Cart
No products in the cart.

আপনি কি কম দামে ভাল ক্যামেরা খোঁজ করছেন? যদি তাই হয়, তবে বলা যায় আপনি সঠিক জায়গায় চলে এসেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া আর ইউটিউব দুনিয়ায় বর্তমান সময়ে ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা পূর্বের তুলনায় অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি ভালো ক্যামেরা আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি যেমন ধরে রাখে, তেমনি ইউটিউব ভিত্তিক ভিডিও প্ল্যাটফর্ম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে ভিডিও আপলোডের চাহিদা পূরণ করে।
আমাদের মাঝে বেশিরভাগ মানুষ স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়েই সোশ্যাল মিডিয়া মাতিয়ে দিচ্ছে। কারণ, তাদের জন্যে বাজারে ভাল ক্যামেরার স্মার্টফোন এর অভাব নেই। কিন্তু আপনি যদি প্রফেশনাল কাজ করতে চান, যেমন ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করতে চান কিংবা বিয়ে বাড়ি বা কোনও অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারণ করতে চান, তবে আপনার একটি ভাল ক্যামেরা প্রয়োজন।
বর্তমান সময়ে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ক্যামেরা পাওয়া যায়। ডিএসএলআর থেকে শুরু করে অ্যাকশন ক্যামেরা প্রায় সব ধরনের ক্যামেরায় বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন সময় প্রয়োজন হয়। আজকের এই লেখায় আমি কম দামের সবচেয়ে ভালো মানের কিছু ক্যামেরার তালিকা দেব।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
টাইটেলে যদিও আমি কম দামের কথা বলেছি, তবে সবগুলোই যে কম দামের তা নয়। ৫৪০০ টাকা থেকে শুরু করে বাড়তে বাড়তে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এটা এই কারণে করেছি যাতে সবাই নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী ক্যামেরা কিনতে পারে। সুতরা, এসব ক্যামেরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি আপনার চাহিদার কথা মাথায় রাখবেন।
অতিরিক্ত হিসেবে আমি কেবল এইটুকুই বলতে পারি যে, সাধারণত অ্যাকশন ক্যামেরাগুলো প্রপেশনাল কাজের জন্যে বেশি ভাল হয়ে থাকে। অতএব, মূল টপিকে অর্থাৎ ক্যামেরা রিভিউতে যাওয়ার আগে আসুন অ্যাকশন ক্যামেরা সম্পর্কে জেনে নেই।

অ্যাকশন ক্যামেরা সাধারণ নরমাল ক্যামেরার মতই। তবে এসব ক্যামেরাতে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা এবং এক্সেসরিজ থাকে। সাধারণত যারা স্পোর্টস, বাইক কিংবা ট্রাভেলিংয়ের সময়ের ভিডিও ক্যাপচার করতে চান, তাদের জন্য অ্যাকশন ক্যামেরা ভিডিও করার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করে।
অ্যাকশন ক্যামেরার মাধ্যমে আপনি পানির মধ্যেও ভিডিও করতে পারবেন। এমনকি আপনি এটা মাথায় কিংবা বাইকের মধ্যে লাগিয়ে লাইভ ভিডিও করতে পারবেন। পাশাপাশি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ভিডিও এবং ছবি তুলতে পারবেন।
স্পেসিফিকেশন:
উপরের নাম দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন এটা একটি অ্যাকশন ক্যামেরা। শাওমি বাজারে তাদের দুর্দান্ত এই অ্যাকশন ক্যামেরাটি নিয়ে এসেছে। এটি স্বল্প বাজেটের মধ্যে সেরা মানের অ্যাকশন ক্যামেরা।

এই আলট্রা কমপ্যাক্ট ক্যামেরাটিতে সনি এক্সমোর আর বিএসআই সিএমওএস ইমেজ সেন্সর এবং F.28 আস্ফারিক এইচডি অপটিকাল গ্লাস লেন্সের মতো আলট্রা ওয়াইড এঙ্গেল। যার ফলে আপনার ভিডিও কোয়ালিটি যেমন ভালো থাকবে তেমনি অনেক বড় সীমানা জুড়ে ভিডিও করতে পারবে। এছাড়া এই ফিচারগুলি 4608 x 3456 পিক্সেলের ফটো এবং 60fps এবং 30fps এ 1080p ভিডিও ক্যাপচার করতে সহায়তা করে।
টাইম ল্যাপস ফটোগ্রাফি কিংবা টাইমার শ্যুটিংয়ের মতো ফিচার আপনি এই ক্যামেরায় পাবেন। ১৬ মেগাপিক্সেলের এই এইচডি অ্যাকশন ক্যামেরা সাথে আছে ওয়াইফাই সেবা। ফলে আপনি কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের সাথে কোন ধরনের ইউএসবি ক্যাবল ছাড়া ছবি বা ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন। যদিও ক্যাবল দিয়ে শেয়ার করার জন্য এর মধ্যে একটি ইউএসবি পোর্ট রয়েছে। ক্যামেরাটিতে বিল্ট কোন স্টোরেজ নেই তবে ৬৪ জিবি পর্যন্ত আলাদা ম্যামরি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।
স্পেসিফিকেশন:
নাম দেখে নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন এটাও একটি অ্যাকশন ক্যামেরা। তবে দামের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় করার কিছু নেই। অ্যাকশন ক্যামেরা হিসাবে এর পারফর্মেন্স দুর্দান্ত। এটাতে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা সেন্সর রয়েছে। এটা প্রতি সেকেন্ডে দশটি ছবি তুলতে সক্ষম। এই ক্যামেরার মাধ্যমে 1080p এ 60fps , 720p এ 100fps এবং 30fps এ ফোরকে ভিডিও করতে পারবেন। ১৭০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ছবি তুলতে সক্ষম গো প্রোর এই অ্যাকশন ক্যামেরাটি।

