Cart
No products in the cart.

যারা নিয়মিত স্মার্টফোন ব্যাবহার করেন, তাদের প্রায় সবাই কখনো না কখনো এই সমস্যাটিতে পড়েছেন। হয়ত খেয়াল করে থাকবেন, যখন আপনি গেম খেলেন বা ভারী কোন কাজ করেন, সাধারণত তখনই ফোনটা গরম হয়ে যায়।
তবে এটি নিয়ে ভয় পাবার বিশেষ কারণ নেই। কিছুক্ষেত্র বাদে স্মার্টফোন গরম হওয়ার কারণ বেশিরভাগ সময়ই খুব সিম্পল এবং স্বাভাবিক।
আমরা আজকের লেখায় দুইটি ভাগে আলোচনা করব স্মার্টফোন গরম হওয়ার কারণ এবং এক্ষেত্রে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
এখনকার স্মার্টফোনগুলো অনায়াসেই ছোটখাটো যে কোন কম্পিউটারের সমান কাজ করে ফেলতে পারে। কখনো ভেবে দেখেছেন কীভাবে করে? আমরা সবাই মোটামুটি জানি যে কম্পিউটারের সব কাজ আসলে যে মহাজন নিয়ন্ত্রণ করে তার নাম প্রসেসর। ফোনের ব্যাপারেও একই ঘটনা।
আর এই প্রসেসর যখন কাজ করে (আসলে ডিভাইস অন থাকলে সারাক্ষণই এটা কাজ করে) তখন প্রসেসরের স্বাভাবিক ধর্ম অনুযায়ীই এটা তাপ উৎপন্ন করে। যত বেশি কাজ করবে অথবা যত কম মানসম্পন্ন হবে, তত বেশি তাপ উৎপন্ন করবে। প্রসেসর কীভাবে কাজ করে সেটা অন্য এক সময় আলোচনা করা যাবে। আপাতত এটাকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের একটি সাইড ইফেক্ট হিসেবে বিবেচনা করুন।

এখন কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ভিতরে সেই তাপটুকু বের করে দেওয়ার জন্য ফ্যান, হিটসিংক বা ওয়াটার কুলিং সিস্টেমের মতো ব্যবস্থা থাকে। যাতে করে ডিভাইসটি অতিরিক্ত গরমে বিস্ফোরিত না হয় বা এর অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে না যায়। কিন্তু ফোনে সাধারণত সেইসব সিস্টেম দেওয়ার কোন উপায় নেই।
তাই ফোনের ক্ষেত্রে প্রসেসরে যেন অত্যাধিক তাপ উৎপন্ন না হয়, সেজন্য বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারণত প্রসেসরগুলো তৈরীই করা হয় এমনভাবে, যেন স্বাভাবিক কাজকর্মের সময় এর তাপমাত্রা বেড়ে না যায়। আবার প্লাস্টিকের চেয়ে কাঁচ বা ধাতব পদার্থ ভালো তাপ পরিবাহী হওয়ায় এখনকার পাওয়ারফুল ফোনের বডিগুলোও তৈরী হয় কাঁচ বা ধাতব পদার্থ দিয়ে। যাতে করে উৎপন্ন অতিরিক্ত তাপ দ্রুত বের হয়ে যেতে পারে।
কাজের পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে যেহেতু প্রসেসরের উৎপন্ন তাপের পরিমাণও বেড়ে যায়, তাই বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন ফোন তৈরীর আগে প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে নতুন করে ভাবতে হয়। বর্তমানে তো বেশ কিছু ফোনে ওয়াটার কুলিং এর মতো তাপ নিষ্কাশন সিস্টেমও দেখা যায়। তবে আমাদের সাধারণ স্মার্টফোনগুলোতে যেহেতু এরকম কোন সিস্টেম নেই, তাই কাজের পরিমাণ একটু বেড়ে গেলেই এটি গরম হয়ে যায়।

এতক্ষণ স্মার্টফোন গরম হওয়ার স্বাভাবিক কারণটি বললাম, এছাড়াও বেশ কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্মার্টফোন গরম হয়ে যেতে পারে এবং ক্ষেত্র বিশেষে মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এবার চলুন দেখে নিই, সেই কারণগুলো এবং সেক্ষেত্রে আপনার কী করা উচিৎ।
স্মার্টফোন গরম হয়ে গেলে কী করা উচিৎ সেটি নির্ভর করে কেন স্মার্টফোন গরম হচ্ছে তার উপর। সেজন্য কারণগুলো পয়েন্ট আকারে লিখে তার তারপর করণীয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ, আগেই যেমনটি বলেছি, ভারী কাজ বা গেম খেলতে গিয়ে ফোন গরম হওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়, এরকম দুশ্চিন্তার কিছুই নেই। অনেকক্ষণ যাবৎ ফোন চালালেও এরকম গরম হয়ে যেতে পারে।
সেক্ষেত্রে আপনার যেটা করতে হবে, তা হলো— কিছুক্ষণের জন্য ফোনকে রেস্ট দেওয়া। চাইলে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত ফোনটিকে বন্ধ করেও রাখতে পারেন।
চার্জে দেওয়ার সময় ব্যাটারির মধ্য কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়, এর ফলে সামান্য তাপ উৎপন্ন হওয়া আসলে স্বাভাবিক। তবে যদি চার্জের সময় ফোন অতিরিক্ত গরম হতে থাকে, তাহলে একটু দুশ্চিন্তার কারণ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে আপনার করণীয় হবে—

