Cart
No products in the cart.


ব্লাড ক্যান্সার, বা লিউকেমিয়া, আমাদের শরীরের রক্ত ও অস্থিমজ্জার কোষকে আক্রান্ত করে এমন একটি জটিল ও মারাত্মক রোগ। যত ধরণের ক্যান্সার আছে, তার মাঝে এটি সবচেয়ে কমোন।
সাধারণত এই ক্যান্সার রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে এবং শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে তোলে।
রক্ত ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যেমন—লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা এবং মাইলোমা, প্রতিটির বৈশিষ্ট্য, উপসর্গ ও চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা।
এই রোগটি যেকোনো বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে, তবে নির্দিষ্ট কিছু ধরন শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং কিছু ধরন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সাধারণ।
প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার মতোই মনে হতে পারে, যেমন—দুর্বলতা, জ্বর, হাড়ের ব্যথা বা সহজে রক্তপাত। তাই সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা ও চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।
আজকে আমরা রক্ত ক্যান্সারের ধরন, উপসর্গ, কারণ, নির্ণয় পদ্ধতি, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। যাতে আপনি এই রোগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
ব্লাড ক্যান্সার একটি গুরুতর রোগ, যা মূলত রক্তে এবং অস্থিমজ্জায় (bone marrow) তৈরি হওয়া রক্তকণিকাগুলিকে প্রভাবিত করে।
এই রোগে শরীরের রক্ত তৈরির প্রক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়, যার ফলে স্বাভাবিক রক্তকণিকার পরিবর্তে অকার্যকর বা ক্যান্সারগ্রস্ত কোষ তৈরি হতে থাকে। এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
ব্লাড ক্যান্সার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, যেমন—লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা ও মাইলোমা। প্রতিটি ধরনের বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব ভিন্ন হলেও, সকল ক্ষেত্রেই এটি একটি প্রাণঘাতী ও চিকিৎসার জন্য সময়নিষ্ঠ রোগ হিসেবে বিবেচিত।
ব্লাড ক্যান্সার, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে “হেমাটোলজিক ক্যান্সার” বলা হয়, এটি এমন একটি প্রাণঘাতী রোগ যা রক্তে, অস্থিমজ্জা (Bone Marrow), লসিকা তন্ত্র (Lymphatic System) বা প্লাজমা কোষে উৎপন্ন হয়।
এই ক্যান্সার সাধারণত রক্তকণিকার উৎপাদন ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে।
ব্লাড ক্যান্সারের প্রধানত তিনটি ধরন রয়েছে: লিউকেমিয়া (Leukemia), লিম্ফোমা (Lymphoma) এবং মেলোমা (Myeloma)। এছাড়াও কিছু বিরল ধরনের ব্লাড ক্যান্সার রয়েছে।
নিচে প্রতিটি প্রকারভেদের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
লিউকেমিয়া একটি ক্যান্সার যা অস্থিমজ্জায় শুরু হয় এবং রক্তের শ্বেতকণিকাগুলিকে অস্বাভাবিকভাবে উৎপন্ন করে। এই শ্বেতকণিকাগুলি সাধারণ শারীরবৃত্তিক কার্যক্রম বিঘ্নিত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে।
দুর্বলতা, জ্বর, ওজন হ্রাস, ঘন ঘন ইনফেকশন, হাড়ে ব্যথা, সহজে রক্ত পড়া।
লিম্ফোমা হল লসিকাতন্ত্রের (lymphatic system) ক্যান্সার। এই সিস্টেম আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকণিকাগুলি অস্বাভাবিকভাবে বিভাজিত হয়ে ক্যান্সার তৈরি করে।
গলার, বগলের বা কুঁচকির গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, জ্বর, রাতের বেলা ঘাম, ওজন হ্রাস, ক্লান্তি।
মেলোমা, বিশেষ করে মাল্টিপল মেলোমা (Multiple Myeloma), হল প্লাজমা কোষের ক্যান্সার। এই কোষগুলি শরীরের অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ক্যান্সার আক্রান্ত প্লাজমা কোষগুলি অস্বাভাবিক প্রোটিন তৈরি করে যা কিডনি, হাড় ও রক্তে সমস্যা সৃষ্টি করে।
হাড়ে ব্যথা (বিশেষ করে পিঠ ও পাঁজরে), অ্যানিমিয়া, রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, কিডনি সমস্যা, সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
