Cart
No products in the cart.

একজন সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে অনেক অভিজ্ঞরাও ব্রাউজিং এর জন্যে সার্চ ইঞ্জিনের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন। গুগল, ইয়াহু, বিং এর মতো জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনগুলো প্রতিনিয়তই অ্যালগরিদম এবং সার্চ ইঞ্জিন এভালুয়েটর দ্বারা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিকে তাদের গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য ও সার্চ রেজাল্ট প্রদান করে আসছে।
সময়ের সাথে সাথে সার্চ ইঞ্জিনগুলির ফলাফল প্রদর্শনের ধারাতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পূর্বের তুলনায় প্রায় সব ইঞ্জিনই বর্তমানে অনেক ভালো মানের ফলাফল দেখাতে সক্ষম।
কিন্তু সব কিছুর পরেও এটা সত্যি যে, সার্চ অ্যালগরিদমের পক্ষে কখনো সেটা করা সম্ভব নয়, যেটা মানুষ করতে পারে। আর একারণেই সার্চ ইঞ্জিনএভালুয়েটরের মত কাজের এখনো অস্তিত্ব রয়েছে।
প্রথমেই ধারণা নিয়ে রাখতে পারেন যে, সার্চ ইঞ্জিন কি, সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে এবং অনলাইনের সেরা ৬টি সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে। এরপর জেনে রাখুন যে, একজন সার্চ ইঞ্জিনএভালুয়েটর হিসাবে আপনার দায়িত্ব হলো সার্চ রেজাল্টকে রেটিং প্রদান করা। যাতে সার্চ ইঞ্জিনগুলি ব্যবহারকারীদের আরো মানসম্মত সার্চ রেজাল্ট প্রদর্শন করতে পারে।

এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
এই উপায়ে আপনি ইনকাম করার সাথে সাথে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনকেও তাদের কাজের উন্নয়নে সহযোগিতা করতে পারেন। বিশেষ করে এই কাজটি তাদের জন্য আদর্শ যারা ঘরে বসেই অতিরিক্ত কিছু টাকা ইনকাম করতে চান। এ ধরনের কাজ করে প্রতি ঘন্টায় ১০ ডলারের মত আয় করা সম্ভব।
যদিও ফ্রিল্যান্সিং এর অন্যান্য কাজের তুলনায় এই কাজের পারিশ্রমিক একটু কম, কিন্তু কাজের হিসাবে সেটাকে উপযুক্তই বলা যায়। তাই চলুন দেরি না করে জেনে নিই সার্চ ইঞ্জিন এভালুয়েটর হয়ে আয় করার বিস্তারিত।
আমি আগেও বলেছি যে, মানুষ যেটা পারে অ্যালগরিদম কখনোই সেটা করতে পারে না। অ্যালগরিদম কখনো কোন ওয়েবসাইটে থাকা বানানের ভুল ধরতে পারে না। একই সাথে কোন সার্চের যথার্থতা কতটুকু সেটি বুঝতেও অনেকাংশেই এটি অক্ষম।
অ্যালগরিদমের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ভুল তথ্য সম্বলিত ওয়েবসাইটও অনেক সময় সার্চের প্রথম পাতায় চলে আসে। অপরদিকে ওই সার্চটি প্রকৃতপক্ষে যে ওয়েবসাইট বা তথ্যের জন্য করা হয়েছে সেটিই রেজাল্টে অনেক পিছনে অবস্থান করে। সার্চ ইঞ্জিন এভালুয়েটরগণ এই ধরনের ভুল ত্রুটিগুলিকে বোঝানোর জন্য সার্চে প্রদশিত তথ্যের রেটিং প্রদান করার মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে সার্চের জন্য কোন ধরনের কন্টেন্টগুলিকে প্রদর্শন করাটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা সার্চ ইঞ্জিনকে বোঝান।
পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি বিষয় সার্চ করা হচ্ছে। একইসাথে সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানীগুলি প্রতিটি সার্চেরই রেটিং নিতে আগ্রহী হওয়ায় আপনি এখান থেকে খুব ভালো পরিমাণে কাজ পাবেন, এটা আশা করাই যায়।
প্রতিটি কাজের জন্যই কিছু না কিছু যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা আবশ্যক। এই কাজটিও তার ব্যতিক্রম নয়। সার্চ ইঞ্জিন এভালুয়েটর হিসাবে কাজ করার জন্য আপনার যে ধরনের যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন তা হলো-

প্রতিটি সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানীর নিজস্ব ক্যারিয়ার পেজ থাকে। আপনাকে অবশ্যই সেইসব পেজে ভিজিট করে কাজের জন্য আবেদন করতে হবে। যেমন, গুগলক্রোমের জব পেজ এ যেতে পারেন যেখানে গেলে প্রথমেই আপনার কাছে জানতে চাইবে যে আপনি কী ধরণের জব চান।

উদাহরণ হিসেবে এখানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজাইন ও সেলস্ দেয়া থাকলেও, আপনি লিখতে পারেন সার্চ ইঞ্জিন ইভালুয়েশন। এরপর নেক্সট্ এ ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে গিয়ে রিকোয়ারমেন্ট পূরণ করুন। একইভাবে বিং সার্চ ইঞ্জিনের মালিক মাইক্রোসফট্ এর জব পেজ এ যেতে পারেন।
যাইহোক, সার্চ কোম্পানী ছাড়াও ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট মিডিয়া হয়ে সার্চ ইঞ্জিন ইভালুয়েশনের কাজ প্রদান করে থাকে। আপনি চাইলে এমন ওয়েবসাইটগুলিতে রেজিষ্ট্রেশন করেও কাজের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তবে উভয় ক্ষেত্রেই নিয়োগদাতা আপনার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে চাইতে পারে। পাশাপাশি থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটগুলিতে আপনার দক্ষতা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নেওয়ারও ব্যবস্থা থাকে। আপনি সে-সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কায়েন্টদের সামনে নিজের দক্ষতা তুলে ধরতে পারেন।
থার্ড পার্টি যেসব ওয়েবাসাইটে এ ধরনের কাজ পাওয়া যায় তাদের মধ্যে www.appen.com, www.lionbridge.com, www.zerochaos.com অন্যতম।
সব কাজের মতই সার্চ ইঞ্জিন এভালুয়েটরের কাজেরও কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে।
সুবিধা:
অসুবিধা:
সার্চ ইঞ্জিন ইভালুয়েটর হয়ে কাজ করে স্বাভাবিকভাবে প্রতি ঘন্টায় ১২ থেকে ১৫ ডলার আয় করা সম্ভব। এ ধরনের কাজের জন্য এটিই সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নয়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজের রেট এমনটাই থেকে থাকে। তবে বিভিন্ন দেশে এই কাজের রেট বিভিন্ন ধরনের। আমেরিকা থেকে যে ব্যক্তি এই কাজটি করবে তার তুলনায় বাংলাদেশ থেকে কাজ করা একজন সার্চ ইঞ্জিন ইভালুয়েটরের পারিশ্রমিক প্রায় অর্ধেক, তবু মন্দ কী!

আমি একজন টেকনলোজি বিষয়ক ফ্রিল্যান্স আর্টিকেল রাইটার। বিভিন্ন টেকনলোজি বিষয়ে বিশদ রিসার্চ করার পরে অনলাইনে সবার সাথে সে-সব তথ্য শেয়ার করায় আমি আনন্দ অনুভব করি। টেক ট্রেইনির সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত।
