Cart
No products in the cart.

ছোটবেলায় দাদা-দাদীর কাছ থেকে ভূতের গল্প শোনার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে! এখন সেই গল্পগুলোকে কাছ থেকে অনুভব করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন আপনার হাতের স্মার্টফোনটি। ইন্টারনেট জুড়ে প্যারানরমাল অ্যাকটিভিটি পর্যবেক্ষণের জন্য বেরিয়েছে দারুণ সব অ্যাপ, ভূতের অবস্থান জানুন এই অ্যাপগুলো দিয়ে।
তবে প্রথমেই বলে রাখছি, আপনি যদি ভূতে ভয় পান তাহলে এই অ্যাপগুলো থেকে দূরে থাকুন। আর যদি নিজেকে সাহসী মনে করেন এবং প্যারানরমাল ঘটনাবলিতে আগ্রহী হন তবে এই অ্যাপগুলো আপনার জন্য। হরর মুভি দেখতে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন প্যারানরমাল ঘটনার আমেজে ডুবে থাকতে; তবে আর দেরি না করে নিচে বর্ণিত অ্যাপগুলো থেকে নিজের পছন্দ মতো একটি ডাউনলোড করে নিন।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
আপনি এই মুহূর্তে যেখানে অবস্থান করছেন তার আশেপাশে কোন ভূত নেই তো! থাকলে কোথায় এবং আপনার থেকে কত দূরে তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করতে পারেন গোস্ট ডিটেক্টর অ্যাপগুলো। খানিকটা হাস্যকর শোনালেও সত্য যে কিছু কিছু অ্যাপ আপনাকে ভূতের সাথে কথা বলতেও সাহায্য করবে!
আরো পড়ুন:
আপনার যদি মনেহয় আপনি সত্যিকারের একটা ভূতের আকৃতি দেখতে চান তাহলে এই অ্যাপটি আপনার জন্য। এই অ্যাপটির ব্যবাহারবিধি অত্যন্ত সহজ। শুধু ইন্সটল করেই ভূতের সন্ধানে নেমে পড়তে পারবেন। এখানে নাইট মুড ক্যামেরা পাবেন যেটা দিয়ে অন্ধকারে প্যারানরমাল অস্তিত্বের অবয়ব দেখা যাবে। সুতরাং, অ্যাপটা চালু করে হাঁটা শুরু করুন। আর খুঁজে বের করুন আপনার ঘরে বা ঘরের বাইরে কোথায় ভূতের অস্তিত্ব আছে। যদি ভূত মশাইকে পেয়ে যান আর তার কাছে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে ভদ্রভাবে সেটা টাইপ করে দিন এবং তার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করুন।
আরো পড়ুন:
এই অ্যাপের বিশেষত্ব হচ্ছে এখানে আপনি যে ভূতটি খুঁজে পাবেন সেটা কোন শ্রেণির এই তথ্যও জানা যাবে অ্যাপ থেকে। গোস্ট ডিটেকটর রাডার বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে অ্যাপের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া ভূতের ছবিও শেয়ার করতে পারবেন আপনি। কিন্তু মনে রাখবেন ভূত ধরার এই অ্যাপ বিনোদনের জন্যই তৈরি হয়েছে। বাস্তব জীবনে এগুলোর বিজ্ঞান সম্মত কোন ব্যাখ্যাই নেই। সুতরাং, নিজের মোবাইলে অন্ধকারে হঠাৎ ভূত দেখে আবার অজ্ঞান হয়ে যাবেন না যেন!

