Cart
No products in the cart.
গত ১৮ বছর যাবৎ আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলোজি (এমআইটি) তাদের প্রযুক্তি পর্যালোচনা প্রকাশ করে আসছে। সমাজে দীর্ঘমেয়াদী অবদান রাখতে পারে এবং মানবকল্যাণে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে এমন ১০টি প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করে তারা। প্রতিবারের মতো এবারও অর্থাৎ ২০১৯ সালের প্রযুক্তি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা যেখানে ১০টি যুগান্তকারী প্রযুক্তি স্থান পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটিকে এবারের প্রতিবেদনটি প্রণয়নে সাহায্য করেছেন বর্তমান বিশ্বের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের তালিকায় ২য় অবস্থানে থাকা টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মাইক্রোসফট্ আর তার কোম্পানী বিল গেটস্ সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য রয়েছে যা আপনাকে বিস্মিত করতে পারে। যাইহোক, বিল গেটস্ তিনটি ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে এমআইটির প্রতিবেদনের জন্যে এই ১০টি প্রযুক্তিকে বাছাই করেছেন।
ক্যাটাগরি ৩টি হলো-
তো চলুন, দেখে নেই পৃথিবী বদলাতে যাওয়া এই ১০টি প্রযুক্তি-
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সাথে সাথে উন্নত হচ্ছে আমাদের জীবনযাত্রা, পরিবর্তিত হচ্ছে সমাজ, পরিবর্তিত হচ্ছে বিশ্ব। অদূর ভবিষ্যতের তাক লাগানো ১০ প্রযুক্তি সম্পর্কে আমরা আগেই জেনেছি। আর আজ জানবো চলতি বছরে এসেছে এবং আসবে এমন ১০টি প্রযুক্তি সম্পর্কে।

অনেক কাজ আছে পৃথিবীতে যেগুলো মানুষের জন্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এইসব কাজ করতে গিয়ে অনেক মানুষই অনেক সময় প্রাণ হারায়। কিন্তু প্রতিনিয়তই মানুষকে এইসব কাজ করতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। যেমন-
একবার চিন্তা করুন তো, এইসব কাজ যদি রোবট করত, তবে কত ভালো হত! বেঁচে যেত কত প্রাণ! প্রযুক্তির কল্যাণে এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রেই শুরু হয়েছে রোবটকে দিয়ে কাজ করানো। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এখন মানুষের জায়গায় রোবট ব্যবহৃত হয়। এটা যদিও এখনো অতটা প্রসার লাভ করেনি, তবে শীঘ্রই করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন অনেকে। আর বিল গেটস এটাকেই রেখেছেন প্রথম স্থানে।
পারমাণবিক শক্তিকে ধরা হয় ভবিষ্যৎ দুনিয়ার জন্য সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক শক্তির উৎস। বর্তমানে ফিশন চুল্লিগুলো পারমাণবিক চুল্লির জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ফিশন বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করছে কারণ এর চুল্লিগুলো গলে যায় না এবং এগুলো বেশি বর্জ্য পদার্থ সৃষ্টি করে না।
নতুন ডিজাইনের যেমন ৪র্থ প্রজন্মের ফিশন চুল্লি, আকারে ছোট কিন্তু কার্যকর চুল্লি। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে নতুন প্রজন্মের এই পারমাণবিক চুল্লিগুলো কার্বন নিঃসরন হ্রাসকরণ ও শক্তির উৎসগুলো আরো নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
বিল গেটস তাঁর স্বাস্থ্যখাতের পছন্দের তালিকায় যেই বিষয়গুলো রেখেছেন তার মধ্যে এটি অন্যতম। এটি হচ্ছে নতুন এক ধরণের রক্ত পরীক্ষা, যা করার মাধ্যমে একটি শিশুকে স্বাভাবিক সময়ের আগেই ভূমিষ্ঠ করা যাবে কিনা অর্থাৎ ভূমিষ্ঠ করলে তাঁর কোন অসুবিধা হবে কিনা তা জানা যায়। এই প্রযুক্তির ফলে অনেক নবজাতকের জীবন বাঁচানো যাবে।
নামটা শুনেই কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে, মনে হচ্ছে এটা আবার কি, তাই না? এটা হচ্ছে আন্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা করার এক নতুন পদ্ধতি। পরীক্ষাটির নিয়ম হচ্ছে, রোগীকে একটি ক্যাপসুল গিলতে হবে। আর এই ক্যাপসুলটিই মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র থেকে প্রয়োজনীয় চিত্র গ্রহণ করতে পারে।
এছাড়াও এর সাহায্যে বায়োপসিও করা সম্ভব। শিশুদের ক্ষেত্রেও এটা ব্যবহার করা সম্ভব। এর সাহায্যে অত্যন্ত ব্যায়বহুল রোগ যেমন পরিবেশগত অভ্যন্তরীণ অসুস্থতার মত রোগ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব।
এই ভ্যাকসিন হচ্ছে এমন এক ধরণের ভ্যাকসিন যা মানবদেহে প্রযুক্ত হলে মানবদেহের ইমিউন সিস্টেম ব্যবহার করেই টিউমার কোষগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা বাণিজ্যিকভাবে এই ভ্যাকসিন ব্যবহা করার প্রয়াস চালাচ্ছেন এবং এটা সফল হলে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর হার অনেকাংশেই হ্রাস পাবে।

