Cart
No products in the cart.

পুরুষের মুখের ত্বকও প্রতিদিনের যত্ন দাবি করে। কিন্তু ব্যস্ততা, কাজের চাপ কিংবা ত্বকের যত্নকে খুব একটা গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে অনেক পুরুষ নিয়মিত মুখের পরিচর্যা করেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে নেওয়া এবং রাতে ঘুমানোর আগে একবার পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করাকেই অনেকে যথেষ্ট মনে করেন। অথচ প্রতিদিনের ধুলাবালি, ঘাম, রোদ, বায়ুদূষণ, দাড়ি-গোঁফ, নিয়মিত শেভ করা এবং দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার কারণে পুরুষের মুখের ত্বকের ওপর প্রতিদিনই নানা ধরনের চাপ পড়ে। ফলে, পুরুষের মুখের যত্ন নেয়া জরুরী।
পুরুষের ক্ষেত্রে মুখের যত্ন মানে অনেক ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করা নয়। বরং নিজের মুখের ত্বকের প্রতি কিছু নিয়মিত ও সহজ অভ্যাস তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। সঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার করা, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখা, রোদ থেকে সুরক্ষা নেওয়া, শেভ করার সময় সতর্ক থাকা এবং দাড়ি-গোঁফের নিচের ত্বক পরিষ্কার রাখা- এসব ছোট ছোট অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে মুখের ত্বককে পরিচ্ছন্ন ও সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
এই লেখায় পুরুষদের জন্য একটি সহজ দৈনিক মুখের যত্নের রুটিন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে যারা অফিসে কাজ করেন, প্রতিদিন বাইরে চলাফেরা করেন, মোটরসাইকেল চালান, খেলাধুলা করেন, নিয়মিত শেভ করেন কিংবা দাড়ি রাখেন, তাদের জন্য কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোও এখানে তুলে ধরা হবে।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
একজন পুরুষের মুখ প্রতিদিন অনেক কিছুর সংস্পর্শে আসে। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ধুলা ও ধোঁয়া, বাইরে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে ঘাম, রোদের তাপ, যানবাহনের দূষণ কিংবা শরীরচর্চার সময় তৈরি হওয়া ঘাম, সবকিছুর প্রভাব মুখের ত্বকে পড়তে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় দাড়ি ও গোঁফ। মুখে ঘন দাড়ি থাকলে তার নিচের ত্বকে ঘাম, তেল ও ময়লা আটকে থাকতে পারে। আবার যারা নিয়মিত দাড়ি কামান, তাদের মুখের ত্বকে বারবার ব্লেড বা রেজারের ঘর্ষণ হয়। ভুলভাবে শেভ করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব কিংবা ছোট ছোট দানা দেখা দিতে পারে।
তাই পুরুষের মুখের যত্নের উদ্দেশ্য শুধু মুখকে দেখতে সুন্দর রাখা নয়। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে মুখের ত্বক পরিষ্কার, আরামদায়ক ও সুস্থ রাখার পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
পুরুষদের ত্বকের যত্নের জন্য জটিল কোনো নিয়ম অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। একটি সাধারণ রুটিন কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়।
সকালে–
দিনের মধ্যে–
অতিরিক্ত ঘাম হলে মুখ পরিষ্কার করা।
অপরিষ্কার হাতে মুখে হাত না দেওয়া।
বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে ত্বকের সুরক্ষার দিকে নজর রাখা।
রাতে-
এই রুটিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিততা। একদিন অনেক যত্ন নেওয়ার চেয়ে প্রতিদিন অল্প সময় নিয়ে নিয়ম মেনে পরিচর্যা করা বেশি কার্যকর।
ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ পরিষ্কার করা পুরুষের মুখের যত্নের একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
রাতে ঘুমানোর সময় মুখের ত্বকে স্বাভাবিক তেল ও ঘাম জমতে পারে। বালিশের সঙ্গে দীর্ঘ সময় মুখের সংস্পর্শও থাকে। তাই সকালে মুখ পরিষ্কার করে দিনের শুরু করা পুরুষের ভালো অভ্যাস।
আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত মুখ পরিষ্কার করার পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে মুখ পরিষ্কার করার সময় খুব জোরে ঘষার প্রয়োজন নেই।
আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে মুখ পরিষ্কার করুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
