Cart
No products in the cart.

ফেস পাউডার শুধু একটা প্রসাধনী নয়, মেকআপ ব্যাগের সবচেয়ে চুপচাপ অথচ ভরসার সঙ্গী। নানুর আমলের টিনের কৌটা থেকে আজকের ব্যাগে ঢোকানো চ্যাপ্টা কমপ্যাক্ট, ফেস পাউডারের যাত্রাটা আসলে বেশ মজার। কোন ফেস পাউডার আপনার ত্বকের জন্য ঠিক, কীভাবে লাগালে সাজ সারাদিন টিকে থাকবে, তার সবটা এখানে একটা গল্পের মোড়কে বলব।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
মনে পড়ে গ্রামের বাড়ির দোতলার সেই ছোট্ট ঘরটার কথা। জানালার ধারে নানুর পুরনো আলমারি, তার পাশে কাঠের তাকে সারি সারি প্রসাধনীর শিশি। সবার মাঝখানে একটা নীল টিনের কৌটা, ঢাকনায় আঁকা গোলাপি পদ্ম। দুপুরের ভাতঘুম সেরে নানু চুল আঁচড়ে নিতেন, তারপর কৌটা খুলে তুলতুলে পাফে একটুখানি গুঁড়ো তুলে আলতো ছোঁয়ায় পুরো মুখে বুলিয়ে নিতেন। ঘরে ভেসে বেড়াত চন্দনের মতো মৃদু একটা সুবাস, আর আমি দরজার কপাট ধরে চুপটি করে তাকিয়ে থাকতাম।
“ওখানে দাঁড়িয়ে কী দেখছিস?” আয়নার ভেতর দিয়েই আমাকে দেখে নানু ভুরু নাচাতেন।
“তোমাকে আজ অন্যরকম লাগছে, নানু। একদম ঝলমলে!” আমি ফিসফিস করে বলতাম।
নানু হেসে আমার গালে এক ফোঁটা পাউডার ছুঁইয়ে দিতেন। “শোন, রং চাপিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলার নাম সাজ নয়। নিজের মুখটাকেই একটু উজ্জ্বল করে তোলার নাম সাজ। পাউডার হলো তার সর্বশেষ আঁচড়।”
কথাটার ওজন তখন বুঝিনি। বুঝতে লেগেছে বহু বছর। যেদিন নিজের টাকায় প্রথম একটা মানানসই ফেস পাউডার কিনে আনলাম, সেদিন টের পেলাম, ছোট্ট একটা কৌটা কত অনায়াসে পুরো মুখের চেহারা পাল্টে দিতে পারে।
রিমি আমার কলেজজীবনের বন্ধু। ওর ভাইয়ের বিয়ের গায়ে হলুদে ঘটনাটা ঘটেছিল। সেটা ছিল আষাঢ়ের এক ভ্যাপসা দুপুর, বাতাসে আর্দ্রতা প্রায় নব্বই শতাংশ, ঘরে ঘরে ফ্যানের হাঁসফাঁস। রিমি সকালে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যত্ন করে ফাউন্ডেশন বসিয়েছিল, চোখের নিচে কনসিলার টেনেছিল। আয়নায় ওকে একদম পরিপাটি লাগছিল। কিন্তু হলুদের মঞ্চের কাছে পৌঁছে দু-তিন ঘণ্টা কাটতেই কপাল চকচক করে উঠল, নাকের দু’পাশে ফাউন্ডেশন জমে ফাটা ফাটা দাগ, আর গালের মেকআপ গলে গলে নামছিল।
ও আমার কানের কাছে মুখ এনে বলল, “ছবি তুললে কেমন আসবে বল তো? মনে হচ্ছে মুখে তেল মেখে এসেছি!”
আমরা দুজনেই খিলখিল করে হেসে উঠলাম। তারপর আমি হ্যান্ডব্যাগের চেইন খুলে ছোট্ট একটা ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার বের করলাম। নরম একটা ব্রাশে একদম সামান্য গুঁড়ো তুলে রিমির কপাল, নাকের ডগা আর চিবুকে হালকা হাতে বুলিয়ে দিলাম। মিনিট না পেরোতেই চকচকে ভাব উধাও। আয়নায় তাকিয়ে রিমি খানিকক্ষণ কথা বলতে ভুলে গেল, তারপর আস্তে করে বলল, “এ কি ম্যাজিক?”
