Cart
No products in the cart.

কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যাকআপের জন্য ফ্রি ক্লাউড সার্ভিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো গুগল ড্রাইভ। একটি ক্লাউড স্টোরেজ পরিষেবার প্রধান উদ্দেশ্য হল হার্ড ড্রাইভের সীমার বাইরের ফাইলগুলি সঞ্চয় করে আপনার ফাইল স্টোরেজ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ক্লাউড স্টোরেজ এবং অনলাইন ব্যাকআপ বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। কিন্তু একই ধরণের অবকাঠামো ব্যবহার করে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় ক্লাউড স্টোরেজ এবং অনলাইন ব্যাকআপ। গুগলে সাইনআপ করলেই ১৫ জিবি ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজ পাওয়া যায়। যার স্পেস গুগল ড্রাইভ, গুগল ফটো এবং Gmail এর মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। এই পোস্টে আমরা গুগল ড্রাইভের ব্যবহার করে কিভাবে আপনার সব দরকারি ফাইল, ফোল্ডার, ছবি ও ভিডিও আজীবনের জন্য সংরক্ষণ করবেন তা জানবো।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
গুগল ড্রাইভে কোন ফাইল, ফটো, ভিডিও, পিডিএফ, মাইক্রোসফ্ট অফিস ফাইল ইত্যাদি স্টোর করা যায়। আপনি Google ড্রাইভে সরাসরি Gmail- এর মাধ্যমে পাঠানো ই-মেইলও স্টোর করতে পারবেন। তবে কিছু স্টোর করার আগে অবশ্যই গুগলের কিছু নিয়ম মেনে নিতে হবে। যেমন বলা যায় একটি ডকুমেন্টকে গুগল ‘Docs’ ফরম্যাটে কনভার্ট করতে চাইলে অবশ্যই সেটি ৫০ এমবি বা এর থেকে ছোট হতে হবে। এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য ডকুমেন্ট সংরক্ষণের জন্য গুগল ড্রাইভের সঠিক ব্যবহার।

গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করার জন্য শুরুতেই আপনাকে গুগলে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। একটি গুগল অ্যাকাউন্ট তৈরি করলেই তা কেবল আপনাকে ড্রাইভের অ্যাক্সেস দেয় তা না, এর সাথে জিমেইল, গুগল প্লে এবং আরও অনেক গুগলের সেবাও দেয়া হয়। গুগল অ্যাকাউন্ট থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এই একটি অ্যাকাউন্ট দিয়েই গুগলের সব ফ্রি সার্ভিস ব্যবহার করা যায়।
আমাদের প্রায় সবাইরই গুগলে অ্যাকাউন্ট থাকার কথা। তবুও, যদি কারো না থেকে থাকে, তবে গুগলের অ্যাকাউন্ট সাইন আপ পেজে গিয়ে এখনই খুলে নিতে পারেন। আপনার Google অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে, আপনি আপনার ১৫ গিগাবাইট ফ্রি স্টোরেজ পেয়ে যাবেন এবং তিনটি উপায়ে তাতে অ্যাক্সেস করতে পারেন। আপনার ব্রাউজারের মাধ্যমে, আপনার ডেস্কটপ ফাইল সিস্টেমের মাধ্যমে এবং আপনার মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে।

বিভিন্ন ধরণের ব্রাউজার ব্যবহার করে আপনি এই সেবা পেতে পারেন। তার মধ্যে রয়েছেঃ ক্রোম, ফায়ারফক্স, মাইক্রোসফট এডজ (উইন্ডোজে শুধুমাত্র) এবং সাফারিসহ আরও অনেক ব্রাউজার। আপনি যে ব্রাউজারই ব্যবহার করুন, গুগল ড্রাইভের অফিসিয়াল পেজে গিয়ে সাইন ইন করে গুগল ড্রাইভের এক্সেস নিতে পারেন। গুগল ড্রাইভে এক্সেস করার পর, আপনি বাম পাশে ন্যাভিগেশন ট্যাব হিসাবে নিচের সুবিধাগুলি পাবেন।