সকালে মুখ পরিষ্কার করার সময় যে ভুল করবেন না
অনেক পুরুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে সরাসরি খুব গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলেন। এটি এড়িয়ে চলা ভালো। খুব গরম পানি ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমিয়ে দিতে পারে এবং শুষ্কতা বাড়াতে পারে।
একইভাবে অতিরিক্ত পরিমাণে পরিষ্কার করার প্রসাধনী ব্যবহার করারও প্রয়োজন নেই।
অনেক পুরুষ মনে করেন, মুখে তেল থাকলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার দরকার নেই। এটি সঠিক ধারণা নয়।
তৈলাক্ত ত্বকেও আর্দ্রতার প্রয়োজন হতে পারে। আবার শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে মুখ পরিষ্কার করার পর আর্দ্রতা ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মুখের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক বা অস্বস্তিকর অনুভূত হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
পুরুষের মুখের যত্নের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিয়মিত শেভ করার কারণে অনেকের ত্বকে শুষ্কতা দেখা দিতে পারে।
পুরুষদের মুখের যত্নে সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা নেওয়ার বিষয়টি অনেক সময় উপেক্ষা করা হয়।
অনেক পুরুষ মনে করেন, সূর্য থেকে ত্বক রক্ষার প্রয়োজন শুধু নারীদের। আসলে এটি পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে থাকলে ত্বকের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। অতিরিক্ত রোদে থাকার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের নানা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
তাই, বাইরে দীর্ঘ সময় থাকার ক্ষেত্রে উপযুক্ত sunscreen ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি ছাতা, টুপি বা অন্যান্য উপায়ে সরাসরি রোদ থেকে মুখকে কিছুটা আড়াল করা যায়।
বিশেষ করে যারা নির্মাণকাজ, মাঠের কাজ, পরিবহন, বিক্রয় বা অন্য কোনো বাইরের পেশায় যুক্ত, তাদের এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
বাংলাদেশের শহর ও ব্যস্ত এলাকায় প্রতিদিন চলাচলের সময় পুরুষের মুখের ত্বক ধুলা, ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের সংস্পর্শে আসা স্বাভাবিক। মোটরসাইকেল চালানো বা রাস্তায় দীর্ঘ সময় চলাফেরা করলে মুখে আরও বেশি ধুলা জমতে পারে।
বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর মুখের ত্বক পরিষ্কার করা ভালো অভ্যাস।
তবে এর অর্থ এই নয় যে বাইরে থেকে ফিরলেই বারবার শক্তিশালী cleaner ব্যবহার করতে হবে। আপনার দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী প্রয়োজন বুঝে মুখ পরিষ্কার করুন।
যদি শুধু ঘাম হয়ে থাকে, তাহলে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়াই অনেক সময় যথেষ্ট হতে পারে।
দাড়ি পুরুষের চেহারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে দাড়ি রাখলে শুধু দাড়ির লোমের যত্ন নিলেই হবে না; তার নিচের ত্বকের দিকেও নজর দিতে হবে।
ঘন দাড়ির কারণে ত্বকের কিছু অংশে বাতাস চলাচল কম হতে পারে। ঘাম, তেল ও ময়লা দাড়ির নিচে জমে থাকতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে অস্বস্তি বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দাড়ির নিচের ত্বক পরিষ্কার রাখার উপায়
মুখ পরিষ্কার করার সময় দাড়ির অংশেও পানি ও পরিষ্কার করার পণ্য ভালোভাবে পৌঁছাতে দিন। আঙুল দিয়ে আলতোভাবে দাড়ির নিচের ত্বক পরিষ্কার করুন।
এরপর পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
দাড়ি ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি জমিয়ে রাখবেন না। পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে শুকিয়ে নিন।
দাড়ির যত্নে ব্যবহৃত তেল বা অন্যান্য পণ্যও অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেল ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
অনেক পুরুষ প্রতিদিন বা কয়েক দিন পরপর দাড়ি কামান। শেভ করার সময় ত্বকের ওপর ব্লেডের ঘর্ষণ হয়। তাই পুরুষের মুখের যত্নের রুটিনে শেভের বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
