Cart
No products in the cart.

আপনি যদি আপনার জীবনের ব্যর্থতার হিসাব করতে যান, তবে ব্যর্থতার যোগফল হিসাবে পাবেন আপনার কিছু খারাপ অভ্যাস। আপনি যদি খারাপ অভ্যাসকে গ্রহণ করেন, তবে সেগুলো আপনার সফলতার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। তাইতো ড. আবুল কালাম বলেন,
আপনি আপনার ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারবেন না; কিন্তু আপনি আপনার অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারবেন এবং এই অভ্যাস আপনার ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করে দিবে।
আপনি যদি অন্যান্যদের মতো জীবনে সফল হতে চান, তবে খারাপ অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করা জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে বদ অভ্যাস দূর করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজের আত্মবিশ্বাস ।
ইউনিভার্সিটি অব পেনসেলভিয়ার দুইজন সাইকোলজিস্ট অ্যাঞ্জেলা ডাকওর্থ এবং মারটিন সিলিগমেন তার শিক্ষার্থীদের উপর একটি জরিপ চালান। প্রথমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের আই কিউ এবং আত্মবিশ্বাস পরিমাপ করেন। ৪ বছর পর দেখা গেল আই-কিউতে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের থেকে আত্মবিশ্বাসীদের জিপিএর পরিমাণ দ্বিগুণ।
তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে ভালো অভ্যাস নিজের মধ্যে তৈরি করার জন্য দরকার আত্মবিশ্বাস। আজকের এই লেখায় এরকম কিছু খারাপ অভ্যাসের তালিকা দিলাম যা প্রত্যেকের পরিহার করা উচিত।

এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
সারাদিনের ক্লান্তির পর রাতে যদি ভাল ঘুম না হয়, তবে পরবর্তী দিনটি আপনার জন্য কখনোই সুখকর হবে না। আপনার কাজে মনোযোগ বসবে না। আর আজকাল অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ করেন যে তাদের রাতে ঘুম আসে না। অথচ ঘুম না আসার প্রধান কারণ ঘুমানোর আগে ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার।
কম্পিউটার বা ফোনের নীল আলো আপনার ঘুম নষ্টের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে যা আপনি বুঝতেও পারেন না। যাইহোক, ঘুম না এলে আপনার জন্যে করণীয় ২০টি কাজ সম্পর্কে আইডিয়া নিয়ে রাখুন আর প্রয়োজনের মুহুর্তে এগুলো ব্যবহার করুন।
ইন্টারনেট ব্যবহার অবশ্যই ভাল। তবে সেই ব্যবহার যেন অপ্রয়োজনীয় না হয়। অনেকেই অযথা ইন্টারনেট ব্রাউজিং করছেন, কি জন্য করছেন কিংবা কেন করছেন তার সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য নেই। এই ধরনের বদ অভ্যাস পরিহার করা উচিত। সময়ের অপচয় কখনো ভাল অভ্যাস হতে পারে না। যারা সময়ের অপচয় করে, তারা আসলে নিজেদের অফুরাণ সম্ভাবণার অপচয় করে। এ ধরণের মানুষরা জীবনে সফল হতে পারে না, ধনী হতে পারে না এবং শেষ জীবনে এসে হা-হুতোশ করতে থাকে। আপনি যদি যুবক বয়সেই ধনী হতে চান, তবে এই ৭টি কাজ করুন আর অযথা ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
আপনি কারও সাথে কথা বলছেন কিন্তু মাঝে মাঝে ফোনটি পকেট বা ব্যাগ থেকে বের করে নোটিফিকেশন বা ফোনটি চেক করছেন। বিশ্বাস করুন এটা একটি মারাত্মক বদ অভ্যাস। এটা যেমন বক্তার কথা বলার মনোযোগ নষ্ট করে, তেমনি আপনার সম্পর্কেও একটি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। আর সবচেয়ে বড় কথা আপনি কথাবার্তার আসল আনন্দই উপভোগ করতে পারবেন না এবং প্রপেশনাল লাইফে এটা আপনার জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর হবে।
অতিরিক্ত স্মার্টফোন আসক্তি এমনিতেই একটি বড় মাপের বদ অভ্যাস। অনেকেই স্মার্টফোন আসক্তি দূর করার উপায় জানেন, আবার অনেকেই জানেন না। যারফলে, অতিরিক্ত আসক্তিতে পড়ে গিয়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হন। যাই হোক সবচেয়ে ভাল অভ্যাস হল বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা। এতে করে আপনার অন্য কাজ করতে সুবিধা হবে। এছাড়া সুনির্দিষ্ট কিছু অ্যাপে নোটিফিকেশন চালু রাখলে সেই কাজেও আপনার সফলতা আসবে।
“না” একটি শক্তিশালী শব্দ যা আপনাকে অনেক সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে। অনেক বুদ্ধিমান লোকেরা “না” এর বদলে “আমার মনে হয় না, আমি পারব” বা “আমি নিশ্চিত নই” মত শব্দগুলো ব্যবহার করেন। যদি কোন প্রতিশ্রুতি দেয়ার আগে মনে হয় আপনি পারবেন না, তবে সেখানে অযথা ‘হ্যাঁ’ বলার দরকার নেই। যেই কাজটা আপনি পারবেন না, সেই কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটা সময় আপনি তার কাছে লজ্জিত হবেন। আর এতে করে সেও পড়বে ঝামেলায় এবং আপনার উপর বিরক্ত হবে, সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হবে।
আপনার কোথাও অর্ধেক মনোযোগ দেয়া দরকার নেই, বিশেষ করে মিটিংয়ে। যদি কোন মিটিং আপনার সম্পূর্ণ মনোযোগের যোগ্য না হয়, তবে এটিতে উপস্থিত হওয়ার দরকার নেই। যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আগে সম্পন্ন করুন। মিটিং গুরুত্বপূর্ণ হলে মিটিংয়ে সময় দিন। মিটিংয়ের সময় মাল্টিটাস্কিং আপনার জন্য যেমন বিরক্তিকর তেমনি মিটিংয়ে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদেরও।
প্রত্যেক ধর্মে পরনিন্দা এবং গীবত নিষিদ্ধ। গীবত একটি মারাত্মক খারাপ অভ্যাস। প্রতিনিয়ত একজনের দোষ ত্রুটি অন্যের নিকট বর্ণনার দ্বারা আপনার মূল্যবান সময়ের যেমন অপচয় হয়, তেমনি একটা সময় এসে আপনার নিজের ভাল কাজের প্রতিও আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। আপনার নিজের কাছেও মনে হবে অন্য কেউ আপনার কাজের সমালোচনা করছে।
প্রত্যেক মানুষের অসংখ্য ভাল দিক রয়েছে সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। এর ফলে আপনার মধ্যেও ইতিবাচক চিন্তা চেতনা তৈরি হবে। আলানুর রুজভেল্ট বলেছিলেন,
“বড় মন সবসময় আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করে, মাঝারি মন ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে এবং ছোট মনের লোকেরা দোষ ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করে।”
কিছু কিছু মানুষ যেকোন কাজ করার পূর্বে চিন্তা করে তাদের একাজ সফল হবে কিনা। অনেকে আবার চিন্তা করে যেহেতু এই কাজে সফল হওয়া যাবে না, তাই অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না। কিন্তু এই ধরণের ধারণা পরিহার করা উচিত, যেমনটা জোডি পিকোল্ট বলেছিলেন, “আপনি লেখার পর ভুল হলে এডিট করতে পারবেন কিন্তু একদম খালি খাতায় তা কখনো সম্ভব না।“
তাই সফলতার জন্য অপেক্ষা না করে নিজের কাজগুলোকে চালিয়ে যান। চেষ্টা, শ্রম এবং মেধার যথাযথ প্রয়োগ করুন। আর কখনোই ব্যর্থতা আসার পূর্বে ব্যর্থ হবে না।
বাংলায় একটা কবিতা আছে,
নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারে সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস।
বাস্তবতাও তাই সবাই নিজেকে অসুখী মনে করে আর অপরকে মনে করে সুখী। আসলে সুখ বাজারে বা দোকানে পাওয়ার বস্তু না, এটা প্রতিটি মানুষের মধ্যে। অন্যের সাথে নিজেকে মিলানোর চেষ্টা করলে জীবনে হতাশা আর দু:খ বৃদ্ধি পাবে। তাই এই খারাপ অভ্যাস পরিহার করে বরং আপনার নিজের অবস্থান থেকে আপনাকে কল্পনা করুন।
নিয়ন্ত্রণ একটি মোহ। আপনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলে দ্রুত হতাশ হয়ে পড়বেন এবং রেগে যাবেন। আপনার আশে পাশে থাকা মানুষকে আপনার নিয়ন্ত্রণে আনাটা খুব জরুরি নয়। আপনার চারপাশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে জীবনে অনেক বেশী সুখী হতে পারবেন।
উপরের বদ অভ্যাসগুলো প্রথমদিকে পরিহার করা কঠিন হতে পারে, তবে আপনি যদি আস্তে আস্তে নিজের জীবনে এর প্রয়োগ করতে পারেন, তবে একটা সময় এর ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পারবেন।

আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তবে আমি ওয়েব এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে কাজ করি। হৈচৈ বাংলাতে পোষ্ট পড়ার পাশাপাশি লিখার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে ভালোই লাগছে।
