Cart
No products in the cart.

ভাল একটি স্মার্টফোন কেনার কথা ভাবছেন কিন্তু দামের কথা ভেবে দমে যাচ্ছেন! লম্বা দম নিন আর দেখে নিন কম দামে ভাল স্মার্টফোন নিয়ে হাজির হয়েছি আপনার সামনে। সর্বোচ্চ ৬ হাজারের ভেতর পেতে পারেন, এ রকম অনেক ফোনই রয়েছে যেগুলোর দাম একেবারেই আপনার হাতের নাগালে। কি, এবার ফিচার নিয়ে ভাবছেন তো! ভাবনার কিছু নেই, সবগুলোই ফিচার সমৃদ্ধ, নিজেই দেখেই নিন না!
নিত্য ব্যবহার্য পন্যের মধ্যে এখন মুঠোফোন অন্যতম। নতুন নতুন ফিচার আর বিভিন্ন রকম দামের স্মার্টফোন দিয়ে বাজার ঠাঁসা। ক্রেতার চাহিদা আর পছন্দের প্রতি খেয়াল রেখে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একের পর এক স্মার্টফোন বাজারে আনছে। ক্রেতার বাজেটের কথা মাথায় রেখে কম দামে কয়েকটি ভাল স্মার্টফোন নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করেছি।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
এখানে কম দামের মধ্যে যে ১০টি স্মার্টফোন তুলে ধরেছি, সেগুলোর দাম ৬ হাজারের মধ্যে। আপনার বাজেট যদি আরেকটু বাড়াতে পারেন, তবে ৮ হাজারের ভেতর এই ১০টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন। আর যদি বাজেট বাড়ানো সম্ভব না হয়, তবে নিচের ফোনগুলোই দেখুন। স্মার্টফোন হিসেবে এগুলো আপনার সকল প্রয়োজনীয় চাহিদাই পূরণ করতে সক্ষম।

কম দামে ভাল স্মার্টফোন পেতে চাইলে নোকিয়া আশা ৫০০ অবশ্যই খুব ভাল ফোন। ২.৮ ইঞ্চি ডিসপ্লে এবং র্যাম ৬৪ এমবি, মেমরি ৪ জিবি, এটা মাইক্রো এসডি কার্ড দিয়ে ৩২ জিবি পর্যন্ত বাড়াতে পারবেন। প্রাইমারী ক্যামেরা আছে ২ মেগাপিক্সেল। ১২০০ মিলি আম্প্যায়ার ব্যাটারির এই ফোনে ওয়াই ফাই এবং এফ এম রেডিও ও আছে। আর এর দাম মাত্র ৫৯৯৯/- টাকা। তাহলে আর দেরী না করে কালো, উজ্জ্বল লাল, উজ্জ্বল সবুজ, নীলচে সবুজ, হলুদ এবং সাদা রঙ্গের মধ্যে আপনার পছন্দের রঙ্গের ফোনটি বেছে নিন।

বাংলাদেশের বাজারে উই টি১ প্রথম স্মার্টফোন যেটা মাত্র ৫০০০ টাকার মধ্যে আপনাকে ফোর-জি সাপোর্ট দিচ্ছে। সাথে আছে ৫ ইঞ্চি এইচডি ডিসপ্লে, ১ জিবি র্যাম, ৪ জিবি রম, ৫+৫ এমপি ক্যামেরা এবং একটি কোয়াড কোর সিপিইউ। গ্রামীনফোনের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বাজারে আসা এই ফোনটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এর দারুন ফিচার আর স্বল্প বাজেটের জন্য বাজার দখল করতে সক্ষম হয়েছে। ২২০০ মিলি আম্প্যায়রের এই ফোনটির দাম মাত্র ৪,৪৪৪ টাকা।

সিম্ফোনি ভি৭৫এম ফোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল তার শক্তিশালী স্পিকার। আপনি কি কম দামের মধ্যে শক্তিশালী স্পিকারের স্মার্টফোন খুঁজছেন? তাহলে এটি আপনার জন্য একটি ভাল পছন্দ হতে পারে। ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে এর সাথে পাচ্ছেন ১ জিবি র্যাম, ৪ জিবি রম, ৫+৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, এফএইচডি ভিডিও রেকর্ডিং এবং প্লেব্যাক, ইত্যাদি। তবে সিম্ফোনির এই ফোনটিতে গ্রাফিক্স সত্যিই খুব কম। সুতরাং, মোবাইল গেমিং উৎসাহীদের জন্য এটি খুব একটা ভাল ফোন হবে না। ৫,৭৯০/- টাকা দামের এই ফোনটি কালো, ডার্ক ব্লু এবং সোনালি এই ৩টি রঙে পাওয়া যাবে।