ব্লাড ক্যান্সার হঠাৎ করে হয় না। এটি ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ও প্রভাবের ফলস্বরূপ গড়ে ওঠে। এখন আমরা ব্লাড ক্যান্সারের প্রধান কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করব।
অনেক সময় ব্লাড ক্যান্সার পারিবারিকভাবে বংশ পরম্পরায় আসতে পারে। যদি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পূর্বে কেউ রক্ত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সেই ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ:
উচ্চমাত্রার বিকিরণ বা তেজস্ক্রিয় রশ্মি রক্ত কোষের DNA কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা পরবর্তীতে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
যেমন:
কিছু নির্দিষ্ট বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে প্রবেশ করলে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। যেমন:
এই পদার্থগুলো অস্থিমজ্জার কোষগুলোর গঠন ও বিভাজন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়।
কিছু ভাইরাল সংক্রমণ ব্লাড ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায়।
যেমন:
যেসব ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা জন্মগতভাবে ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি রয়েছে, তাদের মধ্যে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।
এছাড়া অঙ্গ প্রতিস্থাপন (organ transplant) করা ব্যক্তিদের মধ্যে যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখা হয়, তাদের মধ্যেও ঝুঁকি বাড়ে।
যেসব রোগী আগে অন্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিয়েছেন, তাদের ব্লাড ক্যান্সারের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কারণ এই থেরাপিগুলো রক্ত উৎপাদক কোষে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে।
ধূমপানে শুধু ফুসফুস নয়, বরং ব্লাড ক্যান্সারের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। তামাকের উপাদানগুলো রক্তে শোষিত হয়ে অস্থিমজ্জা ও শ্বেত রক্তকণিকাগুলোর জিনে পরিবর্তন আনতে পারে, যা লিউকেমিয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
যেমন:
এই রোগগুলোতে শরীরের ইমিউন সিস্টেম নিজের কোষগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরণের রোগ থাকলে এবং স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, কৃত্রিম রঙ বা রাসায়নিক উপাদানে ভর্তি খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে দেহে বিষক্রিয়ার পরিমাণ বাড়ে এবং কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়া:
এসবও ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে দেয়, যা ক্যান্সারের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
ব্লাড ক্যান্সার অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে কারণ এর উপসর্গগুলো সাধারণ অন্যান্য রোগের মতো মনে হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে উপসর্গগুলো তীব্র হয় এবং তা জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। তাই এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ব্লাড ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হল দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা। আপনি যদি বিশ্রামের পরেও সবসময় অবসাদ অনুভব করেন, কাজে মনোযোগ দিতে কষ্ট হয় বা শরীর ভারী লাগে — তাহলে এটি রক্তকণিকার ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।
শরীরে বারবার জ্বর আসা, ঠান্ডা লাগা বা সংক্রমণ হওয়া ব্লাড ক্যান্সারের একটি লক্ষণ। কারণ এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সহজেই আক্রমণ করতে পারে।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া, খাওয়ায় রুচি না থাকা, হজমের সমস্যা ইত্যাদি উপসর্গ ব্লাড ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে যখন আপনি ওজন কমানোর কোনো চেষ্টা করছেন না তবুও ওজন কমে যাচ্ছে।