শেভ করার আগে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। এতে মুখের ওপর থাকা ধুলা ও ময়লা কমে যায়।
শেভ করার সময় খুব বেশি চাপ দিয়ে ব্লেড চালানো উচিত নয়। অতিরিক্ত চাপ ত্বকে ঘর্ষণ বাড়াতে পারে।
শেভ কারার জন্য ভালো রেজার ব্যবহার করা উচিত।
একই রেজার দীর্ঘদিন ব্যবহার করাও ভালো অভ্যাস নয়। ব্লেড ভোঁতা হয়ে গেলে ত্বকের ওপর বেশি চাপ দিতে হয়, যা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
শেভ করার পর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে উপযুক্ত পরিচর্যার পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
শেভ করার পর কিছু পুরুষের মুখে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব বা ছোট ছোট দানা দেখা দিতে পারে। এমন হলে ত্বকের প্রতি কোমল আচরণ করা জরুরি।
শেভের পর খুব গরম পানি ব্যবহার না করাই ভালো। মুখ পরিষ্কার করে আলতোভাবে শুকিয়ে নিন।
ত্বকে যে পণ্য ব্যবহার করলে আগে অস্বস্তি হয়েছে, তা এড়িয়ে চলুন। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহার করতে হলে আগে অল্প পরিমাণে পরীক্ষা করে নিন। ভালো মানের শেভিং জেল ব্যবহার করুন।
যদি শেভ করার পর নিয়মিত তীব্র জ্বালাপোড়া, ফুসকুড়ি বা অন্য কোনো সমস্যা হয়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ধাপ ৭: শরীরচর্চার পর মুখ পরিষ্কার করুন
যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা খেলাধুলা করেন, তাদের মুখে ঘাম বেশি হতে পারে। ঘাম শুকিয়ে দীর্ঘ সময় মুখে জমে থাকলে অস্বস্তি হতে পারে।
শরীরচর্চা শেষ করার পর মুখ পরিষ্কার করা ভালো অভ্যাস।
তবে ঘাম হয়েছে বলে মুখ জোরে ঘষে পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী কোমল পরিষ্কারকারী পণ্য ব্যবহার করা যায়।
রাতের পরিচর্যা পুরুষের মুখের যত্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সারাদিন বাইরে থাকার পর মুখে ধুলা, ঘাম, তেল ও অন্যান্য ময়লা জমে থাকে। এগুলো পরিষ্কার না করে ঘুমিয়ে পড়লে ত্বক দীর্ঘ সময় অপরিষ্কার অবস্থায় থাকে।
তাই ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।
সকালের মতো রাতেও মুখ পরিষ্কার করার সময় খুব জোরে ঘষাঘষি করবেন না।
মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
দিনের ব্যস্ততার কারণে অনেক পুরুষ রাতে মুখ পরিষ্কার করার বিষয়টি ভুলে যান। কিন্তু রাতের সময়টি দৈনন্দিন পরিচর্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সারাদিনের ঘাম ও ধুলা পরিষ্কার করে ঘুমাতে গেলে মুখের ত্বক পরিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে।
এখানে বড় কোনো রুটিনের প্রয়োজন নেই। শুধু নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করা এবং ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যা করাই যথেষ্ট।
অফিসে কাজ করেন বলে ত্বকের ওপর কোনো চাপ পড়ে না, এমন নয়। বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের সময় রোদ, ধুলা ও দূষণের সংস্পর্শে আসতে হয়।
অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকলেও মুখের ত্বক শুষ্ক অনুভূত হতে পারে।
তাই অফিসে কাজ করা পুরুষদের জন্য সহজ রুটিন হতে পারে-
এতটুকু নিয়মিতভাবে পালন করাও উপকারী হতে পারে।
যারা দিনের বড় একটি অংশ বাইরে কাটান, তাদের মুখের ত্বক তুলনামূলকভাবে বেশি ধুলা, রোদ ও ঘামের সংস্পর্শে আসে।
নির্মাণ শ্রমিক, বিক্রয়কর্মী, চালক, ডেলিভারি কর্মী, কৃষিকাজে যুক্ত ব্যক্তি কিংবা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন এমন পুরুষদের মুখের যত্নে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
বাইরে থাকার সময় সম্ভব হলে মুখকে সরাসরি রোদ থেকে আড়াল করুন। ঘাম হলে মুখ পরিষ্কার করুন এবং দিনের শেষে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।
মোটরসাইকেল চালানোর সময় মুখের সামনে ধুলা, বাতাস ও দূষণের সংস্পর্শ বেশি হতে পারে। হেলমেট নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হলেও দীর্ঘ সময় ব্যবহারের কারণে মুখ ও মাথার কিছু অংশে ঘাম হতে পারে।
তাই মোটরসাইকেল চালানোর পর ঘরে ফিরে মুখ পরিষ্কার করা ভালো অভ্যাস।