কম দামে ভাল স্মার্টফোন নিয়ে দেশের বাজারে বেশ ভাল জায়গা করেছে ম্যাক্সিমাস। মাক্সিমাসের এই ফোনটিতে আছে ৪ ইঞ্চি আইপিএস ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে, ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সাথে ফ্লাশ লাইট, ৫১২ এমিবি র্যাম, ৪জিবি রম, ডুয়াল সিম সাপোর্ট, এম এম রেডিও ইত্যাদি। ব্যাটারি আছে ১৪০০ মিলি আম্প্যায়ার। ফোনের অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট। যদিও এটি বেশ পুরনো তবে কম বাজেটে এর থেকে বেশি আসা করাটা ঠিক হবে না। এই ফোনটির দাম পড়বে ৫,৩৭৫/-টাকা।

২০১৫ সালে বাজারে আসা হুয়াওয়ের এই ফোনে আছে ৪ ইঞ্চির ডিসপ্লে। ফোনটি চলবে অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট দিয়ে। এর ক্যামেরা রেজুলেশন ৫ মেগাপিক্সেল। ৫১২ মেগাবাইট র্যাম এবং এর ইন্টারনাল স্টোরেজ ৪ জিবি। মাইক্রো এসডি কার্ড দিয়ে হুয়াওয়ে ওয়াই৩সি স্টোরেজ ৩২ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
এছাড়া ওয়াই ফাই, এফ এম রেডিও, এমপি৩, এমপি৪ ইত্যাদি আছে। ২জি তে এর টক টাইম প্রায় ৬ঘন্টা ৪০ মিনিট এবং ৩জি তে ৭ঘন্টা ৩০ মিনিট দিতে পারবে। সাদা এবং কালো এই দুটি রঙে পাওয়া যাবে হুয়াওয়ে ওয়াই৩সি। এর দাম হবে ৪,৮৪৯/- টাকা মাত্র।

মাইক্রোম্যাক্স বোল্ড ডি৩২০ হ্যান্ডসেটটিও কম দামে ভালো স্মার্টফোন। ৪.৫ ইঞ্চির ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিনের ডিসপ্লের রেজুলেশন ৪৮০*৮৫৪। এতে র্যাম দেয়া হয়েছে ৫১২ এমবি, ইন্টারনাল মেমরি ৪জিবি তবে আপনি চাইলে এক্সটারনাল কার্ড দিয়ে ৩২ জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নিতে পারবেন। এলইডি ফ্ল্যাশ এর সাথে প্রাইমারী ক্যামেরা ৩.১৫ মেগাপিক্সেল, সাথে আছে জিও ট্যাগিং ফিচার। ব্যাটারি ১৬০০ মিলি আম্প্যায়ার। মিডিয়াটেক চিপসেটের এই ফোনের দাম ৪,৯৫০/- টাকা

বাংলাদেশে তৈরি একমাত্র ফোন ওয়াল্টন, কম দামে ভাল স্মার্টফোন কিনতে চাইলে ওয়াল্টনের অনেক মডেল পাবেন। এখন কথা বলবো যে মডেলটি নিয়ে তা হল ওয়ালটন প্রিমো জিএফ ৫। ৫ ইঞ্চির ডিসপ্লেটি ২.৫ডি বাকানো গ্লাসের তৈরি। এতে র্যাম আছে ১জিবি এবং ইন্টারনাল মেমরি ৮জিবি। একে মাইক্রো এসডি কার্ড দিয়ে ৬৪ জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রাইমারী এবং সেকেন্ডারি উভয় ক্যামেরাই ৫ মেগাপিক্সেল এর। ২৩৫০ মিলি আম্প্যারের ব্যাটারিটি নিঃসন্দেহে এই বাজেটের জন্য চমৎকার ব্যাটারি। এই ফোনটির দাম ৫,১৯০/- টাকা মাত্র।