ম্যাজিক নয়, এটা ফেস পাউডারেরই কাজ। সেদিনই মনে মনে ঠিক করলাম, মেকআপ নিয়ে যত অভিজ্ঞতা জমেছে সব একদিন লিখে রাখব। আর শুরুটা হবে সেই ছোট্ট কৌটাটাকে দিয়েই, যাকে আমরা প্রায়ই মেকআপ ব্যাগের এক কোণে ফেলে রাখি।
ফেস পাউডার হলো খুব মিহি গুঁড়ো দিয়ে তৈরি একটি প্রসাধনী, যা ফাউন্ডেশন বা কনসিলারের পর ব্যবহার করা হয়। এর কাজ প্রধানত তিনটি।
প্রথমত, মেকাপ সেট করা। ফাউন্ডেশন ও কনসিলার ক্রিম বা লিকুইড আকারে থাকে। পাউডার সেগুলোকে ত্বকের ওপর স্থির করে দেয়, ফলে সহজে গলে যায় না বা সরে যায় না।
দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত তেল শুষে নেওয়া। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় ত্বক ঘামে আর তেলে সহজেই চকচকে হয়ে ওঠে। পাউডার সেই বাড়তি আর্দ্রতা শুষে নিয়ে ত্বকে একটা মসৃণ, নরম ভাব আনে।
তৃতীয়ত, ত্বকের টেক্সচার মসৃণ দেখানো। ছোট ছোট লোমকূপ বা সূক্ষ্ম রেখা পাউডারের পর কিছুটা কম চোখে পড়ে, যদিও এটা ম্যাজিক নয়, ত্বকের যত্নের বিকল্পও নয়।
একটা কথা বলে রাখি, পাউডার মানেই যে মুখ ফ্যাকাসে বা কেক-কেক দেখাবে, তা মোটেই নয়। ভুল পাউডার, ভুল পরিমাণ আর ভুল পদ্ধতি মিলে সেই দশা হয়। ঠিকঠাক ব্যবহার করলে পাউডার হয়ে ওঠে সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।
রিমি যেদিন প্রথম মেকাপের দোকানে গেল পাউডার কিনতে, সেদিন ফিরে এসে মাথা চেপে ধরে বলল, “এত রকম কেন রে? লুজ, প্রেসড, ট্রান্সলুসেন্ট, ব্যানানা… আমি তো কিছুই বুঝি না!” চলো, আমরা এক এক করে চিনে নিই।
নানুর সেই নীল কৌটার মতো, এটি আলগা গুঁড়োর আকারে থাকে। খুব মিহি হয় বলে ত্বকে মিশে যায় সহজে, আর মেকাপ সেট করতে চমৎকার কাজ করে। বিয়ে, পার্টি বা ফটোশুটের মতো দীর্ঘক্ষণের সাজের জন্য এটি সেরা। তবে সঙ্গে নিয়ে ঘোরা একটু ঝামেলার, কারণ ঢাকনা খুললেই গুঁড়ো ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এটি চাপ দিয়ে জমাট বাঁধানো, সাধারণত কমপ্যাক্টের মতো ছোট কৌটায় আসে। ব্যাগে রাখা সহজ, ছোট আয়না আর পাফও সঙ্গে থাকে। অফিস, ভার্সিটি বা বাইরে ঘুরতে গিয়ে চটজলদি টাচ-আপের জন্য এটি দারুণ। তবে লুজ পাউডারের তুলনায় একটু ভারী মনে হতে পারে, তাই বেশি লাগিয়ে ফেললে সাবধান।
বাজেটের মধ্যে একটা প্রেসড পাউডার খুঁজলে FIT me! Face Cake Compact Powder দেখতে পারেন। এটি হালকা থেকে গাঢ় পর্যন্ত পাঁচটি শেডে আসে, তাই নিজের ত্বকের কাছাকাছি রং খুঁজে পাওয়া সহজ। ম্যাট ফিনিশ পছন্দ হলে Lakmé 9to5 Flawless Matte Complexion Compact আরেকটি বিকল্প হতে পারে।
এর কোনো নির্দিষ্ট রং থাকে না, ত্বকে লাগালে প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। তাই প্রায় সব ত্বকের রঙের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। শেড বাছাই নিয়ে যাদের দ্বিধা, তাদের জন্য এটি নিরাপদ শুরু। রিমিকে যেটা লাগিয়েছিলাম, সেটাও ছিল এই ধরনের।
