Cart
No products in the cart.

iPhone X স্মার্টফোনটি লঞ্চ হয়েছে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের ৩ তারিখ। বরাবরের মতো এবারও নতুন নতুন ফিচার নিয়ে আইফোনের এই স্মার্টফোন নজর কেড়েছে প্রায় সব আইফোন লাভারদের। তবে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দামের এই ফোনটি কেনা অনেকেরই সাধ্যের বাইরে। আবার অনেকেই আইফোন পছন্দ করেন না। ফলে, তারা আইফোন এক্স এর বিকল্প খুঁজে থাকেন।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
আইফোন এক্স না কিনেও আপনি যদি এর সমস্ত ফিচার এবং সব ধরণের সুবিধা পেতে চান, তবে দেখতে পারেন এই বিকল্প ফোনগুলো। আপনি জেনে খুশি হবেন যে, আইফোন এক্স এর বিকল্প হিসেবে আপনার জন্য অসংখ্য স্মার্টফোন রয়েছে আর সেখান থেকে বাছাই করে সেরা ৯টি ফোন নিয়ে টেক ট্রেইনির এই আয়োজন। চলুন দেখে নেই বিকল্প এই স্মার্টফোনগুলো, জেনে নেই সেগুলোর ফিচার সম্পর্কে বিস্তারিত।

স্যামসাংয়ের সেরা স্মার্টফোন হিসেবে Galaxy Note 8 কে দাবি করা হয়। Galaxy Note 8 এবং আইফোন এক্স এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে Galaxy Note 8 এর টাচ এবং ডিসপ্লে। যা আপনার চিন্তাধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।
Galaxy Note 8 এ রয়েছে ৬.৩ ইঞ্চি ইনফিনিটি ডিসপ্লের একটি বিশাল স্ক্রিন যা ফোনটির দামের তুলনায় বেশ ভালো বলা চলে। ১২ মেগাপিক্সেল রিয়াল ক্যামেরা ও ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরাসহ Galaxy Note 8 এ রয়েছে ৬৪ থেকে ২৫৬ জিবি স্টোরেজ। আপনি যদি আইফোন এক্স এর সমতুল্য অন্য কোনো অ্যানড্রয়েড ফোন ব্যবহার করতে চান, তাহলে এই ফোনটি আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

LG V30 ফোনটিতে রয়েছে ১৮:৯ রেশিও এর ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে। অক্টাকোর স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসর এর এই ফোনটিতে আরো রয়েছে ৪ জিবি র্যাম এবং ৬৪ থেকে ১২৮ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ। ফোনটিতে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল ও ১৩ মেগাপিক্সেল ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সরের ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরা এবং ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। এছাড়াও ফোনটিতে রয়েছে গরিলা গ্লাস ৫ এবং রেয়ার প্লেট স্যান্ডউইচিং অ্যালুমিনিয়াম বডি। যার জন্য ফোনটি ব্যবহার করতে ভালো লাগবে।

আপনি যদি অ্যাপলের ফোন তৈরীর কাঠামো পছন্দ করে থাকেন কিন্তু অ্যানড্রয়েড ব্যবহার করতে ভালোবাসেন তাহলে Essential Phone টি ব্যবহার করতে পারেন। কারণ কোনো সন্দেহ নেই যে প্রাক্তন গুগলার অ্যান্ডি রুবিন তার কোম্পানিকে অ্যাপল এবং টিম কুকের মতো কিছু তৈরি করতে চাচ্ছে।
এই ফোনে রয়েছে ১৯.৫:১০ রেশিও এর ৫.৭১ ইঞ্চি এইচডি ডিসপ্লে। এছাড়াও রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরা ও ১৬.৯ রেশিও এর ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফোনটির ডিসপ্লেতে রয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫।

এই স্মার্টফোনটি ডুয়েল ক্যামেরার জন্য বিশেষভাবে আলোচিত হলেও এর রয়েছে বিশাল র্যাম। ফোনটিতে রয়েছে ৬ জিবি থেকে ১২ জিবি পর্যন্ত র্যাম যা আপনাকে দিবে অন্য সব ফোন থেকে অনেক বেশি সুবিধা। বিশাল র্যামের এই ফোনে রয়েছে ৫.৫ ইঞ্চি এইচডি আপটিক অ্যামোলেড ডিসপ্লে। ফোনের ব্যাক সাইডে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল থেকে ২০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ফ্রন্ট সাইডে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ফোনটিতে রয়েছে ৬৪ জিবি থেকে ১২৮ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ এবং অক্টাকোর প্রসেসর।