আপনি চাইলে আপনার ডেস্কটপে Google ড্রাইভ ক্লায়েন্ট ইনস্টল করতে পারেন। এজন্য Google ড্রাইভ ব্রাউজারের উপরে ডান কোণের আইকনে ক্লিক করে “Download backup and sync for Windows” ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে হবে। একবার আপনি ক্লায়েন্ট ইনস্টল করে নিলে “sync this folder” সিলেক্ট করার মাধ্যমে Google ড্রাইভ আপনাকে আপনার ফাইল সিস্টেমে ব্যাকআপ করতে দিবে। আপনি গুগল ড্রাইভে যে ফোল্ডারটি ব্যাকআপ করলেন সেটি ডিফল্টভাবে আপনার হার্ড ড্রাইভে সংরক্ষিত থেকে যাবে। শুধুমাত্র ক্লাউডে এর একটি কপি তৈরি হবে যা আপনি পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকেই অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

অ্যান্ড্রয়েড এবং iOS উভয়ের জন্য গুগল স্মার্টফোন অ্যাপ তৈরি করেছে। Google Play Store থেকে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্যে এবং Apple Store থেকে আইফোনের জন্যে Google Drive অ্যাপসটি ডাউনলোড করে নিয়ে আপনি এই সেবা পেতে পারেন। অ্যাপটি ওপেন করার সাথে সাথেই সাইনআপ করে আপনার ড্রাইভ স্টোরেজে অ্যাক্সেস করতে পারেন। ইন্টারফেসটি মোটামুটি সহজবোধ্য, এছাড়াও ফাইলগুলি দ্রুত খুঁজে পেতে “quick access” নামক একটি সার্চ বারও রয়েছে।

গুগল ড্রাইভে কোন ফাইল আপলোড করার জন্য প্রথমে “New” তে ক্লিক করতে হবে। এরপর অনেকগুলো অপশন আসবে। সেখান থেকে দরকারি অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। তারপর দরকার অনুযায়ী ফাইল কিংবা ফোল্ডার আপলোড করতে হবে। এছাড়াও “More” অপশন থেকে “Connect more apps” এর মাধ্যমে আরও বিভিন্ন অ্যাপসের সাথে কানেক্ট করা যাবে।

গুগল ড্রাইভ আপনাকে শুধু ফাইল সংরক্ষণের সুবিধাই দেয় না, একই সাথে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের যে কারো সাথে ফাইল শেয়ারিং এর সুবিধাও দিয়ে থাকে। আপনি যে ফাইলটি শেয়ার করতে চান, প্রথমে সেটি সিলেক্ট করতে হবে। এরপর উপরের দিকে অনেকগুলো আইকন দেখা যাবে। সেখান থেকে “+ এর পাশে একটি ব্যক্তির ছবি” থাকা আইকনে ক্লিক করতে হবে। এরপর “Share with others” নামে নতুন একটি উইন্ডো আসবে। তা থেকে একটি লিঙ্ক পাওয়া যাবে। এরপর নিচের বক্সে যার সাথে শেয়ার করা হবে তার ই-মেইল অ্যাড্রেস দিতে হবে। যার ফলে সে লিঙ্কটি পেয়ে যাবে এবং শেয়ার করা ফাইলটি দেখতে পাবে।

আপনি যখন গুগল ড্রাইভে কোন কিছু একবার আপলোড করে ফেলেন সেটি ঐ অবস্থাতেই থেকে যাবে যতদিন না ডিলিট করছেন। অর্থাৎ আপনি আজীবনের জন্য সংরক্ষণ করতে পারছেন আপনার দরকারি ডকুমেন্টগুলো। সেই সাথে প্রয়োজনের মুহূর্তে সেগুলো শেয়ারও করতে পারছেন আপনজনদের সাথে।
গুগল ড্রাইভের ব্যবহার করে আপনার প্রয়োজনীয় ফাইল, ফ্যামিলির ছবি ও ভিডিও আজীবনের জন্য সংরক্ষণের এই টিউটোরিয়ালটি আশা করি আপনার কাজে লেগেছে। আমি যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি, সহজ করে গুছিয়ে লিখতে যাতে আপনিও ফাইল সংরক্ষণ ও শেয়ারিং এর প্রক্রিয়াটি সহজেই বুঝতে পারেন। এরপরও যদি কোন সমস্যায় পড়েন, নিচের কমেন্ট বক্সে লিখে জানালে, আমি সহযোগীতা করবো, ইনশাল্লাহ্।