নামটা শুনে হাসি পেতে পারে, কিন্তু এটি আসলে হালকা হলদেটে রঙের পাউডার। চোখের নিচ, নাকের পাশ বা কপালের মতো যেসব জায়গায় কনসিলার লাগানো হয়, সেখানে এটি বাড়তি উজ্জ্বলতা আনে। সাধারণত মাঝারি থেকে শ্যামলা ত্বকে এই হলদে আভা বেশ সুন্দর খোলে। ফর্সা ত্বকে খুব বেশি লাগালে অস্বাভাবিক হলদে দেখাতে পারে।
ম্যাটিফাইং পাউডার তেলতেলে ত্বকের জন্য, মুখে একটা নরম ম্যাট ভাব আনে। অন্যদিকে ইলুমিনেটিং বা গ্লো পাউডারে হালকা শিমারের ছোঁয়া থাকে, শুষ্ক বা স্বাভাবিক ত্বকে একটা আলতো দ্যুতি এনে দেয়। দুটোর কাজ আলাদা, তাই নিজের ত্বক আর সাজের ধরন বুঝে বেছে নিতে হবে।
একই পাউডারে ম্যাট আর স্বাভাবিক গ্লো, দুটোই চাইলে BOB Rosy Grace Poreless Matte Natural Glow Face Powder একবার দেখে নিতে পারেন।
এক সপ্তাহ পর রিমি আবার ফোন করল। গলায় অভিযোগ, “তোর কথায় একটা পাউডার কিনলাম, কিন্তু মুখটা গলার চেয়ে সাদা লাগছে!”
আমি হেসে বললাম, “শেড মেলাসনি, তাই।”
পাউডারের শেড বাছাই নিয়ে এই ভুলটা প্রায় সবাই করে। কয়েকটা সহজ নিয়ম মনে রাখলে আর ঝামেলা হবে না:
চোয়ালের রেখায় পরীক্ষা করুন: হাতের পিঠে নয়, মুখের পাশে, চোয়াল আর গলার সংযোগস্থলে একটু লাগিয়ে দেখুন। যেটা মিশে যায়, সেটাই আপনার শেড।
দিনের আলোয় দেখুন: দোকানের কৃত্রিম আলোয় রং অনেক সময় অন্যরকম দেখায়। সম্ভব হলে জানালার ধারে গিয়ে আয়নায় দেখে নিন।
আন্ডারটোন বুঝুন: আপনার ত্বকে যদি হলদে আভা থাকে, তবে হালকা হলদেটে পাউডার মানাবে। গোলাপি আভা হলে নিরপেক্ষ বা হালকা গোলাপি ঘেঁষা শেড ভালো লাগবে।
দ্বিধায় থাকলে ট্রান্সলুসেন্ট: নিশ্চিত না হলে স্বচ্ছ পাউডার দিয়ে শুরু করাই নিরাপদ।
ফাউন্ডেশনের চেয়ে অল্প হালকা নয়, প্রায় একই শেড: পাউডার যেন ফাউন্ডেশনের রংকে বদলে না দেয়।
নানুর ত্বক ছিল শুষ্ক, কিন্তু রিমির ত্বক তৈলাক্ত। দুজনের জন্য একই পাউডার তাই কখনো কাজ করত না। এবার দেখে নিই, কার জন্য কী ভালো।
তৈলাক্ত ত্বক: ম্যাটিফাইং বা অয়েল-কন্ট্রোল পাউডার বেছে নিন। টি-জোন, অর্থাৎ কপাল, নাক ও থুতনিতে একটু বেশি দিন, গালে কম। লুজ পাউডার এখানে ভালো ফল দেয়।
শুষ্ক ত্বক: খুব বেশি ম্যাট ফিনিশের পাউডার এড়িয়ে চলুন, না হলে ত্বক আরও খসখসে দেখাবে। হালকা, মসৃণ বা সামান্য দ্যুতিময় পাউডার বেছে নিন, আর খুব অল্প ব্যবহার করুন।
মিশ্র ত্বক: যেখানে তেল বেশি, শুধু সেখানেই ম্যাটিফাইং পাউডার দিন। বাকি অংশে হালকা ট্রান্সলুসেন্ট পাউডারই যথেষ্ট।
সংবেদনশীল ত্বক: সুগন্ধিমুক্ত পাউডার বেছে নিন। নতুন কিছু ব্যবহারের আগে কানের পেছনে বা হাতের ভেতরের দিকে একটু লাগিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করে দেখুন।
