Cart
No products in the cart.

ইউটিউবে চ্যানেল খোলার পর প্রথম লক্ষ্য থাকে ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধি করা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ভিডিওতে মিলিয়ন ভিউ আছে কিন্তু সাবস্ক্রাইবার খুব কম। এরূপ সমস্যার মুখোমুখি অনেকেই হয়ে থাকেন।
ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার না থাকলে ভিডিওতে ভিডিও পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া, সাবস্ক্রাইবার না থাকলে ভিডিও তৈরির অনুপ্রেরণাও পাওয়া যায় না। একজন সফল ইউটিউবার হতে হলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধি করার চিন্তা করতে হবে।
বেশি সাবস্ক্রাইবার থাকাটা চ্যানেলের একটি ব্রান্ডিং। যে-সব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বেশি, তাদের ভিউ এবং আয় সব সময় বেশি থাকে। সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধি করার কোন জাদুর কাঠি নেই। কিন্তু কিছু কৌশল অবলম্বন করলে আপনি দ্রুত আপনার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে পারবেন।
আসুন জেনে নেয়া যাক সে-সব কৌশলগুলো। ইতোমধ্যে আপনার পর্যপ্ত সাবস্ক্রাইবার থাকলে, ইউটিউব ভিডিওকে সার্চের শুরুতে আনার ৪টি সুপার টিপস্ জেনে নিন।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-

ভিউয়ারদের সাবস্ক্রাইব করতে বলাটা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। এই সহজ কাজটি আপনার সাবস্ক্রাইব বৃদ্ধি করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। খেয়াল করে দেখবেন অনেক বিখ্যাত ইউটিউবাররা ভিডিওতে তাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করার কথা বলেন।
ভিডিওতে বলার সুযোগ না থাকলে সাবস্ক্রাইব অ্যানিমেশন তৈরি করে দেখানোর চেষ্টা করুন। কেন আপনার চ্যানেল তারা সাবস্ক্রাইব করবে, এই কথাটি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন। তবে, খেয়াল রাখতে হবে সাবস্ক্রাইব করার কথা খুব বেশি যেন বলা না হয়। কিন্তু ভিডিওর শেষে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করার কথা বলতে হবে।
প্রতিটি ভিডিওর শেষে ভিউয়ারদের আপনার পরবর্তী ভিডিও সম্পর্কে অবহিত করুন। এটা আপনার চ্যানেল সম্পর্কে ভিউয়ারদের মধ্যে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করবে। মানুষকে আপনার চ্যানেলের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। আপনি যখন একটি ভিডিওতে পরবর্তী কোনও আকর্ষণীয় ভিডিওর ঘোষণা দেবেন, তখন সেটি ভিউয়ারকে আপনার চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে উৎসাহিত করবে।
এই কাজটি করার জন্য প্রতিটি ভিডিও তৈরির পর পরবর্তী ভিডিও টপিক ঠিক করে ফেলুন। এছাড়া, আরও বুদ্ধিমানের কাজ হবে ভিডিওর শেষে ভিউয়ারদের চাহিদা জানতে চাওয়া।
যেকোনো ভিডিওতে দ্রুত ক্লিক এবং ভিডিও পাওয়ার প্রধান হাতিয়ার আকর্ষণীয় থাম্বনেইল। খেয়াল করে দেখবেন, যাদের সাবস্ক্রাইবার বেশি তাদের থাম্বনেইলগুলো আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।

থাম্বেনেইলের মধ্যে চ্যানেল লোগো যুক্ত করাটা বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া, লাল রঙয়ের তীর চিহ্ন দেয়া কিংবা রঙ্গিন বর্ডার যুক্ত করে থাম্বনেইলকে আকর্ষণীয় করা যায়।
আপনার চ্যানেলের জন্য নিজস্ব কভার আর্ট তৈরি করুন। এটা আপনার চ্যানেলের সৌন্দর্য তৈরি করার পাশাপাশি নিজস্ব আইডেন্টি তৈরি করবে। মানুষ আপনার চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে নিশ্চয়তা পাবে। এছাড়া, আপনার চ্যানেলের আলাদা প্রিমিয়াম একটা লুক আসবে।
ব্রান্ডিং ওয়াটার-মার্ক, এন্ড স্ক্রিন নামক ক্লিক করার মত ফিচার ইউটিউবে রয়েছে। এ-সব ফিচার মূলত সাবস্ক্রাইবার আর ভিউ বৃদ্ধির জন্য দেয়া।

সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধি করতে এসব ফিচার বেশ কার্যকরী। কেননা এগুলো আপনার চ্যানেলের সাথে ভিউয়ারের ইন্টার্যাক্টিভ সম্পর্ক তৈরি করে।
মাঝে মধ্যে আপনার চ্যানেল থেকে প্রতিযোগিতার আয়োজন করুন। ১০ হাজার সাবস্ক্রাইবার হলে ১০০ টি-শাট কিংবা অন্য কিছু দেয়া হবে এমন প্রতিযোগিতা। সে-জন্য আপনার ভিউয়ারদের স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করার কথা বলতে পারেন।
আপনার ভিডিওতে যখন কেউ কমেন্ট করবে, খুব সুন্দর করে উত্তর দিন। তার সাথে সখ্যতা তৈরি করুন। ভিউয়ারদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করলে আপনার চ্যানেলের প্রতি তাদের আলাদা আকর্ষণ তৈরি হবে।
এটা শুধু আপনার সাবস্ক্রাইবার নয়, বৃদ্ধি করবে স্যোশাল শেয়ারও। ভিউয়ারদের সাথে যখন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে, তখন তারা আপনার চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করবেই।
ইউটিউব এসইওতে অসম্ভব প্রভাব ফেলে প্লে-লিস্ট। আপনার ভিডিওগুলোকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্লে-লিস্ট তৈরি করুন।

আপনার অন্য অ্যাকাউন্ট কিংবা বন্ধুদের অ্যাকাউন্ট দিয়ে আপনার চ্যানেলের ভিডিও ও অন্য চ্যানেলের ভিডিও নিয়ে প্লে-লিস্ট তৈরি করে ফেলুন। প্লে-লিস্টের নাম দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই কি-ওয়ার্ড ভিত্তিক নাম দিতে হবে।
১০ হাজার, ১ লক্ষ কিংবা দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমন পরিমাণ সাবস্ক্রাইবার হলে তা উদযাপন করুন। আজকাল অনেকে এটাকে Q & A নামে উদযাপন করে থাকে। এই ধরণের কাজ কর্মের মাধ্যমে আপনার ভিউয়ারদের সাথে সম্পর্ক গভীর হবে। আপনার চ্যানেলের প্রতি তাদের আলাদা মায়া জন্ম নিবে।
ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধি করতে হলে ভাল টপিক এবং কন্টেন্টের বিকল্প কিছু নেই। মানুষ কি চায় তার উপর বেশি নজর দেয়া জরুরি। আপনার চ্যানেল যদি মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারে, তাহলে তারা এমনিতেই সাবস্ক্রাইব করবে। কিন্তু যদি মানসম্মত কন্টেন্ট দেয়ার পরেও সাবস্ক্রাইবার না আসে, তাহলে উপরে উল্লেখিত টিপস্ কাজে আসবে।

আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তবে আমি ওয়েব এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে কাজ করি। হৈচৈ বাংলাতে পোষ্ট পড়ার পাশাপাশি লিখার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে ভালোই লাগছে।