অস্থিমজ্জা ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে অনেক সময় হাড়ে (বিশেষ করে পিঠ, বুক বা পাঁজরে) ব্যথা শুরু হয়। এই ব্যথা অনেক সময় তীব্র হতে পারে এবং রাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
রক্ত ক্যান্সারে প্লেটলেট কমে যাওয়ার ফলে অল্প ধাক্কাতেই ত্বকের নিচে রক্ত জমে যায় বা কালশিটে দাগ পড়ে। এমনকি নাক, মুখ বা মূত্রের সাথে রক্ত পড়তেও দেখা যায়।
এই উপসর্গগুলো প্লেটলেটের অভাবের কারণে ঘটে, যা ব্লাড ক্যান্সারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
লিম্ফোমা জাতীয় রক্ত ক্যান্সারে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গ্রন্থি (lymph nodes) ফুলে যায়।
যেমনঃ
এই গ্রন্থিগুলো সাধারণত ব্যথাহীন থাকে এবং ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
রাতের ঘুমের সময় ঘেমে শরীর ভিজে যাওয়া — এমনকি শীতকালের মধ্যেও — ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহের কারণে হয়।
অ্যানিমিয়ার কারণে অনেক সময় ত্বকে ফ্যাকাশে ভাব চলে আসে। চোখের নিচে কালি পড়ে, ঠোঁট সাদা হয়ে যায় এবং দেহে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়।
হিমোগ্লোবিন কমে গেলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। ফলে রোগী হাঁটাহাঁটি বা হালকা কাজ করলেই শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড়ানি অনুভব করতে পারে।
অনেক রক্ত ক্যান্সার রোগী বিষণ্নতা, মনোযোগে ঘাটতি ও স্মৃতি সমস্যা অনুভব করেন। এটি রক্তে অক্সিজেন কমে যাওয়ার প্রভাবে হতে পারে।
Platelets কমে গেলে ত্বকে Petechiae নামে ছোট ছোট লাল দাগ দেখা যায়, যা চাপ দিলেও মিলিয়ে যায় না। এটি বিশেষ করে পায়ে, হাতে বা মুখে হতে পারে।
জেনে নিন, যদি আপনার ব্লাড ক্যান্সার হয়, তাহলে আপনাকে ধাপে ধাপে যে যে করণীয় গ্রহণ করতে হবে।
ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ার পর প্রথম কাজ হলো নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা এবং সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া।
আপনি ক্যান্সারের কোন ধরণে (Leukemia, Lymphoma, Multiple Myeloma) আক্রান্ত, তার ধরন, পর্যায় (Stage), চিকিৎসার ধরন ইত্যাদি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে।
যে তথ্যগুলো জানতে হবে:
ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। নিজে নিজে চিকিৎসা করা বিপজ্জনক হতে পারে। একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ আপনার রিপোর্ট দেখে নির্ভুল চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করবেন।
ব্লাড ক্যান্সার একটি জটিল রোগ, তাই একজনের মতামতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে অন্য আরেকজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনাকে চিকিৎসা পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস গঠনে সহায়তা করবে।
ব্লাড ক্যান্সার মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপের। তাই আপনি চাইলে ক্যান্সার কাউন্সেলর বা সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলতে পারেন।
পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান, তাদের সাহায্য নিন।
মনে রাখবেন: আপনি একা নন।
ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হতে পারে। তবে বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই রয়েছে:
আপনি চাইলে অনলাইন ক্যাম্পেইন/ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমেও সহায়তা পেতে পারেন।
ব্লাড ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হয় সুনির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের।
ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ার পর প্রাথমিকভাবে রোগী এবং তার পরিবার অনেকটাই হতবিহ্বল হয়ে যান –
এই সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়ুন-
হেমাটোলজিস্ট হচ্ছেন সেই ডাক্তার, যিনি রক্ত সম্পর্কিত সকল রোগের বিশেষজ্ঞ।
যেমন:
কেন হেমাটোলজিস্ট জরুরি?