এবার সেই ম্যাজিকের রহস্য। রিমি আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, “তুই লাগালে এত সুন্দর দেখায়, আমি লাগালে কেন কেকের মতো লাগে?” উত্তরটা পদ্ধতিতে।
ধাপ ১: আগে ত্বক প্রস্তুত করুন- ময়েশ্চারাইজার আর প্রাইমার পুরোপুরি শুষে যেতে দিন। ভেজা বা চটচটে ত্বকে পাউডার লাগালে দলা পাকিয়ে যায়।
ধাপ ২: ফাউন্ডেশন আর কনসিলার আগে সেরে নিন- পাউডার সবসময় ক্রিম বা লিকুইড প্রোডাক্টের পরে আসে, আগে নয়।
ধাপ ৩: ঠিক জিনিস দিয়ে লাগান- বড়, নরম ও তুলতুলে ব্রাশ ছড়িয়ে লাগানোর জন্য ভালো। চোখের নিচের মতো সূক্ষ্ম জায়গার জন্য ছোট ব্রাশ বা পাফ নিন।
ধাপ ৪: কম করে নিন, ঝেড়ে ফেলুন- ব্রাশে পাউডার নিয়ে হাতের ওপর হালকা ঠুকে বাড়তি অংশ ঝেড়ে ফেলুন। এই ছোট্ট কাজটাই কেক-কেক ভাব এড়ানোর সবচেয়ে বড় কৌশল।
ধাপ ৫: চেপে বসান, ঘষবেন না- পাফ বা ব্রাশ দিয়ে ত্বকে হালকা চাপ দিন। ঘষলে ফাউন্ডেশন সরে গিয়ে দাগ পড়তে পারে। এটাকে বলে “বেকিং” পদ্ধতির সহজ রূপ: নাকের পাশ, কপাল ও চোখের নিচে একটু বেশি পাউডার কয়েক মিনিট বসিয়ে রেখে তারপর ঝেড়ে নিন।
ধাপ ৬: শেষে সেটিং স্প্রে- পুরো সাজ শেষ হলে মুখ থেকে একটু দূরে স্প্রে করুন। পাউডার আর ফাউন্ডেশন একসঙ্গে ত্বকে মিশে যাবে, আর সাজ ঝকঝকে থাকবে অনেকক্ষণ।
রিমি পরদিন সকালে আয়নার সামনে বসে নিজে এভাবে সাজল। ছবি পাঠিয়ে লিখল, “নানুর মতো লাগছে না?” আমি কেবল হাসলাম।
যে ভুলগুলো আমরা সবাই করি
গল্প যত সুন্দরই হোক, ভুল থেকেই আমরা শিখি। ফেস পাউডার নিয়ে সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো হলো:
একবারেই অনেক বেশি নেওয়া: কম দিয়ে শুরু করুন, দরকার হলে পরে আরও যোগ করুন।
ফাউন্ডেশন ছাড়াই ঘন পাউডার: তখন ত্বকের মৃত কোষ আর শুষ্ক জায়গা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
ভুল শেড কেনা: পরীক্ষা না করে শুধু নাম বা প্যাকেট দেখে কিনবেন না।
ময়লা ব্রাশ বা পাফ: জমে থাকা তেল আর ব্যাকটেরিয়া ব্রণের কারণ হতে পারে।
দিনভর বারবার পাউডার চাপা: তেল শুষে নেওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে ব্লটিং পেপার ব্যবহার করুন, তারপর সামান্য পাউডার দিন।
মেয়াদ না দেখা: পুরনো প্রসাধনী ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
বাংলাদেশের গরম আর আর্দ্রতায় সাজ টিকিয়ে রাখা সত্যিই একটা চ্যালেঞ্জ। তাই কয়েকটা কৌশল মনে রাখতে পারেন:
গ্রীষ্ম ও বর্ষায় হালকা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ম্যাটিফাইং বা ট্রান্সলুসেন্ট লুজ পাউডার সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
শীতকালে ত্বক এমনিতেই শুষ্ক থাকে, তাই বেশি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন আর পাউডার কম দিন।
