Cart
No products in the cart.

অন্য মাছের তুলনায় সামুদ্রিক মাছ মানুষের জন্যে বেশি উপকারি এবং খেতেও সুস্বাদু। বিভিন্ন রকমের স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে এবং নানা রকম রোগ থেকে মুক্তি পেতে খাদ্য বিশারদরা প্রায়ই সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু সামুদ্রিক মাছ কোথায় পাওয়া যায় তা অনেকেরই অজানা।
যারা জানেন না ঢাকার কোন কোন বাজারে সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়, তাদেরকে জানানোর জন্যে এবং সামুদ্রিক মাছ কেনায় সহায়তা করতে আমাদের আজকের লেখা।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
সমুদ্রে পাওয়া মাছকেই মূলত সামুদ্রিক মাছ বলে। সামুদ্রিক মাছের আরেক নাম মেরিন ফিশ। আবার, সল্ট ওয়াটার ফিশ বা লবনাক্ত পানির মাছও বলা হয়ে থাকে।
তবে, সব সামুদ্রিক মাছই কিন্তু খাওয়ার উপযোগী নয়। এমন কিছু বিপদজনক ও ভয়ংকর মাছ আছে যেগুলো সম্পর্কে জানলে আপনি অবশ্যই অবাক হবেন। এই মাছগুলো হয়তো কেউ খাওয়ার কথা কখনো ভাবেন না।
সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে। পুষ্টি হচ্ছে শরীরের জন্যে প্রয়োজনীয় বায়োলজিক্যাল ও ফিজিওলজিক্যাল প্রসেস, যেগুলোকে সহজ ভাষায় আমরা ভিটামিন ও মিনারেল বলে থাকি। সামুদ্রিক মাছে যেসব ভিটামিন ও মিনারেল বা পুষ্টি রয়েছে, সেগুলো নিম্নরূপ-
উপরের তালিকা থেকে বুঝতেই পারছেন যে, সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্যে সবসময়ই প্রয়োজন। লো ক্যালোরি কিন্তু হাই প্রোটিন ফুড হিসেবে বিদেশীদের কাছে সামুদ্রিক মাছের অনেক কদর রয়েছে। কারণ, তারা সামুদ্রিক মাছের নানা রকম উপকারিতা জানেন যা নিম্নে দেওয়া হলো-
হার্টের ক্ষেত্রে-
ব্রেনের ক্ষেত্রে-
চোখের ক্ষেত্রে-
মাংশপেশির ক্ষেত্রে-
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে-
অন্যান্য ক্ষেত্রে-
পৃথিবীতে প্রায় ২২০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। কিন্তু, আমাদের দেশে সব ধরণের মাছ পাওয়া যায় না। আমাদের সমুদ্র বলতে মূলত বঙ্গোপসাগর। আর এই সাগরে সব প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় না যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের অন্যান্য সাগরে পাওয়া যায়। যাইহোক, ঢাকায় যেসব সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায় সেগুলো হলো-

