Cart
No products in the cart.

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনের মধ্যে স্মার্টফোন সবচেয়ে জনপ্রিয়। কোন ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার চালাতে যেমন অপারেটিং সিস্টেম প্রয়োজন তেমনি স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে সেটিকে কার্যোপযোগী করার জন্য। জনপ্রিয় কিছু অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে আমাদের সবারই কমবেশি জানা আছে। এই পোস্টে আমরা জানবো স্মার্টফোনের জন্য সেরা দশটি অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
অ্যান্ড্রয়েড, আই ওএস, সিম্বিয়ান ইত্যাদি হলো জনপ্রিয় কিছু অপারেটিং সিস্টেম। এছাড়াও আরও অনেক অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে যা সচরাচর ব্যবহৃত হয় না। তবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মোবাইল ফোনে এই সব অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হতো। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক স্মার্টফোনের সেরা দশটি অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে।
২০ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে গুগল প্রথম অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম রিলিজ করে যার নাম দেওয়া হয় “অ্যাস্ট্রো”। এর কিছুদিন পর এটির পরবর্তী ভার্সন “ব্যান্ডার” এবং “কাপকেক” মুক্তি পায়। এরপর থেকেই গুগল বর্ণানুক্রমিকভাবে কোন ডেজার্ট বা মিষ্টির নামে নামকরণের প্রবণতাটি গ্রহণ করে।
স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট বাজারে আসার পরই অ্যান্ড্রয়েড তার সুন্দর রূপ এবং কার্যকরী কাজের কারণে প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিংয়ের কিছু স্মার্টফোন এইচটিসি ডিজায়ার, স্যামসাং গ্যালাক্সি জিও, মটোরোলা ড্রোইড রেজার, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস 3 এবং এইচটিসি ওয়াইল্ডফায়ার।

২৯ জুন ২০০৭ সালে স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আইওএস চালু করা হয়, ঠিক যখন প্রথম আইফোনটি ডেভেলপ করা হয়। আইওএস অনেকবার আপগ্রেড হয়েছে এবং সর্বশেষ ভার্সন হিসাবে বাজারে এখন রয়েছে “iOS 11.3”। অ্যাপল এখনও অন্য কোন প্রস্তুতকারককে অপারেটিং সিস্টেমের উপর হাত রাখার অনুমতি দেয়নি। আইওএস এখন পর্যন্ত সমস্ত আইফোন, আইপড এবং আইপ্যাডে ব্যবহার করা হয়েছে।

সিম্বিয়ান অপারেটিং সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে নোকিয়ার সম্পত্তি। এর মানে এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করার আগে অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানকে নোকিয়া থেকে অনুমতি নিতে হবে। নোকিয়া মোবাইলের বাজারে বিশাল অবদান রেখেছে। যার ফলস্বরূপ জাভার পরেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়া মোবাইল ফোন হিসাবে রয়েছে সিম্বিয়ান মোবাইল ফোন।
সামগ্রিকভাবে, Symbian OS- চমৎকারভাবে ডিজাইন করা হয় এবং খুবই ইউজার-ফ্রেন্ডলি। তবে দুর্ভাগ্যবশত, অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আজকাল সিম্বিয়ান ওএস এর গ্রাফ নিচের দিকে যাচ্ছে। সিম্বিয়ান অপারেটিং সিস্টেমের কিছু নোকিয়া ফোন হলো নকিয়া সি 6-01, নকিয়া 603, নকিয়া 700 ইত্যাদি।

ব্ল্যাকবেরি অপারেটিং সিস্টেম “RIM (Research In Motion)” এর সম্পত্তি এবং ১৯৯৯ সালে প্রথম মুক্তি পায়। রিম এই অপারেটিং সিস্টেমটিকে ব্ল্যাকবেরি স্মার্টফোনের জন্য ডেভেলপ করেছে। ব্ল্যাকবেরি অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম থেকে অনেক ভিন্ন।
অ্যাপলের মতো, ব্ল্যাকবেরি ওএসটিও একটি ক্লোজ সোর্স ওএস এবং অন্য কোনও প্রস্তুতকারকের জন্য ব্যবহারযোগ্য নয়। এই অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ রিলিজটি হলো “Blackberry OS 10.3”। ব্ল্যাকবেরী অপারেটিং সিস্টেমের কিছু স্মার্টফোন হলো ব্ল্যাকবেরী বোল্ড, ব্ল্যাকবেরী কার্ভ, ব্ল্যাকবেরি টর্চ এবং ব্ল্যাকবেরী 8520।