বাইরে বেরোলে ব্যাগে একটা ছোট প্রেসড পাউডার আর ব্লটিং পেপার রাখুন। রোদে ঘেমে গেলে এই দুটোই আপনার রক্ষাকবচ।
ওয়াটারপ্রুফ মেকাপের ওপর পাউডার দিলে সাজ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে।
গরমে সাজ ধরে রাখতে চাইলে Emelie Paris Matte Base Holding Makeup Powder মতো ম্যাট ফিনিশের পাউডার কাজে আসতে পারে, যেটি এসপিএফ ৩০ নিয়ে আসে। তবে রোদে বেরোলে আলাদা সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না।
নানু তাঁর পাফ প্রতি সপ্তাহে সাবান-পানিতে ধুয়ে রোদে শুকাতেন। তখন ভাবতাম, এত আদিখ্যেতা কেন! এখন বুঝি, ওটাই ছিল তাঁর সাজের গোপন নিয়ম।
হ্যাঁ, ভালো মানের পাউডার পরিমিত ব্যবহার করলে প্রতিদিন লাগানো যায়। তবে রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করুন।
যায়। অনেকে প্রতিদিনের হালকা লুকের জন্য শুধু পাউডারই ব্যবহার করেন। সেক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন আগে লাগিয়ে নিন।
হালকা রঙের ছোঁয়াসহ পাউডার চাইলে Emelie Paris ColorCandy Skin Perfector SPF 15 PA+++ ভেবে দেখতে পারেন। তবে পাউডারে এসপিএফ থাকলেও সেটা সানস্ক্রিনের বিকল্প নয়।
ঘরে বসে সাজার জন্য লুজ, আর বাইরে নিয়ে চলার জন্য প্রেসড। চাইলে দুটোই রাখতে পারেন।
সুগন্ধিমুক্ত ও ছিদ্র বন্ধ করে না এমন পাউডার বেছে নিন, আর ব্রাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। সমস্যা বেশি হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
বেশি পরিমাণে লাগালে বা ময়েশ্চারাইজার ছাড়া লাগালে এমনটা হয়। ত্বকের ধরনের সঙ্গে মানানসই পাউডার বেছে নিলে আর সমস্যা থাকবে না।
গত বছর নানুর সেই পুরনো নীল কৌটাটা আমার হাতে এল। ঢাকনার পদ্মের রং ফিকে হয়ে গেছে, ভেতরে পাউডার আর নেই, তবু একটা আলতো গন্ধ এখনো লেগে আছে। কৌটাটা আমি আমার ড্রেসিং টেবিলের একদম সামনের সারিতে রেখেছি।
বিয়ের দিন রিমি আমার হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল, “ঘেমে গেলেও আজ আমার মুখ নড়বে না তো রে?” আমি তার নাকের ডগায় এক ছোঁয়া পাউডার বুলিয়ে হাসলাম। “নানু বলতেন, রং চাপিয়ে নিজেকে হারানো সাজ নয়। নিজের মুখটাকেই একটু ঝকঝকে করে তোলাই আসল সাজ।”
ফেস পাউডারও ঠিক তা-ই। এটা কোনো মুখোশ নয়। এটা এক ফোঁটা আত্মবিশ্বাস, যা আপনার সাজের শেষ ছোঁয়া হয়ে ওঠে। নিজের ত্বককে চিনুন, সঠিক শেড আর ধরন বেছে নিন, আলতো হাতে লাগান। তারপর আয়নায় তাকিয়ে নিজেকে বলুন, “আজ আমি তৈরি।”
আপনার প্রিয় পাউডার কোনটা, আর তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোন গল্প? নিচে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

টেকনোলজি সম্পর্কে জানতে এবং জানাতে পছন্দ করি। ধন্যবাদ।