এই অ্যাপটা তাদের জন্যই তৈরি যারা প্যারানরমাল ঘটনার তদন্ত এবং রেকর্ডিংয়ে আগ্রহী। অ্যাপটা একই সাথে দারুণ মজার এবং এর ব্যবহারও অত্যন্ত সহজ। এখানে ম্যাগনেটোমিটার সেন্সর বসানো থাকে। ধারণা করা হয় যে অশরীরীদের আশপাশে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড (EMF) তৈরির প্রবণতা বেশি। এই অ্যাপটিতে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে ইএমএফ রেকর্ড নিতে পারবেন এবং পরে সেটা অ্যানালাইজ করে প্যারানরমাল বস্তুর অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে করবেন।
আরো পড়ুন:
অ্যাপটা ব্যবহারের সময় আপনাকে মোবাইল স্ক্রিনের দিকে মনোযোগ রাখতে হবে। ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরিকারী অস্তিত্ব অর্থাৎ ভূত মশাইকে খুঁজে পেলেই অ্যাপ আপনাকে সিগন্যাল পাঠাবে। নির্দিষ্ট শব্দ শুনতে পাবেন মোবাইলে। তবে শব্দ শুনে ভয় পেয়ে গেলে তার থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থাও আছে। চাইলে সেটিংয়ে গিয়ে শব্দ বন্ধ করে দিতে পারেন।

স্পেন, যুক্তরাজ্য এবং ভারত, এই তিনটি দেশের ডেভলপারদের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল প্যারিস স্পিরিট বক্স অ্যাপটি। এই অ্যাপটি ব্যবহারের বিভিন্ন মুড আছে : A, B এবং C. প্রাচীন ‘ভিডা এবং মহাবার্তা’র স্ক্রিপ্ট এই অ্যাপটি তৈরিতে ডেভলপারদের অনুপ্রাণিত করেছে।
প্যারিস স্পিরিট বক্সের সুবিধা হচ্ছে এটা দিয়ে আপনি দূরে অবস্থানকৃত প্যারানরমাল অস্তিত্বও নির্ধারণ করতে পারবেন। এখানে আপনি ছবি এবং তার বিস্তারিত বর্ণনা পাবেন। তবে এই অ্যাপটা লঞ্চ করার আগে ফোনকে এয়ারপ্ল্যান মুডে রাখতে হবে এবং ব্লুটুথ অপশন বন্ধ করতে হবে। এখানে এমন সব অপশন পাবেন যেগুলো দিয়ে আপনি প্যারানরমাল পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।
আরো পড়ুন:
অ্যাপ থেকে যখন আপনি কোন কিছুর অস্তিত্ব বা নড়াচড়ার সিগন্যাল পাবেন তখন স্ক্রিনে বিভিন্ন রঙের আলো দেখতে পাবেন। প্রত্যেকটা রং ২০% কম/বেশি ইএমএফ রিডিং নির্দেশ করে।
এই অ্যাপে আপনি প্যারানরমাল অস্তিত্বের সাথে কথা বলতে পারবেন। জিজ্ঞেস করতে পারবেন তারা থাকবে না চলে যাবে?
অ্যাপটা ব্যবহার করা সহজ। শুধু ইন্সটল করার আগে কিছু সেটিং পরিবর্তন করতে ভুলে না গেলেই হয়।

বিজ্ঞানের এই যুগে ভূতের অস্তিত্ব আছে কি নেই- এই নিয়েই মানুষজন নানান দলে বিভক্ত। এই অ্যাপগুলো সত্যিকার ভূতের সন্ধান দিবে এমন ধারণা করা অমূলক। কারণ এগুলোর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই। কিন্তু মজা করার জন্য সবসময় বিজ্ঞানের সমর্থনের প্রয়োজন হয় না।
আশপাশের লোকজনকে চমকে দেয়ার জন্য এবং মাঝেমাঝে ঘরে বসে সিনেমার মতো গোস্ট হান্টিংয়ের আমেজ নেয়ার ক্ষেত্রে অ্যাপগুলো কাজে আসতেই পারে। ভূতে বিশ্বাস থাক বা না থাক ভূত নিয়ে মজা করার একটা অ্যাপ তো মোবাইলে রাখাই যায়!

আমি নোয়াখালী সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি ইউনিভার্সিটির এগ্রিকালচার ডিপার্টমেন্টে পড়ছি। গল্প লেখায় মূলত মনোযোগী হলেও টেকনোলোজি বিষয়ক লেখালেখিটা মন্দ লাগছে না।
