Cart
No products in the cart.

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন সকল কাজে প্রয়োজন হয়। আর এই সব কাজের প্রয়োজন পূরণ করতে গিয়ে স্মার্টফোনের ব্যাটারি চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। আপনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন আর ঠিক তখন বুঝতে পারলেন আপনার ফোন চার্জ করতে ভুলে গেছেন। আপনাকে ৩০ মিনিটের মধ্যে বের হতে হবে অথচ এই দিকে ফোনের চার্জ একদম নেই। আসলে সেই সময়টা কতটা যন্ত্রনাদায়ক তা আমরা সকলেই বুঝি। তাই, সকলেরই প্রয়োজন দ্রুত চার্জ করার উপায় জেনে রাখা।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
বর্তমানে বিভিন্ন অ্যাপস্ পাওয়া যায় ফাস্ট চার্জিং এর জন্য। এই সব অ্যাপস্ ব্যাকগ্রাউন্ডের সক্রিয় অ্যাপগুলোকে নিস্ক্রিয় রাখে, যাতে হয়তো কিছুটা উপকার হয়। কিন্তু উল্টো এই ফাস্ট চার্জিং অ্যাপস্ চালানোর জন্য প্রয়োজন হয় ব্যাটারির অধিক চার্জের। ফলে এর দ্বারা তেমন কোন উপকার হয় না। এই পদ্ধতিতে ব্যাটারি চার্জ করা কোন বুদ্ধিমানের কাজ না। তাই আজকে আমরা খুব কম সময়ে আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত চার্জ করার কিছু উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।

অনেকে ফাস্ট ব্যাটারি চার্জের জন্য বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করেন আবার দীর্ঘক্ষণ চার্জ ধরে রাখার জন্য থার্ড পার্টির ব্যাটারি সেভিং অ্যাপস ব্যবহার করেন। ব্যাটারি দ্রুত চার্জ করতে এবং চার্জ ধরে রাখতে প্রথমেই আপনাকে এসব অ্যাপস্ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এসব অ্যাপ্লিকেশন ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে ফলে ব্যাটারির ওপর প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে ফোনের সাথেই বিল্ট ইন ব্যাটরি সেভিং সুবিধা দেয়া থাকে, তাই প্রয়োজনে ফোনের ব্যাটারি সেভিং অপশনটি অন রাখতে পারেন। ব্যাটারি সেভিং অপশন অন রেখে ফোন চার্জ দিলে দ্রুত চার্জ হয়। তাই এই অপশনটি একবার ব্যবহার করতে পারেন।
আপনি যদি দ্রুত ব্যাটারি চার্জ করতে চান, আপনাকে অবশ্যই ল্যাপটপ থেকে চার্জ দেয়া কিংবা চার্জের জন্য মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। সব সময় চার্জ দিতে হবে দেয়ালের সকেট থেকে। কেননা, এতে ব্যাটারি সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ পায় এবং দ্রুত চার্জ নিতে থাকে।

ফোনে ফ্লাইট মোডে থাকলে মোটামোটি সব ধরনের খাদক শ্রেনীর অ্যাপস্ বন্ধ থাকে, তাই অতিরিক্ত চার্জ খরচ হয় না। ফ্লাইট মুডি অন থাকলে কল, এস এম এস, নেটওয়ার্ক, জিপিএস বন্ধ থাকে তাই চার্জের সময় ফোন তেমন গরমও হয় না।
এই পদ্ধতিটি বেশ কার্যকর চাইলে একবার যাচাই করে দেখতে পারেন।

সকল প্রযুক্তিবিদের মতে ফোন দ্রুত চার্জ করার শক্তিশালী পদ্ধতি ফোন করে চার্জ দেয়া। ফোন অফ থাকলে ফোনের যাবতীয় কাজ কর্ম বন্ধ থাকে, ফলে চার্জ খুব দ্রুত হয়। ফ্লাইট মোড থেকেও এটা বেশী উপকারী।
আমি নিজেও দ্রুত চার্জ দেয়ার জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকি। তবে আপনাদের যদি জরুরি কল করা বা এস এম এস করার প্রয়োজন হয় তাহলে এটা ব্যবহার না করা ভাল।
ব্যাটারি খুলে চার্জ দিলে খুব দ্রুত ব্যাটারি চার্জ হয়, এটা বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে প্রমাণিত সত্য। আপনিও পদ্ধতি অবলম্বণ করতে পারেন অর্থাৎ ব্যাটারি খুলে চার্জ দিয়ে দেখতে পারেন। অনেকের অভিমত থেকেই জানা গিয়েছে, স্মার্টফোনে ব্যাটারি থাকা অবস্থায় চার্জ দিতে যে সময় লাগে, তার চেয়ে কমপক্ষে ৩ গুণ কম সময়ে চার্জ ফুল হয়ে যায় ব্যাটারি খুলে চার্জ দিলে।
আপনার যখন অনেক দরকারি কাজ থাকে, যখন আপনি কাজের চাপে ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন, তখন এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে দিতে পারেন ব্যাটারি খুলে চার্জ দেয়ার মাধ্যমে। আপনার কাজও সারা হবে, ব্যাটারিও চার্জ হবে।