পরামর্শ: প্রথমেই একজন অভিজ্ঞ হেমাটোলজিস্টের শরণাপন্ন হোন।
অনকোলজিস্ট মূলত তিন প্রকার হয়ে থাকেন:
প্রয়োজনে আরো দেখাতে পারেন-
ব্লাড ক্যান্সারের সফল চিকিৎসা নির্ভর করে সঠিক সময়ে সঠিক হাসপাতালে পৌঁছানোর ওপর। অনেক সময় রোগ ধরা পড়ার পর রোগী ও তার পরিবার বিভ্রান্ত হয়ে যান — কোন হাসপাতালে যাব? কোথায় ভালো চিকিৎসা হবে? কোন জায়গায় খরচ তুলনামূলক কম?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সময় নষ্ট করলেই রোগ মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
এখন আমরা আলোচনা করবো – ব্লাড ক্যান্সার হলে কীভাবে একটি ভালো হাসপাতাল বেছে নেবেন, কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোন কোন হাসপাতাল এই রোগের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা জেনারেল হাসপাতালের তুলনায় বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতালেই ভালো হয়, কারণ সেখানে থাকে:
সরকারি হাসপাতাল: ব্যয় কম, কিন্তু সিরিয়াল পেতে দেরি হয় এবং চাপ বেশি থাকে।
বেসরকারি হাসপাতাল: চিকিৎসা দ্রুত হয়, আধুনিক প্রযুক্তি থাকে, তবে ব্যয় বেশি।
পরামর্শ:
যদি আপনার বাজেট সীমিত হয়, তাহলে সরকারি হাসপাতাল দিয়ে শুরু করে পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসরকারি বা বিদেশি চিকিৎসায় যাওয়া যেতে পারে।
অবস্থান: মোহাম্মদপুর, ঢাকা
উপযোগী: কম বাজেটের রোগীর জন্য
অবস্থান: সাভার
উপযোগী: তুলনামূলক কম খরচে ভালো বেসরকারি চিকিৎসা
অবস্থান: মিরপুর
সুবিধা: উন্নত চিকিৎসা, তুলনামূলকভাবে ব্যয় নিয়ন্ত্রিত
হাসপাতাল বাছাইয়ের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
হাসপাতাল ভর্তির আগে করণীয়
ব্লাড ক্যান্সারের নির্ভুল চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হয় যথাযথ ও সঠিক সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষা (Tests/Diagnosis)। প্রথমে রোগীর উপসর্গ দেখে সন্দেহ করা হলেও, ক্যান্সার আছে কিনা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষা জরুরি।
যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা রয়েছে, সেগুলোর মাঝে এটি সবচেয়ে প্রাথমিক এবং জরুরি পরীক্ষা।
কী দেখা হয়?
রক্ত ক্যান্সারে কী দেখা যায়?
কেন জরুরি: ক্যান্সারের প্রাথমিক আলামত বোঝা যায়।
এই পরীক্ষাতেই নিশ্চিতভাবে জানা যায় রোগীর ব্লাড ক্যান্সার আছে কিনা।
কীভাবে হয়?
হিপ বোন বা বুকের হাড়ে সূঁচ ঢুকিয়ে হাড়ের মজ্জা বের করে বিশ্লেষণ করা হয়।
কেন জরুরি
এটি মাইক্রোস্কোপে রক্তের একটি স্লাইড দেখে বিশ্লেষণ করার প্রক্রিয়া।
দেখা হয়:
কেন জরুরি:
Leukemia বা Myeloma রোগ শনাক্তে খুব কার্যকর একটি প্রাথমিক পরীক্ষা।
এই পরীক্ষায় জিনগত সমস্যা বা ক্রোমোজমের গঠনগত পরিবর্তন দেখা হয়।
কেন জরুরি:
এই আধুনিক পরীক্ষাটি রক্ত বা বোন ম্যারোর কোষগুলোকে লেজার আলো দিয়ে বিশ্লেষণ করে।
কেন জরুরি:
এই পরীক্ষায় কোষের গায়ে থাকা বিশেষ প্রোটিন চিহ্ন বিশ্লেষণ করা হয়। এটা মূলত ফ্লো সাইটোমেট্রির মাধ্যমে হয়।
উদ্দেশ্য:
এটি রক্ত বা হাড়ের মজ্জা থেকে DNA বা RNA বিশ্লেষণ করে।
ব্যবহার হয়:
বিশেষ কিছু মিউটেশন শনাক্তে (যেমন BCR-ABL, JAK2 ইত্যাদি)
লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ নির্বাচন করতে
কেন জরুরি:
আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট।
ব্লাড ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে কি না এবং লিম্ফনোডে সমস্যা আছে কিনা জানতে এই টেস্টগুলো করা হয়।
সাধারণ টেস্ট:
X-ray
Ultrasound
CT Scan
MRI Scan
PET-CT Scan (সর্বোচ্চ আধুনিক)
কেন জরুরি:
ক্যান্সার শরীরের কোথায় ছড়িয়েছে তা বোঝা যায়।
