Cart
No products in the cart.

আধুনিক প্রযুক্তি কাজ করে চলেছে আমাদের গতানুগতিক জীবনযাপনকে আরো আধুনিকায়নের জন্য। আর তার ধারাবাহিকতায় অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে বিপ্লব ঘটাতে চলেছে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি। অপেক্ষাকৃত কম কার্বন নির্গমন আর কম শক্তিতে অধিক কার্যক্ষমতা বিশ্ববাজারে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির অবস্থান দৃঢ় করেছে। আজ আমরা জেনে নিব অসাধারন কিছু বিদ্যুৎচালিত গাড়ি। এর মধ্যে রয়েছে বেশকিছু সফল গাড়ি,কিছু বাজারে আসার অপেক্ষায় এবং একটি কনসেপ্ট কারও।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
এখানে যে ১০টি গাড়ি নিয়ে আলোচনা করেছি, তার সবক’টিই প্রাইভেট কার। সম্ভবত এগুলোর কোনটিই আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত পৌঁছেনি। তাতে কি, গাড়িগুলো সম্পর্কে জেনে রাখলে তো আর কোন ক্ষতি নেই। বরং প্রযুক্তি জ্ঞানের সঙ্গে নিজেকে আফডেট রাখতে সহায়ক হবে।

ফিউচারিস্টিক লুক আর অসাধারণ সব বিলাসবহুল সুবিধার সমন্বয়ে তেরি হয়েছে 2016 BMW i8। দারুণ দেখতে এই চার সিটের গাড়ীটিতে রয়েছে টার্বোচার্জড ১.৫ লিটার ৩-সিলিন্ডার বিশিষ্ট ইঞ্জিন যা একটি বৈদুতিক মোটর এর সাথে সংযুক্ত। এই ইঞ্জিনটি গাড়িটিতে ৩৫৭ হর্সপাওয়ার আর ৪২০ পাউন্ড-ফুট টর্ক সরবরাহ করে।
৬ স্পিড অটোমেটিক ট্রান্সমিশন আর চার চাকাতেই পাওয়ার গাড়িটিকে এনে দিয়েছে সুষমভাবে গতি বাড়ানোর সুযোগ। গাড়ীটি মাত্র ৪.৪ সেকেন্ড এ ৬০ মাইল গতি ছোঁয়ার ক্ষমতা রাখে।

2016 Tesla Model S ছিলো টেসলা কোম্পানীর প্রথম ডিজাইনের গাড়ী যেটা তাদের জন্য সম্ভাবনা এনে দিয়েছিলো। প্রতিবার সম্পুর্ণ চার্জে ২৭০ মাইল চলার ক্ষমতাসম্পন্ন টেসলা মডেল এস শক্তি ব্যবহারে স্বাশ্রয়ের ক্ষমতা গাড়ীটিকে সম্মানের আসনে বসায়।
বিলাসবহুল সুবিধা সম্পন্ন গাড়ীটি একসাথে ৭ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম। ৫৩২ হর্স্পপাওয়ার সম্বলিত শক্তিশালি এই গাড়ীটি ০ থেকে ৬০ মাইল গতিবেগে পৌছাতে পারে মাত্র ২.৮ সেকেন্ড সময়ে।

এখনো পর্যন্ত প্রোডাকশনে আছে টেসলা কোম্পানীর এই গাড়ীটি। কিন্তু বিলাসবহুল এই গাড়ীর জন্য ইতিমধ্যেই ৪০০,০০০ প্রি অর্ডার জমা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিলাসবহুল এই গাড়ীটিকে ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার পেছনে মূল কারণ হল এর ফাইভ স্টার মানের নিরাপত্তা।
প্রতিবার ফুল চার্জ ব্যাটারি নিয়ে ২১৫ মাইল নিরাপদ ভ্রমনের আশ্বাস দিচ্ছে টেসলা কোম্পানী। 2017 Tesla Model 3 গাড়ীটি ৫ জন যাত্রী বহনে সক্ষম হবে।