এই ধরণের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সাথে আপনি অধিক পরিচিত, কারণ সারা বিশ্বের কম্পিউটারগুলিতে এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম মোবাইল ফোনেও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর জন্য এটি ব্যবহার করা কিছুটা কঠিন।
মাইক্রোসফটের সর্বশেষ রিলিজকৃত উইন্ডোজটি হলো “Windows 10”। বর্তমানে স্যামসাং এবং এইচটিসিও কিছু উইন্ডোজ-ভিত্তিক ফোন রিলিজ করেছে। নোকিয়া লুমিয়া সিরিজ সম্পূর্ণরূপে উইন্ডোজ ভিত্তিক। লেটেস্ট কিছু উইন্ডোজ ফোন হলো নোকিয়া লুমিয়া 800, নোকিয়া লুমিয়া 900, স্যামসাং ফোকাস এবং এইচটিসি টাইটন ২২।

অন্যদের মতো, স্যামসাং এরও একটি স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে যা বাডা নামে পরিচিত। এটি মধ্য পরিসীমা এবং হাই-এন্ড স্মার্টফোন এর জন্য ডিজাইন করা হয়। বাডা একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং কার্যকর অপারেটিং সিস্টেম।
তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্যামসাং অজানা কারণে বড় বড় ক্ষেত্রে এই অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহার করেনি। এর সর্বশেষ সংস্করণ “Bada 2.0” যা ১৫ মার্চ ২০১২ সালে মুক্তি পায়। স্যামসাং ওয়েভ, স্যামসাং ওয়েভ 2 এবং স্যামসাং ওয়েভ 3 মাত্র এই তিনটি স্মার্টফোনে রয়েছে বাডা অপারেটিং সিস্টেমটি।

পাম অপারেটিং সিস্টেম ১৯৯৬ সালে Palm Inc কর্তৃক ডেভেলপ করা হয় বিশেষ করে “PDA (Personal Digital Assistance)” এর জন্য। পাম অপারেটিং সিস্টেম টাচস্ক্রিন GUI এ কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। কিছু বছর পরে এটি আপগ্রেড করা হয়েছিল এবং স্মার্টফোনে সমর্থন করতে সক্ষম ছিল। পাম অপারেটিং সিস্টেমে লেনোভো, লিজেন্ড গ্রুপ, জেনাম, কিওকেরা এবং আইবিএমসহ বেশ কিছু কোম্পানি কর্তৃক ব্যবহৃত হয়েছে।

ওপেন WebOS ছাড়াও এইচপি WebOS বা শুধু WebOS নামে পরিচিত যা Palm Inc দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, কিন্তু কয়েক বছর পরে এটি হিউলেট প্যাকার্ডের সম্পত্তি হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালে ওয়েবওএস চালু করা হয়েছিল এবং বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে ব্যবহার করা হয়েছিল। এইচপি টাচ প্যাড ছিল WebOS এ কাজ করা সর্বশেষ ডিভাইস।

নোকিয়া ও মেমো কমিউনিটি স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট ট্যাবলেটের জন্য একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরিতে একসঙ্গে যোগ দিয়েছিল যা “Maemo” নামে পরিচিত। অন্যান্য ডিভাইসের মতো মেমো ব্যবহারকারীর ইন্টারফেসটিও একটি মেনু দ্বারা গঠিত ছিল যার থেকে ব্যবহারকারীরা যে কোন স্থানে যেতে পারেন। তবে স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে Maemo খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি।

এটিকে একটি মোবাইল প্ল্যাটফর্ম বলা হয় কিন্তু হ্যান্ডহেল্ড, ইন-কার ডিভাইস, টেলিভিশন সেট এবং নেট বুক সহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস চালানোর জন্য এটি ডিজাইন করা হয়েছিল। ২০১০ সালে মুরেসটাউন ট্যাবলেট পিসি কম্পিউক্স তাইপেইতে চালু করা হয়েছিল, যেটি “MeeGo” চালিত ডিভাইস ছিল।

এখানে বিভিন্ন ধরণের স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় তালিকায় প্রথমে অ্যান্ড্রয়েড থাকলেও, অ্যাপল সবচেয়ে বড় টেক কোম্পানী হয়ে উঠেছে। এছাড়াও অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমগুলোও বিভিন্ন সময়ে বাজারে তাদের স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেট নিয়ে এসেছে।

টেকনোলজি নিয়ে প্রচুর আগ্রহীদের মধ্যে আমি একজন। যে কারণে টেকনোলজি বিষয়ক যে কোন আর্টিকেল আমি খুব আগ্রহ নিয়েই পড়ি।