ব্লাড ক্যান্সার ও এর চিকিৎসা অনেক সময় লিভার ও কিডনিকে প্রভাবিত করে।
কেন জরুরি:
রক্তে LDH মাত্রা অনেক সময় ক্যান্সারের উপস্থিতি নির্দেশ করে।
কেন জরুরি:
ব্লাড ক্যান্সার একটি জটিল রোগ হলেও সঠিক সময়ে সঠিক পরীক্ষাগুলো করালে এটি শনাক্ত করা যায় এবং চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়।
আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্লাড ক্যান্সার এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্যও হয়েছে। এখন আমরা জানব ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা কীভাবে হয়, কোন কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় এবং চিকিৎসা চলাকালে রোগীর করণীয় কী।
কেমোথেরাপি হলো ব্লাড ক্যান্সারের সবচেয়ে প্রচলিত এবং প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি।
কিভাবে কাজ করে?
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
এটি ক্যান্সার কোষের নির্দিষ্ট অণুর (molecule) ওপর প্রভাব ফেলে, যা স্বাভাবিক কোষকে তুলনামূলক কম ক্ষতি করে।
উদাহরণ:
এই থেরাপিতে রোগীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system) কে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সক্রিয় করা হয়।
ব্যবহৃত হয়:
এটি সাধারণত তখন ব্যবহৃত হয়, যখন ক্যান্সার বারবার ফিরে আসে বা সাধারণ চিকিৎসায় সাড়া দেয় না।
এই চিকিৎসা সবচেয়ে জটিল ও কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি।
কিভাবে কাজ করে?
ধরণ:
উচ্চ খরচসাপেক্ষ হলেও অনেক রোগী এতে দীর্ঘস্থায়ী আরোগ্য লাভ করেন।
শরীরের নির্দিষ্ট অংশে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে উচ্চ শক্তির রেডিয়েশন ব্যবহার করা হয়।
এটি সাধারণত:
লিউকেমিয়া ও লিম্ফোমা চিকিৎসায় অনেক সময় স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয় ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে।
চিকিৎসা নির্ভর করে নিচের বিষয়গুলোর ওপর:
ব্লাড ক্যান্সার (Blood Cancer) যেমন কঠিন এক রোগ, তেমনই এর চিকিৎসার পরের জীবনটাও সংবেদনশীল। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরেও শরীর ও মনের ভালো যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সঠিক জীবনযাপন না করলে ক্যান্সার ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে, অথবা শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর করণীয়
নিয়মিত ফলো-আপ করুন
পুষ্টিকর ও পরিষ্কার খাবার খাবেন
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
হালকা ব্যায়াম ও মেডিটেশন করুন
সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন
মানসিক সুস্থতা বজায় রাখুন
প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন নিন
চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে যা করবেন না
ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ করুন
বাইরের বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন না
অতিরিক্ত ব্যায়াম বা পরিশ্রম করবেন না
নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাবেন না
হতাশ হবেন না বা নিজেকে একা করে ফেলবেন না
ফলো-আপ বাদ দেবেন না
পরামর্শ
উপসংহার
ব্লাড ক্যান্সার হওয়া মানেই জীবন শেষ হয়ে গেছে – এমনটা নয়।
সঠিক সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু, মানসিক শক্তি বজায় রাখা এবং পরিবার ও সমাজের সহায়তায় এই লড়াই জয় করা সম্ভব।

I am physician born serve for humanity, presently works at Dhaka Medical College and Hospital, previously worked at Kasba Upazila Health Complex and Austagram Upazila Health Complex.