Audi কোম্পানী নিজেদের জনপ্রিয় আর-৮ মডেলের গাড়ির বৈদ্যুতিক ভার্সন আর-৮ ই-ট্রন সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে। ফিউচারিস্টিক নামের সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে এর পারফরমেন্স এর। ৯২ কিলোওয়াট-ঘন্টার ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি গাড়িটিকে একবার চার্জে ২৮০ মাইল ভ্রমনের উপযোগী করে তুলবে এবং চার্জ সম্পন্ন হতে দুই ঘন্টার চেয়েও কম সময় নিবে।
৪৫৫ হর্স্পপাওয়ার আর ৬৭৯ পাউন্ড-ফুট টর্ক গাড়ীটিকে সুপার কার এর মর্যাদা এনে দিয়েছে। উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এই গাড়ীটি চার সেকেন্ড এর ও কম সময়ে ০ থেকে ৬০ মাইল গতি অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্পোর্টস কার দুনিয়ায় সমীহ জাগানো নাম Lamborghini। বিদ্যুৎচালিত গাড়ি প্রদর্শনীর মহড়া থেকে পিছু হয়নি এই বিলাসবহুল গাড়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটিও। প্যারিস মোটর শো’ ২০১৪ তে নিজেদের এই কনসেপ্ট কারটি প্রদর্শন করে। ল্যাম্বোরঘিনি’র গতানুগতিক আকার থেকে আলাদা এই ডিজাইনটি নজর কাড়ার মত।
গাড়ির পেছন দিকে বসানো ৫.২ লিটার V-10 ইঞ্জিনের সাথে তিনটি মোটর সংযুক্ত করা হয়। ০ থেকে ৬০ মাইল ৩ সেকেন্ড এ ছুঁইয়ে ফেলা এই গাড়ীটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৯৯ মাইল। মূলত কনসেপ্ট কারটির ভবিষ্যত উন্নয়নের পর এই সংখ্যাগুলোর আকর্ষণীয় উন্নতির আশা দেখিয়েছে গাড়ীটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

Ferrari ব্র্যান্ড কে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ব্র্যান্ডটির সর্বোৎকৃষ্ট মডেল হতে চলেছে এই ফেরারি গাড়ীটি। মাত্র ৪৯৯ টি পর্যন্ত প্রোডাকশন লিমিট এর গাড়ীটির ডিজাইন নজরকাড়ার মতG ফেরারি এর পূর্ববর্তী যে কোন গাড়ীর চেয়ে শক্তিশালী এই গাড়ীটিতে রয়েছে ৭৮৮ হর্সপাওয়ার ৬.২-লিটার ভি-১২ ইঞ্জিন এর সাথে বিদ্যুতচালিত মোটর এর সংযোজন যা গাড়িটির মোট ক্ষমতা অনন্য পর্যায়ে তুলে ধরেছে, যা মোট ৯৪৯ হর্সপাওয়ার শক্তি যোগায়।
এই গাড়িটির পার্ফরম্যান্স আরো উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে দুটি মোটর। যার একটি সেভেন স্পিড ডুয়াল ক্লাচ ট্রান্সমিশন এর সাথে বসানো যেটি গাড়ীতিতে প্রপালশন সিস্টেমের কাজ করবে। আর অপর মোটরটি ইঞ্জিন পাম্পসহ অন্য কাজে ব্যবহার এর জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফেরারি লা’ ফেরারি ৪৯৯ টির সবকটিই ইতিমধ্যে বিক্রিত, এর আকাশ্চুম্বী দামের তোয়াক্কা না করেই।

উচ্চক্ষমতার গাড়ি নির্মানের ক্ষেত্রে সামনের সারির নির্মাতা হিসেবে নাম আসে পোরশে এর। সেই ধারাবাহিকতায় পোরশে নিয়ে এসেছে এই উচ্চক্ষমতার Porche 918 Spyder। সর্বোচ্চ ২১০ মাইল প্রতি ঘন্টাবেগে চলার ক্ষমতা সম্পন্ন গাড়ী,যা মাত্র ২.৫ সেকেন্ড এর ব্যাবধানে ০ থেকে ৬০ মাইল গতিবেগ ছুটে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।
অসাধারন ডিজাইনের এই গাড়ীটির মধ্যে রয়েছে একটি ৬০৮ হর্সপাওয়ার এর V-8 ,যা একজোড়া বৈদ্যুতিক মোটর এর সাথে সংযুক্ত হয়ে মোট ৮৮৭ হর্সপাওয়ার শক্তি সরবরাহ করে।

স্বল্পখরচে বিলাসবহুল সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যেই মূলত বাজারে পা রাখতে যাচ্ছে Acura NSX। অপেক্ষাকৃত কম ওজনের জন্য গাড়ীটিতে ব্যাবহার করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম বডি। এবং গাড়িটির ৩.৫ লিটার V-6 ইঞ্জিন এর সাথে তিনটি বিদ্যুৎচালিত মোটর এর সংযোজন গাড়ীটিকে ৫৫০ হর্সপাওয়ার এর ও বেশি শক্তি যোগায়।
ক্রেতা পর্যায়ে এখনো যদিও বিদ্যুৎচালিত গাড়ি খুব একটা সয়লাভ হয়ে উঠেনি। কিন্তু গাড়ি ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানীগুলোর আগ্রহ এবং উন্নতমানের ও পরিবেশ বান্ধব ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য আশা করা যায় যে, অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে পরবর্তী বিপ্লব আনতে চলেছে এই বিদ্যুৎচালিত গাড়ী।

প্রযুক্তির প্রতি ভালবাসা আর আসক্তি থেকে জানার কৌতুহল, সেই কৌতুহল থেকে পড়া আর পড়া থেকে লেখা, এই তো আমি!