স্মার্টফোনের দুনিয়ায় লাভা বেশ জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড, আপনি নিশ্চয়ই জানেন। লাভা আইরিস এক্স ১১ মিনি ফোনটতে আছে কোয়াড কোর ১.২ গিগাহার্জ প্রসেসর। ১১৬ গ্রাম ওজনের এই ফোনটি ডুয়াল সিম সাপোর্ট করে। ৪ ইঞ্চি মাল্টিটাচ ডিসপ্লের রেজুলেশন ৪৮০*৮০০ পিক্সেল।
৫১২এমবি র্যাম এবং ৪জিবি রম আছে এতে। অতিরিক্ত মেমরি কার্ড ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ৫ মেগাপিক্সেল প্রাইমারী ক্যামেরার সাথে এলইডি ফ্ল্যাশ আছে। এছাড়া ওয়াই ফাই, ব্লু টুথ, এফএম রেডিও, রেকর্ডিং, ফটো এডিটর ইত্যাদি সব সুবিধা রয়েছে এই হ্যান্ডসেটটিতে। ১৭৫০ মিলি আম্প্যায়ার ব্যাটারির এই ফোনের দাম ৫,৯৯০/- টাকা।

ডুয়াল কোর ১.০ গিগাহার্জ প্রসেসরের এই ফোনটিতে চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক ৬৫৭২। ব্যাটারি সহ এই ফোনের ওজন মাত্র ১০৬ গ্রাম। ডিসপ্লে ৪ ইঞ্চি, র্যাম ৫১২ এমবি, ফোন মেমরি ৪জিবি এবং প্রাইমারী ক্যামেরা ৫ মেগাপিক্সেল। ১৪০০ মিলি আম্প্যায়ার ব্যাটারি টক টাইম সাপোর্ট দিবে ৫ ঘন্টা এবং স্ট্যান্ড বাই থাকতে পারবে ২০০ ঘন্টা পর্যন্ত। এতে আরো আছে অটো কল রেকর্ডিং, এফএম রেকর্ডিং, এলএডি ফ্ল্যাশ, চেঞ্জ ওয়ালপেপার ইত্যাদি। কালো এবং সাদা, এই দুটি রঙে পাওয়া যাবে এই ফোনটি। এর দাম ৫,৮৯৯/- টাকা মাত্র।

৪.৫ ইঞ্চির ডিসপ্লেটি আইপিএস এলসিডি ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন এবং এর রেজুলেশন ৫৪০*৯৬০ পিক্সেল। এতে র্যাম আছে ১জিবি। ৪জিবি অথবা ৮জিবি মেমরি এক্সটারনাল কার্ড দিয়ে ৩২ জিবি পর্যন্ত বাড়বে। এর প্রাইমারী ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল সাথে আছে অটো ফোকাস, এলইডি ফ্ল্যাশ, জিও ট্যাগিং, টাচ ফোকাস, স্মাইল ডিটেকশন এবং প্যারানোমা। সেকেন্ডারি ক্যামেরা ২ মেগাপিক্সেল। ওয়াই ফাই, ব্লু টুথ, ওডিও/ভিডিও প্লেয়ার, লাউডস্পিকার, এফ এম রেডিও ইত্যাদি সব ফিচারই পাবেন। ফোনটির ব্যাটারি ২০০০ মিলি আম্প্যায়ারের আর এই ফোনটির দাম মাত্র ৪,৯৯৯/-টাকা।
কম দামে ভাল স্মার্টফোন এর ধারাবাহিক আলোচনায় আজকে আমি ৬ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি স্মার্টফোন নিয়ে আলোচনা করলাম। আপনার বাজেট যদি হয় ৬ হাজার টাকার নীচে তবে আপনার পছন্দের ফোনটি খুঁজে নিন আজকের এই পর্ব থেকে। আর আপনি যদি বাজেটের কথা চিন্তা না করে ভাল ক্যামেরার কথা চিন্তা করেন, তবে বাজারে সবচেয়ে ভাল ক্যামেরার এই ১০টি স্মার্টফোন থেকে পছন্দেরটি কিনে নিতে পারেন।

এক সময় পড়তে ভালোবাসতাম, বই মাথার পাশে না থাকলে ঘুম আসতো না। এখন লিখতে ভালোবাসি। তাই সময় সুযোগ পেলেই লিখতে বসে যাই।