আমরা ইতিমধ্যে Galaxy Note 8 এর কথা আপনাদের বলেছি। কিন্তু ৫.৮ ইঞ্চি সুপার ওয়াইডস্ক্রিন এর Galaxy S8 এর কথা না বলে পারছি না। ৪ জিবি থেকে ৬ জিবি র্যাম এর এই ফোনটি আইফোন এক্স এর প্রতিদ্বন্দ্বী। ফোনটিতে রয়েছে ৬৪ থেকে ১২৮ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ এবং ২৫৬ জিবি পর্যন্ত রিমুভাল স্টোরেজের সুবিধা। এছাড়া রয়েছে ৩,০০০ এমএএইচ এর নন-রিমুভেবল ব্যাটারি। ফোনটির ব্যাক সাইডে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের রিয়াল ক্যামেরা এবং ফ্রন্ট সাইডে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের অটোফোকাস ক্যামেরা।

৪ জিবি র্যামের এই ফোনে রয়েছে ৫.৫ ইঞ্চি সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে। ৩২ জিবি থেকে ৬৪ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ এবং এর ব্যাক সাইডে রয়েছে ডুয়াল এলইডি ফ্ল্যাশসহ ১২ মেগাপিক্সেলের অটোফোকাস ক্যামেরা। এর ফ্রন্ট সাইডে রয়েছে ফ্ল্যাশসহ ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা যা আপনাকে কম আলোতেও ভালো সেলফি তুলতে সাহায্য করবে। ফোনটির ওজন মাত্র ১৪৫ গ্রাম এবং এতে রয়েছে ৩,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি।
![]()
এই ফোনটি ক্যামেরার জন্য বর্তমানে অনেক আলোচিত। সেই সাথে অন্য ফোনগুলোর মতো এটিও আইফোন এক্স এর প্রতিদ্বন্দ্বী। ৪ জিবি র্যামের এই ফোনটিতে রয়েছে ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে যা আপনার ব্যবহার করে ভালো লাগবে। আর এই ডিসপ্লেটিকে রক্ষা করতে রয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫। ফলে ফোনটি হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাবে না সহজে।
ফোনটির ১২ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরায় রয়েছে অটোফোকাস সহ অপটিক্যাল ও ইলেকট্রনিক স্থিরচিত্র ধারণের ক্ষমতা। ফ্রন্ট সাইডে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। এতে রয়েছে ২,৭০০ এমএএইচ ব্যাটারি যা খুব দ্রুত চার্জ করার ক্ষমতা আছে। স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসরের এই ফোনটি আইফোন এক্স এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
গুগলের Pixel 2 এবং Pixel 2XL এই দুইটি ফোনের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। শুধু স্ক্রিন সাইজ ও ব্যাটারির মধ্যে পার্থক্য ছাড়া অন্য সব দিকেই দুইটি ফোন একই রকম। এই ফোনটির স্ক্রিন ৫.৫ ইঞ্চি ও ১৪৪০×২৫৬০ পিক্সেল রেজুলেশনের অ্যামোলেড ডিসপ্লে দিয়ে তৈরি। ফোনটির ব্যাটারি ৩,৪৫০ এমএএইচ।

G সিরিজের এই ফোনটিতে রয়েছে ৪ জিবি র্যাম ও স্ন্যাপড্রাগন ৮২১ প্রসেসর। ফোনটির স্টোরেজ ৩২ জিবি থেকে ৬৪ জিবি পর্যন্ত। ৫.৭ ইঞ্চির বিশাল স্ক্রিনের এই ফোনটির ব্যাক সাইডে রয়েছে দুইটি ১৩ মেগাপিক্সেলের অটোফোকাস ক্যামেরা এবং ফ্রন্ট সাইডে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ফোনটিতে রয়েছে ৩,৩০০ এমএএইচ এর নন-রিমুভেবল ব্যাটারি।
আইফোন এক্স এর বিকল্প হিসেবে আপনি উপরে উল্লেখিত ফোনগুলো কিনতে পারেন। ফোনগুলোতে যেমন রয়েছে নতুন সব ফিচার তেমনি রয়েছে খুব ভালো ক্যামেরা। এখানে প্রতিটি ফোনই আইফোন এক্স এর প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই আপনি ইচ্ছা মতো যে কোনো ফোন বেছে নিতে পারেন। আশা করি বিকল্প হিসেবে এই ফোনগুলো ব্যবহার করে আপনার বেশ ভালো লাগবে আর সেই ভাললাগাটা কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করবেন।

আমার লেখালেখি করতে ভালো লাগে। তাই আর্টিকেল লেখাটাকেই বেছে নিয়েছি। তবে আমি ছবি আঁকতেও ভালোবাসি। অবসর সময়টা এভাবেই কাটাই।
Studies B.Sc in Textile Engineering at STEC - University of Dhaka.
