Cart
No products in the cart.

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্টাইল পরিবর্তণ করার জন্য এবং ফোনটিকে স্টার্টআপ করার সময় সতেজ দেখানোর জন্য সেরা উপায় হলো সেরা অ্যান্ড্রয়েড লঞ্চার অ্যাপস্ ব্যবহার। কোম্পানি কর্তৃক বাজারে আসার আগেই ডিফল্টভাবে প্রতিটা অ্যান্ড্রয়েড সেটেই একটি করে লঞ্চার বা স্কিন রিপ্লেসমেন্ট অ্যাপস দেওয়া থাকে। পরবর্তীতে আরও উন্নতমানের কিংবা আরও স্টাইলিশ লঞ্চার ইন্সটল করা যায়। বিভিন্ন ধরণের এবং বিভিন্ন স্টাইলের লঞ্চার পাওয়া যায়। যা আপনার অ্যাড্রয়েড ডিভাইসটির স্টার্টআপকে একটি নতুন লুক দিতে পারে।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
লঞ্চার মূলত এক ধরণের ইউটিলিটি সফট্ওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন। এ ধরণের সফট্ওয়্যার সাধারণত ডিভাইসকে সাজাতে এবং ডিভাইসের সৌন্দর্য্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটারসহ মানুষের জন্য ব্যবহার্য্য প্রায় সব ধরণের ডিভাইসের জন্যই লঞ্চার রয়েছে। লঞ্চার ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেমে ইনস্টল হয়ে ডিভাইসকে আরো সুন্দর ও ব্যবহারের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলে।
এক কথায়, যে লঞ্চার অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জন্য বিশেষভাবে ডেভেলপ করা, সেটিই অ্যান্ড্রয়েড লঞ্চার। এ ধরণের লঞ্চারগুলো অ্যান্ড্রয়েড ইন্টারফেসের একটা পার্ট যা দিয়ে একজন ইউজার তার স্মার্টফোনের হোম স্ক্রিণকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারে। হোম স্ক্রিণ সাজানো এবং মোবাইল অ্যাপ লঞ্চ করাসহ নানা রকম কাজে এই ধরণের লঞ্চারগুলো ব্যবহৃত হয়।
আপনার ডিভাইসের ইউজার ইন্টারফেসের লুক পরিবর্তণের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অ্যান্ড্রয়েড লঞ্চার। নতুন নতুন থিম এবং স্টার্টআপের পরিবর্তণ আনার জন্যই মূলত ব্যবহার করা হয় অ্যান্ড্রয়েড লঞ্চার অ্যাপস। এবার জেনে নেওয়া যাক সেরা কিছু অ্যান্ড্রয়েড লঞ্চার অ্যাপস্ সম্পর্কে।
বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা একটি লঞ্চার অ্যাপস হলো নোভা লঞ্চার। সেরা স্ক্রিন রিপ্লেসমেন্ট অ্যাপসগুলোর সাধারণত অধিকাংশ ফাংশন এক হলেও এই লঞ্চারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যে বিষয়গুলো লক্ষণীয় তার মধ্যে উইজেট ডকের সাথে ফোল্ডার, ট্যাব এবং ব্যাকড্রপসের জন্য কালার কন্ট্রোল ইত্যাদি। এছাড়াও ভার্টিকাল কিংবা হরাইজন্টাল স্ক্রলিং এবং কাস্টম ইফেক্টও পাওয়া যাবে এই লঞ্চারটিতে। আরো যে-সব বিশেষ বিশেষ ফিচার রয়েছে সেগুলো নিচে আলোচনা করা হল-

