Cart
No products in the cart.

কিভাবে অল্প ডাটা খরচে ফেসবুক ব্যবহার করা যায়, এই প্রশ্নটি সবারই কমবেশি রয়েছে। কারণ, আমাদের দেশের মোবাইল অপারেটর কোম্পানীগুলো ডাটার যে দাম রাখে, তাতে আমাদের আসলেই ডাটা খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হয়। বিশেষ করে আমরা যারা এখনো স্টুডেন্ট, স্মার্টফোনে ডাটা খরচ নিয়ে তাদের চিন্তাটাই সবচেয়ে বেশি।
আমাদের সবার স্মার্টফোনে সবচেয়ে কমন অ্যাপটি সম্ভবত ফেসবুক। প্লে-স্টোরে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া এই অ্যাপটি নিয়মিত ব্যবহারের দিক থেকেও এগিয়ে আছে। প্রায় সবাই স্মার্টফোনে বড় একটা সময় কাটায় ফেসবুকে।
নিত্য নতুন ফিচার যোগ করে জনপ্রিয়তারও কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফেসবুক অ্যাপ। কিন্তু সবকিছু সত্ত্বেও এই অ্যাপ সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের অভিযোগের অন্ত নেই। যার অন্যতম একটি অভিযোগ হচ্ছে, এটি প্রচুর ডাটা খরচ করে।
আপনি যদি শুধু মাত্র ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বা ওয়াইফাই ব্যবহার করতেন, তাহলে ডাটা খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু ছিলো না। কিন্তু সব সময় বা সব জায়গায় আমাদের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এখনও সহজলভ্য নয়। বাসাতে ওয়াইফাই থাকলেও বাইরে বের হলে ইন্টারনেটের জন্য ডাটা কিনতেই হয়।
আর যাদের এলাকায় ওয়াইফাই সুবিধা নেই, তাদের কাছে ইন্টারনেট মানেই মোবাইল ইন্টারনেট, ইন্টারনেট মানেই হিসেব করা ডাটা কেনা। তাই ফেসবুক অ্যাপেসেই ডাটা প্যাকেজ থেকে প্রচুর পরিমাণ ডাটা খরচ হওয়াটি আসলেই একটি সমস্যা। তাই চলুন দেখে নিই, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোনে কিভাবে কম ডাটা খরচে ফেসবুক ব্যবহার করা যায়।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-

আপনার ফোনের ক্যামেরা যদি খুব চমৎকার হয়, তাহলে সেটি দিয়ে যে ভিডিও বা ছবি তোলা হয়, সেটির রেজুলেশন থাকে অনেক বেশি। সব সময় আপনাকে ফেসবুকে একদম অরিজিনাল রেজুলেশনের ছবি বা ভিডিও দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। এছাড়া ভিডিও অটোপ্লেও কোন প্রয়োজনীয় বিষয় নয়। তাই, ডাটা খরচ কমানোর জন্য ফেসবুক অ্যাপের সেটিং থেকে এই ফিচারগুলো বন্ধ করে দিন।
ফটো বা ভিডিও আপলোড হতে বেশি ডাটা খরচ হবে না এবং ফেসবুকে কোন ভিডিওতে চাপ না দেওয়া পর্যন্ত সেটা চালু হবে না। ফলে এর জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত ডাটা খরচ কমে যাবে অনেকখানি।


ফেসবুকের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে ডিফল্ট একটি ডাটা সেভার অপশন রয়েছে, যেটি আসলে হাই রেজুলেশনের ছবি/ভিডিও আপলোড ও ভিডিও অটোপ্লের মতো বিষয়গুলো বন্ধ করে দেয়।
আপনি যদি উপরের কাজগুলো না করতে পারেন, তাহলে শুধুমাত্র ডাটা সেভার মুড অন করলেও ঐ কাজগুলো করা হয়ে যাবে।