টেকনোলজি নিয়ে প্রচুর আগ্রহীদের মধ্যে আমি একজন। যে কারণে টেকনোলজি বিষয়ক যে কোন আর্টিকেল আমি খুব আগ্রহ নিয়েই পড়ি।

একাধিক পিকচার সিলেক্ট করে ড্রাইভে আপলোড করতে পারবো?
ধন্যবাদ, শামসুদ্দিন ভাই। একাধিক পিকচার আপলোড করার জন্যে যা যা করবেন-
১. গুগল ড্রাইভে যান
২. বাম পাশের মেন্যুর একদম উপরে থাকা + New তে ক্লিক করুন।
৩. একদম শুরুতে থাকা File Upload এ ক্লিক করুন।
৪. একটি উইন্ডো ওপেন হবে, যেখানে আপনার পিকচার সিলেক্ট করে দিতে হবে। যেগুলো আপলোড করতে চান, সেগুলো সিলেক্ট করে দিন। Ctrl এবং A চেপে সবগুলো পিকচারই একসঙ্গে সিলেক্ট করতে পারেন।
৫. উইন্ডোটির নিচের ডান কর্ণারে থাকা Open লেখাটিতে ক্লিক করুন।
ব্যস, একসঙ্গে সবগুলো পিকচার আপলোড হয়ে যাবে।
গুগল ড্রাইভ আমাদের ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। বিশেষ করে, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করার সবচেয়ে ভাল উপায় হলো গুগল ড্রাইভ। আর গুগলের এই সেবাটি নিয়ে সুন্দর একটি টিউটোরিয়াল প্রকাশের জন্যে হৈচৈ বাংলাকে ধন্যবাদ।
ভাই, আমার ড্রাইভে এখন কোন ডকুমেন্ট আপলোড হচ্ছে না, পর্যাপ্ত স্টোরেজ থাকার পরেও।
ড্রাইভে কখনো এমন হওয়ার কথা নয়। আপনি যদি জানাতেন যে আপলোড করতে গেলে কি বলে অর্থাৎ কি মেসেজ দেখায়, তাহলে বোঝা যেত এবং সমাধান বের করা সহজ হতো।
আমার এই মোবাইলে Google Drive এ আফলোড করা পিকগুলো অন্য আরেকটা মোবাইলে একাউন্ট লগ-ইন করলে কি এই পিকগুলো দেখা যাবে..???
অবশ্যই দেখা যাবে, যদি অ্যাকাউন্ট একই হয়; মোবাইল ভিন্ন হলে কোনও সমস্যা নেই।
আমরা যদি গুগলে পরীক্ষা দেই, তার ডকুমেন্টস যদি আমার গুগল ড্রাইভ থেকে ডিলিট হয়ে যায়, তাহলে কি যে লিংকে পরিক্ষা দিচ্ছি, সেখান থেকেও ডিলিট হয়ে যাবে?
না, এক্ষেত্রে মূল লিংক থেকে ডিলিট হবে না। কারণ, যে লিংক থেকে পরীক্ষা দেওয়া হয়, সেগুলোর বেশিরভাগই তাদের নিজস্ব সার্ভারে জমা থাকে।
গুগল ড্রাইভের এই পোস্টটাতে এসে আমি যে কমেন্ট করেছিলাম, তা ডুপ্লিকেট ছিল। যার কারণে এডমিন আমার কমেন্টটি ফেলে দিয়েছেন। সেই সাথে, আমার সাইটের লিংকটাও রাখেন নাই। ফলে, আমি বুঝতে পারলাম, ডুপ্লিকেট কমেন্ট করা যাবে না। অর্থাৎ, একই কমেন্ট একবারের বেশি কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।