দীর্ঘ সময়ের জন্য জনপ্রিয় একটি লঞ্চার ছিল এই লঞ্চারটি। সেরা অ্যান্ড্রয়েড লঞ্চার অ্যাপস্ এর তালিকায় এটি এখনো অনন্য অবস্থানে রয়েছে। অভিনব ট্র্যান্সিশন ইফেক্টের সাথে আপনার ইচ্ছামত ইলিমেন্ট হাইড করা যাবে এই অ্যাপসটি দিয়ে। এছাড়াও মাল্টিপল ড্রয়ার ইফেক্ট, প্রতিটি ফোল্ডারের জন্য আলাদা প্রিভিউ স্টাইল এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ইত্যাদি সুবিধা রয়েছে এই অ্যাপে।
অন্যান্য ফিচার-

হোম স্ক্রিনে ব্যাক না করেই যদি আপনি আপনার অ্যাপসে অ্যাক্সেস পেতে চান, তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে এই অ্যাপসটি। কারণ এর “ওমনি সোয়াইপ টুল” আপনাকে সরাসরি হোম স্ক্রিনে ব্যাক না করিয়েই অ্যাক্সেস দিবে অ্যাপসে। ব্যাটারি সেভার, পাওয়ার ম্যানেজার, এন্টি ভাইরাস অ্যাপস, টাস্ক ম্যানেজার এবং ফাইল ম্যানেজার ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এই অ্যাপসটির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও DIY থিমের কারণে আপনি খুব সহজেই পারসোনালাইজড করতে পারবেন থিমগুলোকে।
অন্যান্য ফিচার সমূহ-

এই অ্যাপসটির রয়েছে একটি ইউনিভার্সাল সার্চ ফাংশন যার মাধ্যমে আপনার অ্যাপ্লিকেশন, কন্টাক্টস্ এবং আরও অনেক কিছু খুব সহজেই খুঁজে বের করতে পারবেন। এছাড়াও অনুসন্ধানের সময় শর্টকাটও তৈরি করতে পারবেন। লে-আউট, ওয়ালপেপার, অ্যাপ আইকন ইত্যাদি আপনি আপনার ইচ্ছামত সাজিয়ে নিতে পারবেন এই লঞ্চারটি ব্যবহারের মাধ্যমে।
আরো যে-সব সুবিধা রয়েছে এই অ্যাপে-

সেরা অ্যান্ড্রয়েড লঞ্চার অ্যাপস্ এর তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা মাইক্রোসফটের একটি দুর্দান্ত লঞ্চার হলো এই অ্যারো লঞ্চারটি। আপনার ইচ্ছামত নিউজ ফিড পারসোনালাইজড করতে পারবেন। এর ফলে আপনি নিউজ, ফিড, কন্টাক্টস, ডকস ইত্যাদি পাবেন আপনার পারসোনালাইজড করা ফিডে। এছাড়াও ওয়ালপেপার, থিম, অ্যাকসেন্ট কালার ইত্যাদি আপনার ইচ্ছামত পরিবর্তণ করে নিতে পারবেন।
আরো যে-সব গুরুত্বপূর্ণ ফিচার রয়েছে-

বর্তমানে বেশিরভাগ ফ্ল্যাট পদ্ধতির UI থাকা সত্ত্বেও জনপ্রিয় কিছু 3D লঞ্চারের মধ্যে রয়েছে এই লঞ্চারটি। ইন্টারেক্টিভ আইকন, 3D উইজেট, আনলিমিটেড ডক বার ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এই লঞ্চারটিকে করেছে অনন্য। ১০টিরও বেশি এক্সক্লুসিভ উইজেট, যেমনঃ ম্যাসেজ, ক্লক, আবহাওয়া, মেমো, মিউজিক, গ্যালারী প্রভৃতি রয়েছে এই লঞ্চারটিতে।
এছাড়াও আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচার রয়েছে এই লঞ্চারটিতে, দেখুন সেগুলো-

3D শেল লাইটটি প্রো সংস্করণের একটি ডাম্প ডাউন সংস্করণ। 3D উইজেট, ট্রান্সিশন ইফেক্ট, এবং স্লিক লাইভ ওয়ালপেপার এই লঞ্চারটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এছাড়াও লঞ্চারটিতে পাবেন আইকন এডিটর, অ্যাডিশনাল ট্রান্সিশন এবং থিম মিক্স মোড যা এটিকে সেরা অ্যান্ড্রয়েড লঞ্চার অ্যাপস্ এর তালিকায় স্থান দিয়েছে।