বলতে পারেন, ঢাকার সবচেয়ে বড় মাছ বাজার এটি। পাইকারি বাজার হিসেবে সোয়ারীঘাট ঢাকার সবচেয়ে পুরনো মেছো বাজার হিসেবে বহুল পরিচিত। এ বাজারে পাওয়া যায় না এমন কোনও মাছ নেই। এখানে সব ধরণের দেশী মাছ যেমন পাওয়া যায়, তেমনই নদীর মাছ, মিঠা পানির মাছ, সামুদ্রিক মাছসহ প্রায় সকল প্রজাতির মাছই পাওয়া যায়।
সুতরাং, বুঝতেই পারছেন সামুদ্রিক মাছের একটি বড় সোর্স হচ্ছে পুরনো ঢাকার সোয়ারীঘাট। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে মোহনগঞ্জ, ভোলা, বরিশাল ও খুলনাসহ আরো বিভিন্ন জেলার জেলেরা সোয়ারীঘাটের চাম্পাতলী মাছঘাটে নিয়ে আসে। এই ঘাট থেকেই ঢাকাসহ আশে-পাশের এলাকাগুলোতে মাছ সরবরাহ করা হয়।
সোয়ারীঘাটে প্রতিদিন প্রায় ৫শ মন মাছ বিক্রি হয়। এর মাঝে সামুদ্রিক মাছের সংখ্যা কম। তবে, প্রতিদিনই আপনি এখানে সামুদ্রিক মাছ পাবেন। আর এই পাইকারি বাজার থেকে সামুদ্রিক মাছ কিনতে হলে আপনাকে অবশ্যই কাক ডাকা ভোরে গিয়ে হাজির হতে হবে। নৈলে আপনার আগে অন্যরা গিয়ে কিনে ফেলবে।
ঢাকার সেন্টার পয়েন্টে অবস্থিত কাওরান বাজার যেমন সব ধরণের জিনসপত্রের জন্যে বিখ্যাত, তেমনই মাছের বাজার হিসেবেও এর ব্যাপক সুনাম রয়েছে। কারণ, ঢাকার ভেতরে এটিই হচ্ছে পাইকারি ও খুচরা মাছের সবচেয়ে বড় বাজার। বাংলা মোটর, ফার্মগেট, মগবাজার ও তেজগাঁও এর মাঝখানে অবস্থিত এই বাজারে দেশী মাছের পাশাপাশি প্রায় সব ধরণের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়।
বিশাল এক মাছের আড়ৎ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ বাজারে সারারাত ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাকে ট্রাকে মাছ আসতে থাকে। রাত ভর চলতে থাকে মাছ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও আড়ৎদারদের মধ্যে কেনা-বেচা। আর সকাল থেকেই শুরু হয় আড়ৎদার ও পাইকারদের মধ্যে বেচা-কেনার ধূম। পুরো ঢাকার প্রায় সকল মাছ বাজারের বিক্রেতারাই এখান থেকে মাছ কিনে নিয়ে খুচরা দামে বিক্রি করে থাকে।
কাওরান বাজার থেকে সামুদ্রিক মাছ কিনতে হলে আপনাকে যেতে হবে মৎস বিতানে। এটি বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন কর্পোরেশন কতৃক পরিচালিত একটি পরিষেবা। সপ্তাহের মধ্যে রবিবার থেকে শুরু হয় এ বিতানটি, আর চালু থাকে বৃহস্প্রতিবার পর্যন্ত। শুক্র ও শনিবার মৎস বিতান বন্ধ থাকে। তবে, এ দুইদিনও কিন্তু কাওরান বাজারের অন্যান্য মাছের আড়ৎ ও খুচরা দোকান খোলা থাকে।
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, গুলশানে যারা থাকেন, তাদের মাথাপিছু আয় ঢাকার অন্যান্য এলাকার মানুষের চেয়ে বেশি। সহজ কথায়, এখানে ঢাকার সবচেয়ে বড় বা উচ্চবিত্তরাই থাকেন। আর বড়লোকদের বিলাসিতার মাঝে অন্যতম একটি অনুসঙ্গ হচ্ছে খাবার।
সুতরাং, গুলশানের মানুষ খাবারে দামী মাছ রাখবে না, এটা হতেই পারে না। সামুদ্রিক মাছ যত দামীই হোক না কেন, গুলশানের মানুষ সেগুলো সচরাচর কিনে থাকে। গুলশানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট হচ্ছে ডিসিসি মার্কেট। আর এই মার্কেটেই সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়।
স্বপ্ন, নন্দন, পিকিউএস এবং অন্যান্য আরো কিছু সুপার শপে মাঝে মধ্যেই সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়। তবে, এদের ব্যাপারে গ্রাহকদের নানা রকম অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, মাছে ফরমালিন দেয়ার অভিযোগ। মাছের সাথে ফরমালিন মেশানোর অভিযোগ প্রায়ই এই চেইন শপগুলোকে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা গুণতে হয়। তবু, নাই মামার কানা মামা হিসেবে আপনি এসব চেইন বা সুপার শপ থেকে সামুদ্রিক মাছ কিনতে পারেন।
আজকাল চাল-ডাল থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুই অনলাইনে বসে কেনা যায়। সুতরাং, মাছইবা বাদ যাবে কেন? না, অনলাইন বাজার থেকে বাদ যায়নি মাছও। চাইলে এখন আপনি বাসায় বসেই অনলাইনে সামুদ্রিক মাছ অর্ডার করতে পারেন। আর, অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার ঘরে পৌঁছে দেবে কাংখিত মাছ।
অনলাইনে মাছের অর্ডার নিয়ে ঘরে পৌঁছে দেয়, এমন কয়েকটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা নিচে দেয়া হলো-
আশা করি, সামুদ্রিক মাছ কিনতে এখন আর আপনাকে বেগ পেতে হবে না। কারণ, আপনি জেনে গিয়েছেন যে সামুদ্রিক মাছ কোথায় পাওয়া যায়। সুতরাং, উপরোক্ত মার্কেটগুলোতে গিয়ে অনায়াসেই আপনি প্রয়োজনীয় সামুদ্রিক মাছ কিনে নিতে পারেন। আর যদি মার্কেটে যেতে না চান, তবে সে উপায়ও আপনাকে জানিয়ে দিয়েছে। উপরে উল্লেখিত অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো থেকে অর্ডার করে মাছ নিয়ে নিতে পারেন।

আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তবে আমি ওয়েব এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে কাজ করি। হৈচৈ বাংলাতে পোষ্ট পড়ার পাশাপাশি লিখার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে ভালোই লাগছে।