হেলমেটের ভেতরের কাপড় বা সংস্পর্শে থাকা অংশও পরিষ্কার রাখা দরকার। কারণ দীর্ঘদিন অপরিষ্কার হেলমেট ব্যবহার করলে ঘাম ও ময়লা জমে থাকতে পারে।
ময়েশ্চারাইজার সম্পর্কে পুরুষদের মধ্যে দুটি ভুল ধারণা প্রচলিত।
একটি হলো, ময়েশ্চারাইজার শুধু শুষ্ক ত্বকের জন্য।
অন্যটি হলো, তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে তেল আরও বেড়ে যাবে।
বাস্তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা ধরনের পণ্য এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক পণ্য বেছে নেওয়া যেতে পারে।
তাই পুরুষের মুখের যত্নের রুটিনে ময়েশ্চারাইজারকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার আগে নিজের ত্বকের প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত।
দাড়ি ও গোঁফ শুধু চেহারার অংশ নয়; এগুলো মুখের ত্বকের পরিচর্যার ধরনও কিছুটা পরিবর্তন করে।
দাড়ি না থাকলে মুখের ত্বকে পরিষ্কার করার পণ্য সরাসরি পৌঁছানো সহজ। কিন্তু ঘন দাড়ি থাকলে ত্বকের নিচে পৌঁছানোর জন্য একটু বেশি যত্ন নিতে হয়।
দাড়ি রাখলে-
অনেক পুরুষ ত্বকের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পরিচর্যা শুরু করেন। অথচ কিছু সাধারণ ভুল আগে থেকেই এড়ানো গেলে দৈনন্দিন যত্ন অনেক সহজ হয়ে যায়।
মুখের ত্বকের জন্য তৈরি নয় এমন সাবান নিয়মিত ব্যবহার করলে কিছু মানুষের ত্বক শুষ্ক বা অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
মুখ তৈলাক্ত হলেই বারবার মুখ ধোয়া দরকার নেই। অতিরিক্ত পরিষ্কার করার অভ্যাস ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিষ্কার করার সময় জোরে ঘষলে ত্বকে অপ্রয়োজনীয় ঘর্ষণ তৈরি হয়।
ব্লেড দিয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে।
দীর্ঘদিন একই রেজার ব্যবহার করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়।
অন্য পুরুষের ত্বকে কোনো পণ্য ভালো কাজ করেছে বলে আপনার ত্বকেও সেটি ভালো কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
দিনের বিভিন্ন সময়ে আমরা অজান্তেই মুখে হাত দিই। অপরিষ্কার হাতে এই অভ্যাস এড়ানো ভালো।
দিনের ধুলা ও ঘাম মুখে রেখে ঘুমিয়ে পড়া নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা উচিত নয়।
শুধু প্রসাধনী ব্যবহার করলেই ত্বকের যত্ন সম্পূর্ণ হয় না। দৈনন্দিন জীবনযাপনও মুখের ত্বকের সামগ্রিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের স্বাভাবিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন রাত জেগে থাকার অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
শাকসবজি, ফল, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারসহ সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার।
পুরুষের মুখের যত্ন নেওয়ার জন্য প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আয়নার সামনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। বরং নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই একটি সহজ রুটিন তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সকালে মুখ পরিষ্কার করা, প্রয়োজনে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা, বাইরে যাওয়ার আগে সূর্য থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা এবং রাতে দিনের ধুলা ও ঘাম পরিষ্কার করা, এই কয়েকটি অভ্যাস দিয়েই একটি ভালো পরিচর্যার ভিত্তি তৈরি করা যায়।
এর পাশাপাশি দাড়ি-গোঁফের নিচের ত্বক পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত শেভ করলে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা, ব্যায়ামের পর ঘাম পরিষ্কার করা এবং অপরিষ্কার হাতে মুখে হাত না দেওয়ার মতো বিষয়গুলোও মনে রাখা দরকার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অন্য কারও রুটিন নিজের ওপর হুবহু প্রয়োগ না করে নিজের ত্বক ও জীবনযাপনের প্রয়োজন বুঝে পরিচর্যার অভ্যাস তৈরি করা।

আমি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ অধ্যায়নরত। হৈচৈ বাংলা ওয়েবসাইটে মাঝে মধ্যে শখের বশে লিখি; যদিও টেকনোলোজি আমার পড়াশুনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তবু যে কোন বিষয়েই লিখতে ভাল লাগে।