না না, এখানে ফাস্টফুডের দোকানের বার্গারের কথা বলা হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, এর সাথে মাংসের সম্পর্ক আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উদ্ভিদ ভিত্তিক ও ল্যাবে পরিণত এই খাদ্যগুলো মাংসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে ভবিষ্যতে। এর পুষ্টিমান হবে মাংসের মতোই।
স্বাভাবিকভাবেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বে খাদ্য চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আবিষ্কারের ফলে আমিষের জন্য প্রাণির উপর নির্ভরশীলতা যেমন কমবে, তেমনিভাবে কমবে পরিবেশ দূষণ। বিল গেটস সম্প্রতি “মেম্ফিস মীট” নামক একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন যারা এই “কাউ ফ্রি বার্গার” নিয়ে কাজ করছে।
পৃথিবীতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস যেই হারে বাড়ছে, এক সময় হয়ত আমাদের প্রিয় এই গ্রহটি বসবাসের অনুপুযুক্ত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আশার বাণী শোনাচ্ছেন বিজ্ঞানী্রা। তাঁরা বলছেন যে তাঁরা এমন এক ধরণের প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন যা কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হওয়ার পূর্বেই সংগ্রহ করতে পারবে।
ইতোমধ্যেই এর ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে শিল্পকারখানায় কার্বন নিঃসরণের হার ৯০% এর মতো কমে আসবে।
পরিধানযোগ্য এই ডিভাইসের সাহায্যে মানুষ নিজের হৃৎপিণ্ডকে নিজেই সহজে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই অ্যাপল সম্প্রতি FDA (Food and Drug Administration) এর অনুমতি নিয়ে তাদের স্মার্টওয়াচে ECG ফিচার যোগ করেছে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতে স্মার্টওয়াচের এই স্বাস্থ্য বিষয়ক ফিচারটি নিঃসন্দেহে দারুণ ভূমিকা রাখবে। জেনে রাখতে পারেন স্মার্টওয়াচ কি আর এটি আমাদের কব্জিতে থেকে কিভাবে কাজ করে।
শুনতে ভারী অবাক লাগছে, তাই না! কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে একসময়ে যেসব বিষয়গুলো অবিশ্বাস্য ছিল, তাদের অনেকগুলোই এখন সবার চোখের সামনে ভাসছে। এই অবিশ্বাস্য জিনিসটাই হয়ত কিছুদিন পর সবার চোখের সামনে ভাসবে।
MIT এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মানুষ উত্তম স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এর কারণে নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, ছড়িয়ে পড়ছে জীবাণু। ব্যাঘাত ঘটছে মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনধারায়। প্রযুক্তিবিদরা এইসব সমস্যা দূরীকরণে এমন স্বয়ংসম্পূর্ণ টয়লেট তৈরি করেছেন, যেগুলোর জন্য কোন নর্দমা প্রয়োজন হবে না। ফলে দূষণের হাত থেকে বাঁচবে পরিবেশ। আর এইসব টয়লেট বর্জ্য পদার্থের জীবাণুগুলোকেও ভালোভাবেই সামাল দিবে।
কম্পিউটার বা এজাতীয় যন্ত্র যে মানুষের কথা বুঝতে পারে না, এটা সবাই জানেন। তাদের চালাতে হয় প্রোগ্রামিং ভাষা দিয়ে, আবার সেই ভাষাকে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে রূপান্তর করা লাগে। কিন্তু মানুষের পক্ষে এইসব যন্ত্র চালনা অত্যন্ত সুবিধাজনক হতো, যদি এরা মানুষের সব কথা বুঝত।
বিজ্ঞানীরা আইসিটি যন্ত্রগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যোগ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন অনেকদিন যাবৎ। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিপূর্ণভাবে মানুষের কাজে আসছে না। কারণ এরা মানুষের ভাষা বুঝে না। অনেক সাধনার পর বিজ্ঞানীরা এবার আলোর মুখ দেখছেন।
সম্প্রতি তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যন্ত্রগুলোর জন্য এমন এক ধরণের সহকারী আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন, যা মেশিন ও মানুষের ভাষাগত সম্পর্ক আরো সহজতর করবে। অর্থাৎ মানুষের ভাষা যন্ত্রগুলো আরো ভালোভাবে বুঝবে এবং এরা আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারবে।
শেষ কথা
২০১৯ সালের প্রযুক্তি সম্পর্কে একটা আইডিয়া পেলেন। ১০টি যুগান্তকারী প্রযুক্তি সম্পর্কে জানলেন। এবার আমাদের জানান আপনার কেমন লাগলো? এসব প্রযুক্তি নিয়ে আপনি কি ভাবছেন? আপনার মাথায় কি আরো কোন নতুন প্রযুক্তির কথা আসছে? যে কোন কিছুই আমাদের জানাতে পারেন নিচের কমেন্ট বক্সে লিখে।

আমি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে অনুসন্ধিৎসু একজন মানুষ। নিয়মিত এসব বিষয়ে খবরাখবর রাখি। পাশাপাশি আমি একজন ক্রীড়ামোদীও বটে।