গুগল প্লে স্টোরের ব্যবহারকারীদের জনপ্রিয় হোমস্ক্রীন অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে একটি হলো এই লঞ্চারটি। এর সহজ ইন্টারফেসের জন্য এটি বিখ্যাত এবং কাস্টমাইজেবল থিম যা আপনার ভালো লাগতে বাধ্য। আপনার স্মার্টফোনটিকে যদি আপনি স্টাইলিশ এবং আরও বেশি পারসোনালাইজড করতে চান তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো লঞ্চার হলো এই লঞ্চারটি।
স্ক্রিন 3D ইফেক্ট, অ্যাপ উইজেট, এক লাখেরও বেশি ফ্রি HD ওয়ালপেপার দিয়ে খুব সহজেই আপনি পারবেন আপনার ফোনের হোম স্ক্রিন, মেনু এবং লক স্ক্রিনটিকে পারসোনালাইজড করে ফেলতে।

এই অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে কুইক থিম, কভারস এবং কুইকপ্যাড বৈশিষ্ট্যগুলো। এর মধ্যে Quickpage আপনাকে আপনার ইন্টারফেস থেকে লুকানো হোম স্ক্রীনে অ্যাক্সেস করার অনুমতি দেয়। “At a Glance widget” এর মাধ্যমে আপনি ওয়েদার, ডেট এবং নেক্সট ক্যালেন্ডার এপয়েন্টমেন্ট ভিউ দেখতে পারবেন। এছাড়াও কাস্টমাইজ করা যাবে গুগল সার্চ বার।

আরো একটি সেরা অ্যান্ড্রয়েড লঞ্চার অ্যাপস্ Atom Launcher। স্বয়ংক্রিয় প্যানেল, নিজস্ব উইজেট এবং অন্যান্য কাস্টমাইজেবল বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে একটি অদৃশ্য ডকসহ প্রচুর ক্ষুদ্র অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে এই লঞ্চারটিতে। গ্যালারী এবং থিম ইমেজের মাধ্যমে খুব সহজেই নিজস্ব অ্যাটম থিম বানানো সম্ভব।
ডিজিটাল ক্লক, কুইক সেটিংস, ক্লক+সার্চ বৈশিষ্ট্যও রয়েছে এই লঞ্চারটির। আইকন কাস্টমাইজও করা যাবে এই লঞ্চারে। সুইপ আপ, সুইপ ডাউন এবং ডবল ট্যাপ গ্যাসচারের সুবিধাও রয়েছে এতে।

যে কোনো স্মার্টফোনের স্টার্টআপ স্ক্রিনের লুক কিংবা স্টাইল পরিবর্তণে সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করে লঞ্চার। প্রতিটি লঞ্চারই কোন না কোন সুবিধা প্রদান করে থাকে। তবে সেরা লঞ্চারটি বাছাই করে নিয়ে নিজের ফোনটির স্টার্টআপ স্ক্রিনের পরিবর্তণ করে দিতে বেছে নিতে পারেন এই পোস্টে উল্লিখিত এই দশটি লঞ্চার অ্যাপস। যেগুলো আপনার ফোনের জন্য অবশ্যই একটি ভালো এবং চমৎকার লঞ্চার হবে এবং আপনার ফোনটিকে করে তুলবে অসাধারণ।

টেকনোলজি নিয়ে প্রচুর আগ্রহীদের মধ্যে আমি একজন। যে কারণে টেকনোলজি বিষয়ক যে কোন আর্টিকেল আমি খুব আগ্রহ নিয়েই পড়ি।

অ্যান্ড্রয়েড এর জন্য লাঞ্চার অ্যাপস আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি পড়ে উপকৃত হলাম।