ক্যামেরা টি আপনি অনায়াসে সাঁতার কাটার সময় ব্যবহার করতে পারবেন কেননা ক্যামেরাটি সম্পূর্ণ ওয়াটারপ্রুফ। এই ক্যামেরার সাথে রয়েছে বিল্ট ইন মাইক্রোফোন, ব্লুটুথ, ওয়াইফাই এবং আলাদা ৬৪ জিবি পর্যন্ত মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা।
স্পেসিফিকেশন:
ক্যানন সবচেয়ে দামি ক্যামেরা লেন্স নিয়ে এসে বাজারে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা তারা বজায় রেখেছে। যারা স্বল্প বাজেটের মধ্যে অর্থাৎ কম দামে ভাল ক্যামেরা কিনতে চাইছেন, তাদের পছন্দের তালিকায় এই ক্যামেরাটি রাখতে পারেন। ক্যামেরাটিতে আপনি পাবেন ৭.৫ সেন্টিমিটারের এলসিডি মনিটর। ২০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে আপনি ফুল এইচডিতে ভিডিও করতে পারবেন।

এই ক্যামেরাটিতে ২৫ গুন অপটিকাল জুম করা যায়। এই ক্যামেরাটি আপনাকে নিজের জায়গা থেকে এক ইঞ্চিও না সরিয়ে দূরে এবং আশে পাশে থাকা ছবি গুলো পরিষ্কার ভাবে ক্যাপচার করতে সক্ষম। ২৫ মিমি আল্ট্রা ওয়াইড এঙ্গেলে এটি সম্পূর্ণ ফ্রেমে ছবি তুলতে সক্ষম। এছাড়া ক্যাননের এই ক্যামেরাটিতে বিল্ট-ইন ওয়াইফাই সুবিধা রয়েছে।
৪. Canon PowerShot SX720 HS
স্পেসিফিকেশন:
ক্যাননের কমপ্যাক্ট ক্যামেরাটিতে ২০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর রয়েছে। এটি 1080p এ ফুল এইচডি রেজোলিউশনে চমকপ্রদ ভিডিও করতে সক্ষম। এই ক্যামেরার সাহায্যে প্রায় ৪০ গুন দূরের ছবি জুম করতে সক্ষম। মিনিমাম সাটার স্পিড ১৫ সেকেন্ড। একটি সাধারণ ক্যামেরায় যেসব সুবিধা থাকার কথা তার সবগুলো সুবিধা এই ক্যামেরায় বিদ্যমান।

ক্যানন পাওয়ারশট স্টোরি হাইলাইটের সুবিধা রয়েছে। এর ফলে আপনার ছবি গুলো তারিখ, ইভেন্ট প্রভৃতি ক্যাটেগরি অনুসারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাসিফাইড হয়ে যাবে। এছাড়া ৩ মিনিটের করা ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং কালার ইফেক্ট যোগ করতে পারবেন। এটাতে রেট্রো, মনোক্রোম সহ ৪৬টির বেশী ফিল্টার রয়েছে।
৫. PowerShot G9 X Mark II Canon
স্পেসিফিকেশন:
ক্যানন পাওয়ারশটের ক্যামেরার মাধ্যমে 1920 x 1080 পিক্সেলের ফুল এইচডি রেজোলিউশনে ছবি এবং ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম। এটাতে থাকা সিএমওএস সেন্সর এবং অ্যাডভান্সড ডিজিক ৭ ইমেজ প্রসেসর প্রযুক্তি যেকোন আলোতে সঠিক ছবি তুলতে সক্ষম।

ক্যামেরার সাথে আছে 12x কম্বাইন্ড জুম, যা কিনা যেকোন দূরের ছবির কোয়ালিটি নষ্ট না করে সঠিক ভাবে ফোকাস করতে পারে। ইন্টেলিজেন্ট অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজারের কারণে সঠিক ভাবে স্থির ভিডিও করতে সক্ষম। এটাতে রয়েছে ৩ ইঞ্চি এলসিডি টাড ডিসপ্লে।
এই ছিল আজকে কম দামে ভাল ক্যামেরা নিয়ে হৈচৈ বাংলার প্রোডাক্ট রিভিউ পোস্ট। উপরে উল্লেখিত ক্যামেরাগুলোর দাম অনলাইনের দামের উপর ভিত্তি করে দেয়া। তাই বিভিন্ন অফার এর কারণে যেকোন সময় এসব ক্যামেরার দাম কম বেশী হতে পারে।

আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তবে আমি ওয়েব এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে কাজ করি। হৈচৈ বাংলাতে পোষ্ট পড়ার পাশাপাশি লিখার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে ভালোই লাগছে।

কম দামে কিনতে পাওয়া যায় এমন কিছু ক্যামেরা সম্পর্কে জেনে ভাল লাগলো।
ইউটিউব ও ফেসবুক ভিডিওর এই জামানায় এখন ভাল ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন প্রায় সবাই। আর এখানকার পিকিংটা বেশ ভাল হয়েছে, পছন্দ করা সহজ হয়ে গিয়েছে।
ক্যামেরগুলো সত্যিই ভাল। এই ৫টির কোনটি কি এখান থেকে ক্রয় করা যাবে?
আমার ১০০০০ টাকার ক্যামেরা চাই।