না জানার কারণেই অধিকাংশ মানুষ ভুল প্রোডাক্ট কেনে।”
“এবার সবচেয়ে মজার পরীক্ষা,” বলে মিতা আপা দুটো কাচের গ্লাসে পানি ভরলেন। “তোমাদের ঝরে পড়া চুল থেকে একটা করে নাও। তেল বা প্রোডাক্ট মাখা নয়, পরিষ্কার চুল। গ্লাসে ফেলে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করো।”
তিথি আর রাকিব গ্লাসের সামনে ঝুঁকে বসল। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, তিথির চুল পানির ওপর ভেসে আছে, আর রাকিবের চুল ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। মিতা আপা বুঝিয়ে দিলেন, একে বলে চুলের পোরোসিটি, অর্থাৎ চুল কত সহজে পানি আর প্রোডাক্ট ভেতরে নেয় এবং ধরে রাখে।
চুল পানির ওপর ভেসে থাকলে বা অনেকক্ষণ পরে ডুবলে ধরে নেওয়া যায়, এর বাইরের আবরণ খুব এঁটে বসা। এই চুল ভিজতে সময় নেয়, শুকাতেও সময় নেয়। প্রোডাক্ট ভেতরে ঢুকতে না পেরে চুলের ওপরেই জমে থাকে, তাই চুল ভারী ও চিটচিটে লাগে। হালকা প্রোডাক্ট আর হালকা গরম পানি এই চুলে ভালো কাজ করে।
চুল ধীরে ধীরে মাঝামাঝি নেমে এলে এটি সাধারণ ও সুষম অবস্থা। এই চুল প্রোডাক্ট গ্রহণ করে, আবার ধরেও রাখে।
চুল দ্রুত ডুবে গেলে বুঝতে হবে আবরণ ফাঁক হয়ে আছে। এই চুল সহজে ভেজে, কিন্তু আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না, তাই দ্রুত শুকায় আর ফুলে ওঠে। জন্মগতভাবে অনেকের চুল এমন হয়। রং করা, ব্লিচ, নিয়মিত আয়রন বা কড়া রোদের কারণেও চুল এমন হয়ে যেতে পারে।
যারা নিয়মিত চুলে রং করেন, তাদের চুলের শোষণক্ষমতা ধীরে ধীরে বদলাতে পারে। Garnier Naturals Hair Color বা অন্য কোনো হেয়ার কালার ব্যবহার করলে রং করার পর কন্ডিশনিং আর আর্দ্রতার দিকে একটু বাড়তি নজর রাখুন।
মিতা আপা একটা সতর্কতা দিলেন। “গ্লাসের পরীক্ষা পুরোপুরি নির্ভুল নয়। চুলে লেগে থাকা বাতাসের বুদবুদ বা অবশিষ্ট প্রোডাক্টে ফল বদলে যেতে পারে। তাই এর সঙ্গে আরেকটা জিনিস দেখো: চুল ভেজাতে কত সময় লাগে, আর শুকাতে কত সময় লাগে।”
রাকিব মাথা চুলকে বলল, “আমার চুল তো ধোয়ার একটু পরেই শুকিয়ে যায়, আর তারপরই ফুলে ওঠে।” মিতা আপা বললেন, “তাহলে তোমার চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় কাজ।”
শেষ ধাপটা চুলের নয়, মাথার ত্বকের। “চুল গাছের মতো,” মিতা আপা বললেন, “আর স্ক্যাল্প তার মাটি। মাটি বুঝলে তবেই গাছের যত্ন ঠিকঠাক হয়।”
চুল ধোয়ার এক-দুই দিনের মধ্যেই গোড়া ভেজা ভেজা ও চটচটে লাগে। তিথির ক্ষেত্রে ঠিক এটাই হতো, কিন্তু চুলের ডগা ছিল শুষ্ক। দুটো একসঙ্গে থাকতে পারে, আর এটা খুবই সাধারণ।
মাথার ত্বক টান টান লাগে, চুলকায়, আর ছোট ছোট সাদা গুঁড়ো ঝরে। অনেকে এটাকে খুসকি ভেবে ভুল করেন।
দুই-তিন দিন পর্যন্ত আরামদায়ক থাকে, না বেশি তেলতেলে, না শুষ্ক।
মিতা আপা আলাদা করে বলে দিলেন, “যদি মাথার ত্বকে লাল দাগ থাকে, তীব্র চুলকানি বা চটা ওঠা কয়েক সপ্তাহেও না কমে, তাহলে শ্যাম্পু বদলে সময় নষ্ট কোরো না। ত্বকের ডাক্তার দেখাও।”
সব মিলিয়ে দুজনের চুলের একটা পরিষ্কার ছবি দাঁড়াল।
তিথির চুল চিকন, ঘনত্বে মাঝারি, গড়নে সোজা থেকে হালকা ঢেউ। স্ক্যাল্প তৈলাক্ত, কিন্তু ডগা শুষ্ক। মিতা আপা তার জন্য ঠিক করে দিলেন:
তিথির মতো চিকন চুলে ডগার জন্য হালকা লিভ-ইন সিরাম খুঁজলে Livon Hair Serum দেখতে পারেন। এটি হালকা তরল সিরাম, আর পণ্যের বিবরণ অনুযায়ী মাথার ত্বকে নয়, চুলের মাঝখান থেকে ডগা পর্যন্ত লাগাতে হয়।
রাকিবের চুল ঢেউখেলানো, মাঝারি সুতার, ঘন, আর আর্দ্রতা ধরে রাখতে অসুবিধা। তার জন্য ব্যবস্থা হলো:
এক মাস পর রাকিব সেলুনে ঢুকল হাসিমুখে। “আপা, আজকাল দুপুরেও চুল ফোলে না!” তিথি পেছন থেকে বলল, “আমার ড্রয়ারের বোতলগুলো এখন শুধু দুটো। বাকিগুলো বন্ধুদের দিয়ে দিয়েছি।”
অনেক পুরুষ ভাবেন, চুলের যত্ন মানে মেয়েদের ব্যাপার। অথচ রাকিবের গল্পই দেখিয়ে দিল, চুলের ধরন বুঝলে ছেলেদেরও সমান উপকার হয়।
আমাদের দেশের আবহাওয়া চুলের ধরনকে নানাভাবে নাড়া দেয়। বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে ঢেউখেলানো আর কোঁকড়া চুল ফুলে ওঠে, আর সোজা চুলও ঝুলে পড়ে। শীতে বাতাস শুষ্ক বলে চুল ও মাথার ত্বক দুটোই টান ধরে। এজন্য একই চুলের জন্য সারা বছর একই রুটিন নাও চলতে পারে। গরমে হালকা প্রোডাক্ট, শীতে একটু বেশি আর্দ্রতা, এটুকু বদলই অনেক সময় যথেষ্ট।
চুলের ধরন চেনা যত্নের জন্য, রোগ নির্ণয়ের জন্য নয়। হঠাৎ করে অনেক বেশি চুল পড়া শুরু হলে, মাথার ত্বকে ঘা বা লাল দাগ দেখা দিলে, কিংবা কোনো জায়গায় চুল গোল হয়ে উঠে যেতে থাকলে ঘরোয়া পরীক্ষার ওপর ভরসা না করে ত্বক বা চুলের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চুল পড়া নিয়ে সচেতন থাকলে চুল পড়া কমানোর লক্ষ্যে তৈরি শ্যাম্পুও পাওয়া যায়, যেমন L’Oréal Paris Elseve Fall Resist 3x Anti-Hairfall Shampoo। তবে এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়, তাই সমস্যা গুরুতর মনে হলে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
হ্যাঁ, অনেকের ক্ষেত্রেই বদলায়। বয়স, শারীরিক পরিবর্তন, রং করা বা তাপের অতিরিক্ত ব্যবহারে চুলের আচরণ বদলে যেতে পারে। তাই কয়েক বছর পরপর ধাপগুলো আবার মিলিয়ে দেখা ভালো।
অবশ্যই। সামনের দিকে ঢেউ আর পেছনে সোজা চুল, এমন অনেকের থাকে। সেক্ষেত্রে যে অংশ সবচেয়ে বেশি সমস্যা করছে, সেটার দিকে নজর দিন।
এর কোনো একক নিয়ম নেই। তৈলাক্ত স্ক্যাল্পে বেশি ঘন ঘন, আর শুষ্ক স্ক্যাল্প ও ঘন কোঁকড়া চুলে কম ঘন ঘন ধোয়া সাধারণত ভালো। নিজের স্ক্যাল্প কেমন অনুভব করছে, সেটাই আসল মাপকাঠি।
সবার জন্য নয়। শুষ্ক ও মোটা চুলে অল্প তেল উপকারী হতে পারে, কিন্তু চিকন ও তৈলাক্ত স্ক্যাল্পের চুলে বেশি তেল ভারী ও চটচটে করে দেয়।
শুষ্ক, রুক্ষ বা ভঙ্গুর চুলে হালকা তেল খুঁজলে Organic Hairfall Oil দেখতে পারেন, যা আরগান এক্সট্র্যাক্টযুক্ত ও নন-গ্রিজি ফর্মুলার। আরও বিকল্প চাইলে Sesa Hair Oil বিভিন্ন ভেরিয়েন্টে পাওয়া যায়।
না, পদ্ধতি একই। গড়ন, সুতার মোটা-চিকন ভাব, ঘনত্ব, শোষণক্ষমতা আর স্ক্যাল্পের অবস্থা, এই পাঁচ ধাপ সবার জন্য প্রযোজ্য।
সেদিন বিকেলে তিথি বাড়ি ফিরে ড্রয়ারটা আবার খুলল। এবার আর আধখালি বোতলের স্তূপ নয়, সুন্দর করে গোছানো মাত্র দুটো বোতল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুলে আঙুল চালিয়ে সে প্রথমবার বলল, “আমার চুল খারাপ না। আমি শুধু ওকে চিনতাম না।”
চুলের যত্ন আসলে দামি প্রোডাক্ট কেনার প্রতিযোগিতা নয়। আগে চুলকে চেনা, তারপর তার প্রয়োজন বোঝা, আর তারপর সেই অনুযায়ী ছোট ছোট পরিবর্তন। আজ রাতেই আপনার চুল মাথা ধুয়ে শুকাতে দিন, আর কাল সকালে আয়নার সামনে এই পাঁচ ধাপ একটা একটা করে মিলিয়ে দেখুন। কয়েক মিনিটের এই পরীক্ষাই আপনার চুলের পরবর্তী সব সিদ্ধান্ত সহজ করে দেবে।
আপনার চুলের ধরন কোনটা বেরোল, আর সেটা জেনে কী নতুন পরিবর্তন আনলেন? নিচে কমেন্টে আমাদের জানান।

আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে এমবিএ করেছি। এর বাইরে আমার বড় পরিচয় হচ্ছে আমি পড়তে ভালোবাসি। বইয়ের প্রতি এই টান থেকেই লেখালেখি শুরু করা। বর্তমানে বই ও মুভি রিভিউ এবং আর্টিকেল লিখি।