সাধারণত স্মার্টফোন ৩২ডিগ্রি থেকে ১১৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপে চার্জ হয়। তাই চার্জের সময় কখনই ফোন ব্যবহার করবেন না। চার্জের সময় ফোন ব্যবহার করলে চার্জ যেমন ধীরগতিতে হয় তেমনি তাপ বৃদ্ধি পেয়ে যে কোন সময় ফোন বিষ্ফোরণ হতে পারে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ফোন বিষ্ফোরণ হচ্ছে চার্জের সময় ফোন ব্যবহারের কারণে।
অনেক সময় আমরা ফোন চার্জে লাগিয়ে কথা বলি, এতে করে আপনার কানের কাছে হয়তো বিষ্ফোরণ হতে পারে, তাই সাবধান থাকুন। চার্জের সময় কথা বলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, গেম খেলা মোট কথা সহ সব ধরনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

চার্জ দেয়ার সময় ব্লুটুথ, জিপিএস, ওয়াই-ফাই ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় ফিচারসগুলো বন্ধ রাখুন। অনেকে আবার চার্জে দিয়ে বিভিন্ন ফাইল ডাউনলোড দিয়ে রাখেন, এই কাজ ভুলেও করবেন না। এছাড়া মাঝে মধ্যে চার্জিং করার সময় প্লে স্টোরের অ্যাপস আপডেট হতে থাকে, তাই অটো আপডেট বন্ধ রাখুন। কোন অ্যাপ যদি চালু থেকে থাকে, তাহলে তা বন্ধ করে রাখুন।

সব সময় আপনার ফোনের সাথে যে চার্জার দেয়া হয়েছে, সেই চার্জার ব্যবহার করবেন। আসল চার্জার ব্যবহার না করলে আস্তে আস্তে ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। কম দামি চার্জার ব্যবহার করবেন না। ভাল চার্জারগুলো সাধারণত স্মার্ট হয়, তাই ব্যাটারি ফুল হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে চার্জ বন্ধ হয়ে যায় কিন্ত কম দামি চার্জারগুলোতে এ-সব সুবিধা থাকে না।
এ কারণে সস্তা চার্জার দিয়ে চার্জ দিলে ফোন দ্রুত গরম হয়ে যাওয়া, ব্যাটারি ফুলে যাওয়া ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় অ্যাডাপ্টারে সমস্যা দেখা দিলে ফোন ও ব্যাটারি দুটোই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ফাস্ট চার্জিং এবং নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব চার্জার ব্যবহার করুন।
ইউএসবি অ্যাডাপ্টর ব্যবহার করেও আপনার স্মার্টফোনের চার্জিং গতি বাড়িয়ে নিতে পারেন। তবে, তার আগে আপনাকে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে, সেটা হচ্ছে আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারি সর্বোচ্চ কত অ্যাম্পিয়ার ধারণ করতে পারে। ০.৫ থেকে শুরু ২.৫ পর্যন্ত ধারণ ক্ষমতা থাকতে পারে আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারির। তবে ধারণ ক্ষমতা যতই হোক, তার চেয়ে বেশি অ্যাম্পিয়ারে চার্জ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

সবসময় তুলনামূলক ঠান্ডা স্থানে ফোন চার্জ দিন। ফোন চার্জের সময় ফোন এমনিতেই গরম হয়। আপনি যদি আবার গরম স্থানে রাখেন তাহলে ফোন আরো গরম হবে এবং চার্জ ধীরগতিতে হবে।
এছাড়া আপনি চাইলে আপনার ফোনের কেসিং খুলে নিতে পারেন। ফোনের কেসিং থাকলে অনেক সময় তাপ আটকে ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়।
ব্যাটারি স্মার্টফোনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ব্যাটারির উপর নির্ভর করেই একটি স্মার্টফোন সচল থাকে। তাই ব্যাটারির উপর আমাদের প্রত্যেকের গুরুত্ব দেয়া উচিত। উপরে উল্লেখিত সব গুলো পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে আপনার স্মার্টফোনের কোন ক্ষতি হবে না বরং বৃদ্ধি পাবে ব্যাটারির আয়ুষ্কাল।
তাই স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত চার্জ করার উপায়গুলো একবার যাচাই করে দেখতে পারেন।

আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তবে আমি ওয়েব এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে কাজ করি। হৈচৈ বাংলাতে পোষ্ট পড়ার পাশাপাশি লিখার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে ভালোই লাগছে।

স্মার্টফোন দ্রুত চার্জ করা গেলে অনেক সময় বাঁচে এবং স্লো চার্জিংয়ের বিরক্তি থেকেও বাঁচা যায়। দ্রুত চার্জ করার এই উপায়গুলো সবার জন্যেই উপকারী।