মোবাইল ডাটা ইউজার এবং লো কনফিগারের ফোনের কথা চিন্তা করেই এই অ্যাপটি ডিজাইন করা হয়েছে। দেড় থেকে দুই মেগার এই অ্যাপে আপনি ফেসবুকের সব ফিচার পাবেন না। তবে এটি শুনে চিন্তার কিছু নেই। প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো এতে পাবেন।
বাড়তি সুবিধা হিসেবে এটি আপনার ফোনের খুবই অল্প জায়গা ব্যবহার করবে, ফলে ফেসবুকের কারণে ফোন আর স্লো হবে না। উপরন্তু, যেটির জন্য ফেসবুক লাইট এর কথা বলা, সেই ডাটা খরচ কমিয়ে দেবে একেবারেই। আপাতত এর থেকে কম ডাটা খরচে আর আপনি ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবেন না।

এছাড়া যেসব ফোনে ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা রেস্ট্রিকশনের সুবিধা আছে তারা সেটি অন করে রাখতে পারেন। এতে আপনি ফেসবুক অ্যাপে প্রবেশ না করলে সেটি কোন ডাটা খরচ করবে না।
আইফোনে যেভাবে অল্প ডাটা খরচে ফেসবুক ব্যবহার করবেন
আমাদের দেশে আইফোন ব্যবহারীর সংখ্যা কম হলেও, অনেকেই রয়েছেন যারা আইফোন ব্যবহার করেন এবং তাদের আইফোনেও রয়েছে ফেসবুক অ্যাপ। এবার তাদের জন্যে রয়েছে ডাটা খরচ কমানোর উপায়।
অ্যান্ড্রয়েড এর মতো এখানেও ডাটা খরচ কমানোর জন্য এই কাজটি আপনাকে করতে হবে।


আইফোন বা আইওএস এর একটি ফিচার হচ্ছে, এর অ্যাপগুলো আপনি না চালালেও ব্যাকগ্রাউন্ডে অনলাইন থেকে ডাটা ডাউনলোড করে রাখবে। যাতে পরবর্তীতে খুব সহজেই আপনি লেটেষ্ট তথ্যগুলো পেতে পারেন। কিন্তু এই ফিচারের জন্য আপনার ফেসবুক অ্যাপ বেশ ভালো পরিমাণ ডাটা আপনার অজান্তেই ব্যবহার করে থাকে। তাই এটিকে বন্ধ করে দিন।

ওয়াইফাই অ্যাসিস্ট ফিচারটি মূলত আইফোনের নেটওয়ার্কের ভারসাম্য রক্ষা করে। এটির জন্য যদি আপনার ফোনের ওয়াইফাই সংযোগটি সমস্যা করে বা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ডাটা অন হয়ে যাবে। ইন্টারনেটের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন রাখার জন্য এটি খুবই চমৎকার একটি ফিচার।
কিন্তু ডাটা প্যাকের কথা চিন্তা করলে এটি বন্ধ করে রাখতেই পারেন। এতে শুধু ফেসবুক না, আপনার সামগ্রিক ডাটা খরচ কমে আসবে। এটি বন্ধ করার জন্য—

আইফোনের জন্য গতো সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে ফেসবুক লাইট রিলিজ করা হয়েছে। তাই সেটি এখনই হয়ত ডাউনলোড করতে পারবেন না। সবার জন্য উন্মুক্ত হলে তখন আইফোনেও এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
আর এরচেয়েও যদি অল্প ডাটা খরচে ফেসবুক ব্যবহার করতে চান, তাহলে ফেসবুক অ্যাপ আনইন্সটল করে ব্রাউজার থেকে ফেসবুকের বেসিক ভার্সন কিংবা ফ্রি ফেসবুক ব্যবহার করতে পারেন।

মূলত, পাঠক। পড়তেই ভালো লাগে। সেটা কাগজের বই কিংবা স্ক্রিনে ইবুক, যাইহোক না কেন। পাঠ্যবই না হলেই আমি খুশি।
পড়াশোনা করছি পদার্থবিজ্ঞানে।
প্রযুক্তির বিষয়ক লেখা পড়তে সবসময়ই একটু বেশি ভালো লাগে। আর নতুন কিছু জেনে কাউকে সেটা জানাতে পারলে আনন্দটা একশগুণ হয়ে যায়। অবসরে টুকিটাকি লেখার চেষ্টা করার পিছনে সেই লোভটুকু ভালোভাবেই কাজ করে! 🙂