ফোন গরম হওয়ার সবচেয়ে ন্যাচারাল কারণটি হচ্ছে, প্রখর রোদে ফোন ব্যবহার করা। অনেক সময়ই তীব্র রোদে ফোন ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে, কিংবা বাইরে গেলে ব্যবহার না করলেও ফোন রোদের মধ্য থাকে। আর এখনকার বেশিরভাগ মোবাইল স্টিলবডি কিংবা তাপ নিরোধক প্লাস্টিকে তৈরী হওয়ায় খুব সহজেই সূর্যের তাপ শোষণ করে গরম হয়ে যায়।
সেরকম হলে চিন্তার কিছু নেই, যেটি করবেন তা হলো—
এটি আসলে অনেকটা স্বাভাবিক কারণের মধ্যই পড়ে। ফোনে অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড হওয়ার পর বিশেষ করে মেজর আপগ্রেড দেওয়ার পর ফোনে ব্যকগ্রাউন্ডে প্রচুর পরিমাণ কাজ চলতে থাকে। যার ফলে প্রসেসরকে প্রচণ্ড ব্যাস্ত থাকতে হয় এবং তাপ উৎপন্ন হয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আইওএস ১০ এ ফোটো ট্যাগিং এর ফিচার যুক্ত করে, ফলে যারা এটি আপগ্রেড করেন তাদের ক্যামেরায় তোলা শত শত ছবি একটি একটি করে অটোমেক্যালি ট্যাগ হতে থাকে। ব্যাকগ্রাউন্ডে এই প্রচুর পরিমাণ কাজ চলতে থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ফোন গরম হয়ে যায় হাজার হাজার ইউজারের!
শুধু আইওএস নয়, অ্যান্ড্রয়েডের মেজর আপগ্রেডগুলোতেও এই সমস্যাটি দেখা যায়। তাই যদি রিসেন্টলি ওএস আপগ্রেড করার পর ফোন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম হতে থাকে, তাহলে সপ্তাহ খানেক অপেক্ষা করুন। এর মধ্যই আশা করা যায়, ফোন আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। যদি না যায়, তাহলে আপগ্রেড রিমুভ করে আগের ভার্সনে ফিরে যেতে পারেন, নয়ত যোগাযোগ করতে পারেন ফোনের কেয়ার সেন্টারে।
ফোন গরম হওয়ার কারণগুলোর মধ্য এটি সবচেয়ে মারাত্মক। অনেকেই হয়ত ব্যাটারির ফুলে ওঠা বা ফেঁপে যাওয়ার ব্যপারটি দেখেছেন। চার্জে লাগালে বা এমনিতেই প্রচণ্ড গরম হওয়ার পাশাপাশি ব্যাটারি ফুলে উঠার কারণে ফোনের ব্যাককভারও অনেক সময় ভেঙে যায়। বিস্ফোরণ বা আগুন ধরে যাবার মতো ঘটনাগুলো ঘটতে পারে এই কারণে।
তাই যদি দেখেন, ফোনের ব্যাটারি ফেঁপে উঠেছে এবং ফোন গরম হচ্ছে, তাহলে দেরী না করে—

স্মার্টফোন গরম হওয়ার কারণ এবং এক্ষেত্রে যা যা করা করা উচিত সেটি এতক্ষণে জেনে গেছেন এবং বুঝে গেছেন, ফোন মূলত প্রসেসর এবং ব্যাটারির কারণেই গরম হয়ে থাকে। প্রসেসরের কারণে ফোন গরম হলে সেটি অনেকটাই স্বাভাবিক, দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু ব্যাটারি সম্পর্কিত কোন কারণে ফোন গরম হলে, সেটিকে হাল্কাভাবে নেওয়ার কোনই সুযোগ নেই।
পত্রপত্রিকায় আমরা প্রায়ই ফোন বা ল্যাপটপ বিস্ফোরণের কথা জেনে থাকি। একটুখানি সাবধানতা অবলম্বন করলেই অন্তত ফোনের ক্ষেত্রে এ ধরণের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। স্মার্টফোন গরম হওয়ার কারণ আর করণীয়গুলো যদি আপনি এই লেখাটি থেকে প্রথম জানতে পারেন, তাহলে আপনার বন্ধুকেও এটি জানিয়ে দিন; আর কোন প্রশ্ন থাকলে করে ফেলুন কমেন্টে।

মূলত, পাঠক। পড়তেই ভালো লাগে। সেটা কাগজের বই কিংবা স্ক্রিনে ইবুক, যাইহোক না কেন। পাঠ্যবই না হলেই আমি খুশি।
পড়াশোনা করছি পদার্থবিজ্ঞানে।
প্রযুক্তির বিষয়ক লেখা পড়তে সবসময়ই একটু বেশি ভালো লাগে। আর নতুন কিছু জেনে কাউকে সেটা জানাতে পারলে আনন্দটা একশগুণ হয়ে যায়। অবসরে টুকিটাকি লেখার চেষ্টা করার পিছনে সেই লোভটুকু ভালোভাবেই কাজ করে! 🙂
